images

জাতীয় / দেশজুড়ে

বগুড়া সিটি করপোরেশনের যাত্রা শুরু, ফলক উন্মোচন করলেন প্রধানমন্ত্রী

সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬ , ০১:০৮ পিএম

দীর্ঘদিনের দাবি ও প্রতীক্ষার পর অবশেষে সিটি করপোরেশন হলো বগুড়া। সোমবার (২০ এপ্রিল) প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আনুষ্ঠানিকভাবে বগুড়া সিটি করপোরেশন উদ্বোধন ঘোষণা করেন। এর মধ্য দিয়ে দেশের সিটি কর্পোরেশনের তালিকায় নতুন করে যুক্ত হলো উত্তরাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ এই শহর।

সরকারি সফরসূচি অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী সকালে বগুড়ায় পৌঁছে জেলা ও দায়রা জজ আদালত প্রাঙ্গণে কয়েকটি কর্মসূচিতে অংশ নেন। সেখানে ই-বেইল বন্ড কার্যক্রম উদ্বোধনের পর বেলা সাড়ে ১১টার দিকে বগুড়াকে সিটি করপোরেশন হিসেবে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেন। এসময় স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তা, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও আমন্ত্রিত অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন।

ঘোষণার খবর ছড়িয়ে পড়তেই শহরজুড়ে আনন্দের আবহ তৈরি হয়। বিভিন্ন এলাকায় মিষ্টি বিতরণ, শুভেচ্ছা বিনিময় ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করতে দেখা যায় অনেককে। দীর্ঘদিন ধরে বগুড়াকে সিটি করপোরেশনে উন্নীত করার দাবি জানিয়ে আসা নাগরিক সমাজ, ব্যবসায়ী সংগঠন ও বিভিন্ন পেশাজীবী মহল এ ঘোষণাকে ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখছেন।

বগুড়া উত্তরাঞ্চলের প্রবেশদ্বার হিসেবে পরিচিত। ঢাকা-রংপুর মহাসড়কের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা এ শহর উত্তরবঙ্গের অন্যতম বাণিজ্যকেন্দ্র। কৃষিপণ্য সরবরাহ, পরিবহন, স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা ও ব্যবসা-বাণিজ্যে বগুড়ার ওপর নির্ভরশীল আশপাশের একাধিক জেলা। সেই তুলনায় নগর সেবার পরিধি দীর্ঘদিন ধরেই সীমিত ছিল বলে অভিযোগ ছিল নাগরিকদের।

আরও পড়ুন
12

আদালত হয়রানির জায়গা নয়, ন্যায়বিচার পাওয়ার নিরাপদস্থল: প্রধানমন্ত্রী

ইতিহাস ঘেঁটে দেখা যায়, ১৮৭৬ সালে প্রতিষ্ঠিত বগুড়া পৌরসভা দেশের অন্যতম প্রাচীন পৌর প্রতিষ্ঠান। পরে ধাপে ধাপে এর আয়তন বাড়ানো হয়। ২০০৬ সালে আশপাশের ৪৮টি মৌজা যুক্ত করে পৌর এলাকার আয়তন প্রায় ৬৯ দশমিক ৫৬ বর্গকিলোমিটারে উন্নীত করা হয়। এরপর থেকেই এটিকে সিটি করপোরেশনে রূপান্তরের দাবি জোরালো হতে থাকে।

নগর বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সিটি করপোরেশন হওয়ায় এখন বড় পরিসরে উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণ, সড়ক সম্প্রসারণ, ড্রেনেজ ব্যবস্থার আধুনিকায়ন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ, স্ট্রিট লাইটিং ও ডিজিটাল নাগরিক সেবা সম্প্রসারণের সুযোগ তৈরি হবে। একই সঙ্গে বাড়বে সরকারি বরাদ্দ পাওয়ার সম্ভাবনাও।

তবে শুধু ঘোষণায় উন্নয়ন হবে না বলেও মত দিয়েছেন সচেতন নাগরিকরা। তাদের দাবি, বগুড়ার যানজট, জলাবদ্ধতা, ফুটপাত দখল, অপরিকল্পিত বাজার ব্যবস্থা, বাস টার্মিনাল সংকট ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনার দীর্ঘদিনের সমস্যাগুলো দ্রুত সমাধানে কার্যকর পরিকল্পনা নিতে হবে।

স্থানীয় ব্যবসায়ীরা বলছেন, সিটি করপোরেশন মর্যাদা পাওয়ায় নতুন বিনিয়োগ, আবাসন, শিল্প ও বাণিজ্য সম্প্রসারণের সুযোগ তৈরি হবে। এতে কর্মসংস্থান বাড়তে পারে।

বগুড়াবাসীর কাছে সোমবারের দিনটি তাই শুধু প্রশাসনিক ঘোষণা নয়, একটি নতুন নগর ভবিষ্যতের সূচনা হিসেবেই ধরা দিচ্ছে। এখন দেখার বিষয়, সিটি করপোরেশনের নতুন পরিচয়ে কত দ্রুত বদলে যায় উত্তরাঞ্চলের এই ব্যস্ত শহর।

এর আগে সোমবার সকাল ১০টায় প্রধানমন্ত্রী ঢাকা থেকে বগুড়ার সার্কিট হাউজে পৌঁছান। দিনব্যাপী কর্মসূচির অংশ হিসেবে তিনি জেলা জজ কোর্ট প্রাঙ্গণে আইনজীবী সমিতির নবনির্মিত ভবন উদ্বোধন করেন এবং আদালতের ‘ই-বেইলবন্ড’ কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু করেন।

আরটিভি/এমএ