images

জাতীয়

মাদক ও সাইবার অপরাধের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে: আইজিপি

মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬ , ০৯:১৮ এএম

পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির বলেছেন, মাদক ও সাইবার অপরাধের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে।

সোমবার (২০ এপ্রিল) সিআইডি সদর দপ্তরে আয়োজিত দুই দিনব্যাপী ত্রৈমাসিক অপরাধ পর্যালোচনা সভার (জানুয়ারি-মার্চ ২০২৬) সমাপনী অনুষ্ঠানে তিনি প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন।

আইজিপি বলেন, নিজের ওপর অর্পিত দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন ও সম্মিলিত প্রচেষ্টাই পারে পুলিশ বাহিনীর ভাবমূর্তিকে আরও শক্তিশালী ও জনবান্ধব করতে। 

তিনি বলেন, দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সম্মিলিত প্রচেষ্টায় অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণে এসেছে। একটি সফল জাতীয় নির্বাচন সম্পন্ন করার মাধ্যমে পুলিশ বাহিনীর সদস্যরা নতুন করে আত্মবিশ্বাস অর্জন করেছে এবং জনগণের প্রশংসা কুড়িয়েছে।

আইজিপি বলেন, সিআইডি দেশের অপরাধ তদন্ত ব্যবস্থায় এপেক্স সংস্থা হিসেবে অগ্রণী ভূমিকা পালন করছে। সিআইডির সদস্যদের পেশাগত দক্ষতা, আইনগত ক্ষমতা ও দায়িত্ববোধ দেশের বিচার ও আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থাকে আরও মজবুত করে তুলছে।

তিনি সব সদস্যকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে সর্বোচ্চ দক্ষতা ও দায়িত্বশীলতা প্রদর্শনের আহ্বান জানান।

তিনি আরও বলেন, প্রত্যেক কর্মকর্তা-সদস্যকে নিজ কর্মক্ষেত্রকে দায়িত্ব ও সুযোগ হিসেবে গ্রহণ করে নিজের সক্ষমতা প্রমাণ করতে হবে। সিআইডির তদন্ত কার্যক্রম নিয়ে জনগণের প্রত্যাশা অত্যন্ত উচ্চ। তাই তদন্তের গতি, গুণগত মান ও সময়মতো নিষ্পত্তি নিশ্চিত করতে আরও পেশাদার ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ কর্তৃক মামলার অগ্রগতি তদারকির পাশাপাশি তদন্তকারী কর্মকর্তারাও দায়িত্ববোধ ও নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করবেন-এমন প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তিনি।

আরও পড়ুন
Web-Image---Copy

আমরা যা করব স্বচ্ছভাবে করব, কোনো লুকোচুরি নেই: প্রধানমন্ত্রী

পুলিশ বাহিনীর নৈতিকতা ও সততা প্রশ্নবিদ্ধ হলে পুরো প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হয় উল্লেখ করে আইজিপি বলেন, ব্যক্তিগত স্বার্থ বা অনিয়ম থেকে সম্পূর্ণ বিরত থেকে পেশাদার আচরণ নিশ্চিত করতে হবে।

আইজিপি অপরাধের মূল কারণ বিশ্লেষণ করে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণের ওপর জোর দেন।

তিনি বলেন, দ্রুত প্রতিক্রিয়া নিশ্চিত করতে রেসপন্স টিম সর্বদা প্রস্তুত রাখতে হবে।

পুলিশকে জনগণের আস্থা ও সম্মানের জায়গায় আরও শক্তভাবে প্রতিষ্ঠিত করতে সিআইডির প্রচেষ্টাকে অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান তিনি।

সমাপনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সিআইডি প্রধান অতিরিক্ত আইজিপি মোসলেহ উদ্দিন আহমদ।

তিনি প্রধান অতিথিকে স্বাগত জানিয়ে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, গত দুই দিনের ক্রাইম কনফারেন্সে জেলা পর্যায়, বিশেষায়িত ইউনিট ও সদর দপ্তরের সব ইউনিট তাদের কার্যক্রম, অর্জন, চ্যালেঞ্জ ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা উপস্থাপন করেছে। আলোচনা থেকে প্রাপ্ত সুপারিশের ভিত্তিতে একটি বাস্তবসম্মত ফলো-আপ পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে, যা আগামী তিন মাসে বাস্তবায়ন করা হবে।

সিআইডি প্রধান আরও বলেন, পুলিশ বাহিনী সাম্প্রতিক চ্যালেঞ্জিং সময় সফলভাবে অতিক্রম করেছে, সফল জাতীয় নির্বাচন সম্পাদন তার একটি প্রমাণ। অতীতের চ্যালেঞ্জিং সময়কে পেছনে ফেলে নতুন উদ্যমে এগিয়ে যেতে হবে।

ক্রাইম সিন ব্যবস্থাপনায় কুইক রেসপন্স টিম গঠন, বিজ্ঞানভিত্তিক তদন্ত পদ্ধতি অনুসরণ করার নির্দেশনাও দেন তিনি।

অনুষ্ঠানের শেষে সিআইডির বিভিন্ন ইউনিটের কর্মকর্তাদের কৃতিত্বপূর্ণ ও সাহসী কর্মকাণ্ডের স্বীকৃতিস্বরূপ পুরস্কার প্রদান করা হয়।

সভায় সদর দপ্তরের বিভিন্ন ইউনিটের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া জেলা ইউনিটসমূহের কর্মকর্তারা অনলাইনে যুক্ত হয়ে অংশগ্রহণ করেন।

আরটিভি/আইএম