সোমবার, ০৪ মে ২০২৬ , ০৮:২২ পিএম
বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেছেন, রুগ্ন ও বন্ধ শিল্পকারখানা পুনরায় চালু করে উৎপাদন ও কর্মসংস্থান বাড়ানো সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার।
সোমবার (৪ মে) রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে জেলা প্রশাসক (ডিসি) সম্মেলনের দ্বিতীয় দিনের চতুর্থ অধিবেশন শেষে সাংবাদিকদের এক ব্রিফিংয়ে তিনি এ কথা বলেন।
খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, দেশের শিল্পখাতকে পুনরুজ্জীবিত করা, বাজার স্থিতিশীল রাখা এবং জরুরি পণ্যের নিরাপদ সরবরাহ নিশ্চিত করতে সরকার একটি সমন্বিত ও সময়োপযোগী কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নে এগিয়ে যাচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, বস্ত্র ও পাট খাতের প্রায় ৫০টি বন্ধ ও রুগ্ন মিলকে পর্যায়ক্রমে বেসরকারি খাতে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। এই উদ্যোগের মাধ্যমে নতুন বিনিয়োগ আকৃষ্ট হবে, উৎপাদন বাড়বে এবং ব্যাপক কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। আগামী এক বছরের মধ্যে এ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার লক্ষ্যে কাজ চলছে।
জেলা প্রশাসকদের প্রস্তাবনা প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, ডিসিরা নিজ নিজ জেলার বাস্তবতা তুলে ধরে শিল্প পুনরুজ্জীবন, নতুন শিল্পাঞ্চল গড়ে তোলা, বন্ধ চিনিকল পুনরায় চালু এবং ডিস্টিলারি স্থাপনের মাধ্যমে রপ্তানি সম্ভাবনা বাড়ানোর মতো কার্যকর ও বাস্তবভিত্তিক প্রস্তাব দিয়েছেন। সরকার এসব প্রস্তাব গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করবে।
বাজার ব্যবস্থাপনায় কাঠামোগত পরিবর্তনের ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, উৎপাদক থেকে খুচরা পর্যায় পর্যন্ত মূল্য ব্যবধান কমাতে সরকার আধুনিক, প্রযুক্তিনির্ভর (এআইভিত্তিক) সাপ্লাই চেইন মনিটরিং ব্যবস্থা চালুর পরিকল্পনা নিয়েছে। এই ব্যবস্থার মাধ্যমে আমদানি, মজুদ, পাইকারি ও খুচরা- প্রতিটি ধাপ নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব হবে, যা বাজারে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করবে।
খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারের অস্থিরতা মোকাবিলায় আমদানি-নির্ভর পণ্যের জন্য ‘স্ট্র্যাটেজিক রিজার্ভ’ গড়ে তোলা হচ্ছে। এর ফলে বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যাহত হলেও দেশের বাজারে পণ্যের ঘাটতি তৈরি হবে না এবং মূল্য স্থিতিশীল রাখা সম্ভব হবে।
ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) কার্যক্রম প্রসঙ্গে মন্ত্রী জানান, একটি শক্তিশালী উপদেষ্টা পরিষদ গঠন করা হবে, যেখানে সরকারি ও বেসরকারি খাতের অভিজ্ঞ বিশেষজ্ঞরা অন্তর্ভুক্ত থাকবেন। এর মাধ্যমে টিসিবির বাজার হস্তক্ষেপ আরও কার্যকর, সময়োপযোগী ও লক্ষ্যভিত্তিক হবে।
আসন্ন কোরবানির ঈদ উপলক্ষে কাঁচা চামড়া সংরক্ষণে বিশেষ কর্মপরিকল্পনার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, একটি চামড়াও যাতে নষ্ট না হয়, সে লক্ষ্যে জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের মাধ্যমে মসজিদ-মাদরাসা সংশ্লিষ্টদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। সরকারিভাবে লবণ সরবরাহ, সচেতনতামূলক লিফলেট বিতরণ এবং গণমাধ্যমে প্রচারণা চালানো হবে। এ ছাড়া কোরবানির পরবর্তী সাতদিন চামড়া পরিবহন ও স্থানীয় সংরক্ষণ নিশ্চিত করার কথাও জানান তিনি।
বাজার স্থিতিশীল রাখতে জেলা প্রশাসকদের আরও সক্রিয় ভূমিকার ওপর জোর দিয়ে মন্ত্রী বলেন, প্রশাসন ও নির্বাচিত সরকার সম্মিলিতভাবে কাজ করে সরবরাহ ব্যবস্থা সচল এবং ভোক্তার স্বার্থ রক্ষা করবে-এটাই আমাদের অঙ্গীকার।
ব্রিফিংয়ে বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম, শিল্প সচিব, বাণিজ্য সচিব এবং বস্ত্র ও পাট সচিব উপস্থিত ছিলেন।
আরটিভি/আইএম