images

জাতীয় / দেশজুড়ে

মুক্তিযুদ্ধ কোনো দলের নয়, জাতির সম্পদ: প্রতিমন্ত্রী ইশরাক

বুধবার, ০৬ মে ২০২৬ , ০৮:১৯ পিএম

মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেন বলেছেন, মুক্তিযুদ্ধ বাংলাদেশের অস্তিত্ব ও পরিচয়ের ভিত্তি, এটি কোনো ব্যক্তি বা দলের নয়—সমগ্র জাতির সম্পদ।

 
তিনি বলেন, ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ ছিল একটি জনযুদ্ধ, যেখানে দল-মত নির্বিশেষে সাধারণ মানুষ অস্ত্র হাতে নিয়ে দেশের স্বাধীনতার জন্য লড়াই করেছেন। বুধবার (৬ মে) মুন্সীগঞ্জে গজারিয়া উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডারের উদ্যোগে গজারিয়া উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স পরিদর্শন ও মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।


একজন গেরিলা মুক্তিযোদ্ধার সন্তান হিসেবে মুক্তিযুদ্ধ তাঁর জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই যুদ্ধের মাধ্যমেই বাংলাদেশের জন্ম, তাই এর সঠিক ইতিহাস ও আদর্শ সমাজের সর্বস্তরে প্রতিষ্ঠা করা জরুরি।


প্রতিমন্ত্রী অভিযোগ করেন, বিগত সময়ে মুক্তিযুদ্ধকে দলীয়ভাবে ব্যবহার করা হয়েছে এবং বিকৃত ইতিহাস তুলে ধরার মাধ্যমে এর চেতনাকে ক্ষুণ্ন করা হয়েছে। যার যে অবদান, তা সঠিকভাবে মূল্যায়ন করতে হবে এবং জনগণের সামনে প্রকৃত ইতিহাস তুলে ধরতে হবে।


১৯৭১ সালের প্রেক্ষাপট তুলে ধরে তিনি বলেন, ২৫ মার্চ পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর নৃশংস হামলার পর দেশজুড়ে প্রতিরোধ গড়ে ওঠে। রাজারবাগ পুলিশ লাইন, পিলখানা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন স্থানে হত্যাকাণ্ডের মধ্য দিয়ে জাতি সশস্ত্র সংগ্রামে ঝাঁপিয়ে পড়ে।


স্বাধীনতার ঘোষণার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের অবদান যথাযথভাবে স্বীকৃতি পাওয়া উচিত। অতীতে তাঁকে হেয় প্রতিপন্ন করার চেষ্টা হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।


মুক্তিযুদ্ধের বিরোধী শক্তির প্রসঙ্গ প্রতিমন্ত্রী বলেন, ১৯৭১ সালে যারা স্বাধীনতার বিরোধিতা করেছে, দেশের মানুষের বিরুদ্ধে অস্ত্র ধরেছে এবং হানাদার বাহিনীকে সহযোগিতা করেছে, তারা ইতিহাসের বিচারে চিহ্নিত। তিনি অভিযোগ করেন, এসব শক্তি বিভিন্ন সময় বিভাজন তৈরির অপচেষ্টা চালিয়েছে এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে দুর্বল করার চেষ্টা করেছে। ভবিষ্যতেও এ ধরনের অপচেষ্টা ব্যর্থ হবে বলে তিনি সতর্ক করেন।


প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, ২০০১ সালে বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বাধীন সরকার মুক্তিযোদ্ধাদের কল্যাণে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় প্রতিষ্ঠা করে এবং তাদের জন্য বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা চালু করে। 

তাঁর দাবি, ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা সনদের মাধ্যমে অনেকেই সুবিধা নিয়েছেন, এমনকি প্রশাসনের উচ্চপর্যায়েও এর প্রভাব পড়েছে। এসব কারণে নতুন প্রজন্মের একটি অংশের মধ্যে মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে, যা দুঃখজনক।

২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার আন্দোলনের প্রসঙ্গ প্রতিমন্ত্রী বলেন, এই আন্দোলনকে মুক্তিযুদ্ধের ধারাবাহিকতা হিসেবে দেখা গেলেও দুইটির মধ্যে তুলনা করা যায় না। মুক্তিযুদ্ধ ছিল সশস্ত্র যুদ্ধ, আর সাম্প্রতিক আন্দোলন ছিল গণআন্দোলন।

আরও পড়ুন
fghgyh

সরকারি পর্যায়ে খাদ্যশস্যের মজুত ছাড়িয়েছে ১৬ লাখ ৯০ হাজার মেট্রিক টন


মুক্তিযোদ্ধাদের কল্যাণে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের কথা তুলে ধরে তিনি জানান, বীর নিবাস প্রকল্পসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে অনিয়মের অভিযোগ যাচাই করা হবে। প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা প্রস্তুত করে তাদের প্রাপ্য সুবিধা নিশ্চিত করা হবে।

চিকিৎসা সহায়তা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, জটিল রোগের ক্ষেত্রে মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য সর্বোচ্চ পাঁচ লাখ টাকা পর্যন্ত বরাদ্দ রয়েছে। এছাড়া বিভিন্ন হাসপাতালের মাধ্যমে চিকিৎসা সেবা দেওয়া হচ্ছে।

ভাতা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বর্তমানে মাসিক ২০ হাজার টাকা করে ভাতা দেওয়া হচ্ছে। অর্থনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনায় এটি বাড়ানোর বিষয়টি আলোচনায় আনা হবে।

মতবিনিময় সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন মোহাম্মদ কামরুজ্জামান রতন এমপি, গজারিয়া উপজেলার নির্বাহী অফিসার মো. মাহমুদুল হাসান, অফিসার ইনচার্জ মো. হাসান আলী, গজারিয়া উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার সিরাজুল ইসলাম পিন্টু প্রমুখ।
আরটিভি/কেডি