বুধবার, ০৬ মে ২০২৬ , ১১:০৭ পিএম
শেষ হলো চারদিনের জেলা প্রশাসক (ডিসি) সম্মেলন। গত রোববার (৩ মে) রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে সম্মেলনের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বুধবার (৬ মে) বিকেলে সমাপনী অধিবেশনের মাধ্যমে শেষ হয় এ সম্মেলন। এ সম্মেলনের আয়োজন করে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।
সমাপনী অধিবেশন শেষে বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে বাংলাদেশ অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের সঙ্গে সভা করেন প্রধানমন্ত্রী। এরপর সেখানে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ডিসি এবং বিভাগীয় কমিশনাররা নৈশভোজে অংশ নেন। শেষ দিনে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় এবং বিভাগের সঙ্গে ডিসিদের নয়টি কার্য অধিবেশন ছিল।
এবার উদ্বোধন এবং সমাপনী অধিবেশন ছাড়াও কার্য-অধিবেশনগুলো ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত রোববার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে প্রধানমন্ত্রী চার দিনব্যাপী সম্মেলনের উদ্বোধন করেন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী জেলা প্রশাসকদের বিভিন্ন নির্দেশনা দেন।
সরকারের নীতি-নির্ধারক ও জেলা প্রশাসকদের মধ্যে সামনা সামনি মতবিনিময় এবং প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেওয়ার জন্য প্রতি বছর ডিসি সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। সম্মেলনে জেলা প্রশাসকরা মাঠ প্রশাসনের কাজের ক্ষেত্রে তাদের প্রতিবন্ধকতা ও চ্যালেঞ্জ তুলে ধরেন। নীতি-নির্ধারকরা সেগুলো দূরীকরণের পদক্ষেপ নেন।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দুই-তৃতীয়াংশ আসনে জয়লাভ করে গত ১৭ ফেব্রুয়ারি সরকার গঠনের পর বিএনপি সরকারের এটিই প্রথম ডিসি সম্মেলন। ফলে সরকারের নির্বাচনি ইশতেহার বাস্তবায়ন সামনে রেখে ডিসিদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনার জন্য এবারের সম্মেলন ছিল খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
এবারের সম্মেলনে বিভাগীয় কমিশনার ও জেলা প্রশাসকদের ৪৯৮টি প্রস্তাব আলোচনার জন্য উত্থাপিত হয়েছে। এছাড়া কার্য-অধিবেশনগুলোতে তাৎক্ষণিক আরও প্রস্তাব তুলে ধরেন বিভাগীয় কমিশনার ও জেলা প্রশাসকরা।
সম্মেলনে বিভাগীয় কমিশনার ও জেলা প্রশাসকরা রাষ্ট্রপতি, জাতীয় সংসদের স্পিকার ও প্রধান বিচারপতির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ, নির্দেশনা গ্রহণ ও মতবিনিময় করেন। এছাড়া প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও কমিশনারদের সঙ্গে এবং দুর্নীতি দমন কমিশনের সঙ্গে কার্য-অধিবেশন হয়।
এবারের ডিসি সম্মেলনে মোট ৩৪টি অধিবেশন ও কার্য-অধিবেশন ছিল। এছাড়া একটি উদ্বোধন অনুষ্ঠান, রাষ্ট্রপতি, জাতীয় সংসদের স্পিকার ও প্রধান বিচারপতির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ, নির্দেশনা গ্রহণসহ অন্যান্য আনুষ্ঠানিকতা ছিল দুটি। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে মুক্ত আলোচনা এবং বাংলাদেশ অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের সঙ্গে সভা হয়েছে।
এবারের ডিসি সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, দুটি কমিশন (নির্বাচন কমিশন ও দুর্নীতি দমন কমিশন) এবং ৫৬টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগ অংশ নিয়েছে।
প্রাপ্ত প্রস্তাবগুলোতে জনসেবা বৃদ্ধি, স্বাস্থ্যসেবা বৃদ্ধি, জনদুর্ভোগ কমানো, রাস্তাঘাট ও ব্রিজ নির্মাণ, পর্যটনের বিকাশ, আইন-কানুন বা বিধিমালা সংশোধন, জনস্বার্থ সংরক্ষণের বিষয়গুলো অগ্রাধিকার পেয়েছে। সবচেয়ে বেশি ৪৪টি প্রস্তাব ছিল স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ সংক্রান্ত।
কার্য-অধিবেশনগুলোতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, উপদেষ্টা, বিশেষ সহকারী, সিনিয়র সচিব, সচিব এবং আওতাধীন দপ্তর, অধিদপ্তর ও সংস্থার প্রধানরা উপস্থিত ছিলেন। প্রতিটি কার্য-অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব।
প্রথমদিন উদ্বোধন এবং প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে মুক্ত আলোচনা ছাড়াও বিভিন্ন মন্ত্রণালয় এবং বিভাগের সঙ্গে চারটি কার্য-অধিবেশন হয়। এছাড়া ওইদিন বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন ও তার সঙ্গে রাতের খাবার খান বিভাগীয় কমিশনার ও ডিসিরা।
দ্বিতীয়দিন মোট সাতটি কার্য-অধিবেশন হয়। এছাড়া স্পিকারের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ ও মতবিনিময় এবং তার সঙ্গে রাতের খাবার খান ডিসিরা। তৃতীয় দিন আটটি কার্য-অধিবেশনে অংশ নেন জেলা প্রশাসকরা। এর মধ্যে প্রধান বিচারপতির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ এবং তার নির্দেশনা গ্রহণ করেন তারা।
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে জানা গেছে, ডিসি সম্মেলনে প্রধান আলোচ্য বিষয়ের মধ্যে ছিল ভূমি ব্যবস্থাপন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন, স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানসমূহের কার্যক্রম জোরদারকরণ, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যক্রম, স্থানীয় পর্যায়ে কর্ম-সৃজন ও দারিদ্র্য বিমোচন কর্মসূচি বাস্তবায়ন, সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী কর্মসূচি বাস্তবায়ন, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির ব্যবহার এবং ই-গভর্ন্যান্স, শিক্ষার মানোন্নয়ন ও সম্প্রসারণ, স্বাস্থ্যসেবা ও পরিবার কল্যাণ, পরিবেশ সংরক্ষণ ও দূষণ রোধ, ভৌত অবকাঠামোর উন্নয়ন এবং উন্নয়নমূলক কার্যক্রমের বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও সমন্বয়।
আরটিভি/কেডি