রোববার, ১০ মে ২০২৬ , ০৮:৪৫ এএম
‘আমার পুলিশ, আমার দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’—এই প্রতিপাদ্য সামনে রেখে আজ থেকে শুরু হচ্ছে চারদিনব্যাপী পুলিশ সপ্তাহ ২০২৬। রাজধানীর রাজারবাগ পুলিশ লাইনস মাঠে রোববার (১০ মে) বার্ষিক পুলিশ প্যারেডের মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া এ আয়োজন উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
তবে পুলিশ বাহিনীর সবচেয়ে বড় এই আয়োজনের শুরুতেই বড় ধরনের পরিবর্তন আনা হয়েছে। বিশেষ অবদানের জন্য প্রতিবছর দেওয়া ‘বাংলাদেশ পুলিশ পদক (বিপিএম)’ ও ‘রাষ্ট্রপতির পুলিশ পদক (পিপিএম)’ প্রদান এবার স্থগিত করা হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, এ বছর বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে মোট ১০৯ জন পুলিশ কর্মকর্তা ও সদস্যকে পদকের জন্য মনোনীত করা হয়েছিল। কিন্তু পুলিশ সদর দপ্তর থেকে পাঠানো তালিকায় অস্বচ্ছতা এবং বিতর্কিত সদস্যদের নাম থাকার অভিযোগ ওঠায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় পদক প্রদান কার্যক্রম স্থগিত করে।
জানা গেছে, মনোনীতদের মধ্যে অন্তত ১১ জন অতীতে নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলেও পদক পেয়েছিলেন। তাদের মধ্যে একজন কর্মকর্তা দুইবার পদক পেয়েছেন বলেও তথ্য পাওয়া গেছে। বিষয়টি নিয়ে বাহিনীর ভেতরেও ব্যাপক সমালোচনা তৈরি হয়।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে পুলিশ সদর দপ্তরের অতিরিক্ত আইজিপি (অপরাধ ও অপস) খন্দকার রফিকুল ইসলাম বলেন, পুলিশ সপ্তাহের প্রথম দিনে যে পদক দেওয়ার কথা ছিল, সেটি আপাতত হচ্ছে না। পরে এ বিষয়ে নতুন সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
পুলিশ সদর দপ্তর সূত্রে আরও জানা গেছে, সরকারের বর্তমান ব্যয়সংকোচন নীতির কারণে এবারের আয়োজন অনেকটা সীমিত করা হয়েছে। আগে সপ্তাহব্যাপী চললেও এবার পুলিশ সপ্তাহ চলবে চারদিন। কমানো হয়েছে অনুষ্ঠান ও আমন্ত্রিত অতিথির সংখ্যাও। তবে এই আয়োজনের মাধ্যমে পুলিশের মৌলিক কিছু দাবি প্রধানমন্ত্রীর কাছে তুলে ধরবেন সদস্যরা। ১৩ মে এই অনুষ্ঠান শেষ হবে।
পুলিশ সপ্তাহ উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এবং পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির পৃথক বাণী দিয়েছেন। এবারের বার্ষিক পুলিশ প্যারেডে নেতৃত্ব দিচ্ছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার হাসান মোহাম্মদ নাছের রিকাবদার। তার নেতৃত্বে বিভিন্ন কনটিনজেন্টের সদস্যরা প্যারেডে অংশ নেবেন।
কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে—প্রধানমন্ত্রীর পুনাক স্টল পরিদর্শন, কল্যাণ প্যারেড, ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তাদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ, আইজিপি ব্যাজ ও শিল্ড প্যারেড এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে সম্মেলন। বিভিন্ন অধিবেশনে বিগত বছরের কার্যক্রম পর্যালোচনা করে আগামী বছরের কর্মপরিকল্পনা নির্ধারণ করা হবে। এই আয়োজনের মধ্য দিয়ে পুলিশি সেবাকে আরও জনবান্ধব করার বার্তা দেওয়া হবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন।
আরটিভি/এআর