শুক্রবার, ১৫ মে ২০২৬ , ০২:৪৬ পিএম
দেশে ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ডের সফলতার পর এবার প্রবাসীদের জন্য বিশেষ ডিজিটাল পরিচয়পত্র বা ‘প্রবাসী কার্ড’ চালু করতে যাচ্ছে সরকার। আগামী দুই মাসের মধ্যে এই কার্ড বিতরণের প্রক্রিয়া শুরু হবে।
রোববার (১০ মে) যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানকালে প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী গণমাধ্যমকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয় জানায়, বর্তমানে প্রায় দেড় কোটি বাংলাদেশি বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অবস্থান করছেন। তাদের জন্য এই কার্ডটি একটি ডিজিটাল ডাটাবেজ হিসেবে কাজ করবে। প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক জানান, এই কার্ডটি পাসপোর্টের বিকল্প হিসেবেও ব্যবহার করা যাবে। কার্ডে থাকা কিউআর কোড স্ক্যান করলে মুহূর্তেই প্রবাসীর বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যাবে। এটি সশরীরে বহন না করে মোবাইলের মাধ্যমেও ব্যবহার করা সম্ভব হবে।
বিএনপির নির্বাচনি ইশতেহার অনুযায়ী, এই কার্ডে ব্যাংক পেমেন্ট গেটওয়ে যুক্ত থাকবে। প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক জানান, কার্ডটির অন্যতম বড় সুবিধা হবে এর অর্থনৈতিক ব্যবহার। এটি একটি ডুয়েল কারেন্সি কার্ড হিসেবে কাজ করবে, যার ফলে প্রবাসীরা বিদেশে অবস্থান করে সেই দেশের মুদ্রায় লেনদেন করতে পারবেন এবং একই সাথে বাংলাদেশে থাকা তাদের পরিবার দেশীয় মুদ্রায় কেনাকাটা করতে পারবে।
এছাড়া প্রবাসীরা প্রবাসে বসেই বাংলাদেশে তাদের পরিবারের জন্য অনলাইন পেমেন্টের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় পণ্য কিনে দিতে পারবেন।
প্রতিমন্ত্রী আরও জানান, অনেক সময় প্রবাসীদের পাঠানো অর্থ পরিবারের সদস্যরা অপরিকল্পিতভাবে খরচ করে ফেলেন। প্রবাসী কার্ডের মাধ্যমে এই খরচের ওপর একটি নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা থাকবে, যাতে প্রবাসীর কষ্টার্জিত অর্থের সুরক্ষা নিশ্চিত হয়। এছাড়া এই কার্ডধারীরা রেমিট্যান্সে বাড়তি প্রণোদনা এবং দেশে ফেরার পর বিশেষ সামাজিক সুরক্ষা পাবেন।
সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, দেশের বিভাগীয় ও জেলা শহরগুলোতে গড়ে তোলা হবে ‘প্রবাসী সিটি’। যাদের কাছে এই কার্ড থাকবে, তারা ওই সব প্রকল্পে আবাসন বা প্লট ক্রয়ের ক্ষেত্রে বিশেষ অগ্রাধিকার ও আর্থিক সুবিধা পাবেন। এছাড়া বর্তমানে বিএমইটি বীমা ও আর্থিক ক্ষতিপূরণসহ যেসব সুবিধা রয়েছে, সেগুলোও এই কার্ডের আওতায় চলে আসবে।
অনেক প্রবাসীই বিমানবন্দরে বা দেশে বিভিন্ন সেবা নিতে গিয়ে হয়রানির শিকার হওয়ার অভিযোগ করেন। এ প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক বলেন, বিমানবন্দরে প্রবাসীদের যথাযথ সম্মান নিশ্চিত করা এবং যেকোনো ধরনের হয়রানি বন্ধে এই কার্ড গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। সরকারের আশা, এই উদ্যোগের ফলে বৈধ পথে রেমিট্যান্স পাঠানোর হার আরও বৃদ্ধি পাবে।
আরটিভি/এআর