images

জাতীয়

বিশেষায়িত ইউনিটে অতিরিক্ত জনবল চায় পুলিশ

শুক্রবার, ১৫ মে ২০২৬ , ০৭:২৫ পিএম

শিল্পাঞ্চলের নিরাপত্তা, সাইবার অপরাধ দমন, মহাসড়কের নিরাপত্তা, পর্যটন খাতের সুরক্ষা এবং ভিআইপি নিরাপত্তা জোরদারসহ ক্রমবর্ধমান নিরাপত্তাজনিত চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বাংলাদেশ পুলিশের বিশেষায়িত ইউনিটগুলোতে জনবল বাড়ানোর দাবি উঠেছে।

পুলিশ সদর দপ্তর জানিয়েছে, শিল্প, নৌ, ট্যুরিস্ট ও হাইওয়ে পুলিশ এবং আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন) এর মতো বিশেষায়িত ইউনিটগুলো বর্তমানে সীমিত জনবল নিয়ে কাজ করছে। অথচ এসব ইউনিটের দায়িত্ব ও কর্মপরিধি ক্রমেই বাড়ছে।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, কার্যকর পুলিশিং ও জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পর্যাপ্ত জনবল, প্রশিক্ষণ এবং লজিস্টিক সহায়তা অত্যন্ত জরুরি।

বিশেষজ্ঞরা শিল্প পুলিশকে শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। তারা বলছেন, দেশের ক্রমবর্ধমান শিল্প খাত, রপ্তানিমুখী পোশাক শিল্প এবং উদীয়মান অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোর সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে শিল্প পুলিশের সক্ষমতা বাড়ানো এখন সময়ের দাবী।

বর্তমানে শিল্প পুলিশের কার্যক্রম কয়েকটি অঞ্চলে সীমিত আকারে পরিচালিত হচ্ছে। কর্মকর্তারা জানান, শিল্পপ্রধান সব এলাকায় পূর্ণাঙ্গ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অতিরিক্ত ইউনিট ও জনবল প্রয়োজন।

একইভাবে, নৌপথে অপরাধ দমন, চোরাচালান প্রতিরোধ এবং নদীবন্দরগুলোর নিরাপত্তা জোরদারে নৌ পুলিশের সক্ষমতা বাড়ানোর দাবিও জোরালো হচ্ছে।

এদিকে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) সামগ্রিক দক্ষতা বৃদ্ধি ও সারা দেশে কার্যক্রম সম্প্রসারণের লক্ষ্যে অতিরিক্ত ৫ হাজার জনবল এবং স্থায়ী অফিস ভবন চেয়েছে।

পিবিআই প্রধান ও পুলিশের অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক মো. মোস্তফা কামাল গণমাধ্যমকে বলেন, বর্তমানে ইউনিটটির জনবল ২ হাজার ৩১ জন। তারা দেশের ৪২টি জেলায় ভাড়া করা অফিসে কার্যক্রম পরিচালনা করছেন।

তিনি আরও বলেন, ২০১২ সালে প্রতিষ্ঠিত পিবিআই যেহেতু প্রশিক্ষিত কর্মকর্তা ও আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে জটিল অপরাধ, সাইবার অপরাধ, সন্ত্রাসবাদ এবং সংঘবদ্ধ অপরাধের তদন্ত করে থাকে তাই জনবল ও অবকাঠামোগত সুবিধা বৃদ্ধির জন্য দু’টি প্রস্তাব ইতোমধ্যেই স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে।

আরও পড়ুন
dmp

অবসরে ডিএমপির ভারপ্রাপ্ত কমিশনার সরওয়ার

এছাড়াও পর্যটন খাত দ্রুত সম্প্রসারিত হওয়ায় ট্যুরিস্ট পুলিশে প্রশিক্ষিত জনবল বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার ওপরও গুরুত্ব দিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

তাদের মতে, দক্ষ জনবল ও প্রযুক্তিনির্ভর আধুনিক পুলিশিংয়ের মাধ্যমে বিশেষায়িত ইউনিটগুলোকে আরও শক্তিশালী করা গেলে জনসেবা উন্নত হবে এবং দেশের সামগ্রিক নিরাপত্তা কাঠামো আরও দৃঢ় হবে।

সম্প্রতি পুলিশের এক অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদও ট্যুরিস্ট পুলিশের সক্ষমতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন। 

তিনি বলেন, পর্যটন খাতের উন্নয়ন, দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং দেশের ভাবমূর্তি ইতিবাচকভাবে তুলে ধরতে এ ইউনিটকে আরও শক্তিশালী করা অত্যন্ত জরুরি।

কর্মকর্তাদের মতে, বিশেষায়িত পুলিশ ইউনিটগুলোকে শক্তিশালী করতে সরকারের এই উদ্যোগ পুলিশ বাহিনীকে আধুনিক, প্রযুক্তিনির্ভর ও জনবান্ধব প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরের সরকারি প্রতিশ্রুতিরই প্রতিফলন।”

আরটিভি/এমএস