শনিবার, ১৬ মে ২০২৬ , ০৩:০৮ পিএম
আজ ১৬ মে, ঐতিহাসিক ফারাক্কা লংমার্চ দিবসের ৫০ বছর পূর্তি। ১৯৭৬ সালের এই দিনে ভারতের ফারাক্কা ব্যারেজের প্রভাব ও পানি সংকটের বিরুদ্ধে মজলুম জননেতা মাওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর ডাকে দেশজুড়ে শুরু হয়েছিল ঐতিহাসিক গণআন্দোলন।
সে সময় রাজশাহীর মাদরাসা মাঠে লাখো মানুষ সমবেত হয়ে লংমার্চে অংশ নেয়। মাওলানা ভাসানী তখন ঘোষণা দিয়েছিলেন, মরণবাঁধ ফারাক্কা ভেঙে দাও, গুঁড়িয়ে দাও—যা আন্দোলনকে আরও তীব্র করে তোলে। এ সময় গঙ্গার ন্যায্য পানি না দিলে, দিল্লির মসনদ কাঁপিয়ে দিব বলেও হুঁশিয়ারি করেন ভাসানী।
পরবর্তীতে লংমার্চ চাঁপাইনবাবগঞ্জের কানসাটে গিয়ে শেষ হয়। এই আন্দোলনের মাধ্যমে ফারাক্কা ইস্যুটি আন্তর্জাতিক পর্যায়েও আলোচনায় আসে।
১৯৭৪ সালে ফারাক্কা ব্যারেজ চালুর পর থেকেই পদ্মা নদীতে পানির প্রবাহ কমতে শুরু করে, যার প্রভাব পড়ে কৃষি, মৎস্য ও পরিবেশে। পরবর্তীতে বিভিন্ন সময় পানি বণ্টন নিয়ে চুক্তি হলেও দীর্ঘমেয়াদি সমাধান নিয়ে বিতর্ক থেকেই যায়।
১৯৯৬ সালের ৩০ বছর মেয়াদি গঙ্গা পানি বণ্টন চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার পথে থাকায় বিষয়টি আবারও আলোচনায় এসেছে। রাজনৈতিক অঙ্গনেও নতুন করে পানি বণ্টন ইস্যু গুরুত্ব পাচ্ছে।
এদিকে সরকার বলছে, প্রায় ৩৫ হাজার কোটি টাকার পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে দেশের উত্তর ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের নদী ও কৃষি ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তন আসবে।
ফারাক্কা লংমার্চ দিবসকে ঘিরে রাজশাহীসহ বিভিন্ন এলাকায় স্মরণসভা ও আলোচনা কর্মসূচি পালিত হচ্ছে। রাজশাহীর মানুষের প্রত্যাশা—নদীর ন্যূনতম প্রবাহ নিশ্চিত করে স্থায়ী সমাধানের দিকে এগোবে পানি বণ্টন ইস্যু।
আরটিভি/জেএমএ