মঙ্গলবার, ১৯ মে ২০২৬ , ০৫:৪২ পিএম
আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহায় চাহিদার তুলনায় এবার দেশে প্রায় ২২ লাখের বেশি গবাদিপশু উদ্বৃত্ত রয়েছে বলে জানিয়েছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু। দেশীয় খামারিদের স্বার্থ সুরক্ষায় এবার বিদেশ থেকে কোনো ধরনের পশু আমদানির প্রয়োজন নেই বলেও সাফ জানিয়ে দিয়েছেন তিনি।
মঙ্গলবার (১৯ মে) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ভবনে আয়োজিত এক সেমিনারে অংশ নিয়ে প্রতিমন্ত্রী এই তথ্য জানান।
পবিত্র ঈদুল আজহা সামনে রেখে দেশের পশুর বাজার ও খামারিদের সামগ্রিক প্রস্তুতি তুলে ধরতে এই সেমিনারের আয়োজন করা হয়।
প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, বর্তমানে দেশে ১ কোটি ২৩ লাখ ৩৪ হাজার গবাদিপশু কোরবানির জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত ও মজুত রয়েছে। এর বিপরীতে এই বছর সারা দেশে কোরবানির পশুর সম্ভাব্য চাহিদা রয়েছে ১ কোটি ২ লাখ। ফলে চাহিদার তুলনায় প্রায় ২১ লাখ ৩৪ হাজার গবাদিপশু উদ্বৃত্ত থাকবে। এই অবস্থায় বাইরের দেশের পশুর ওপর দেশের বাজার কোনোভাবেই নির্ভরশীল নয়।
সীমান্ত দিয়ে অবৈধ উপায়ে পশুর অনুপ্রবেশ ঠেকাতে সরকার কঠোর অবস্থানে রয়েছে উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, দেশের সীমান্ত এলাকাগুলোতে এরই মধ্যে কড়া সতর্কতা জারি করা হয়েছে। চোরাই পথে ওপার থেকে যাতে কোনো গবাদিপশু দেশের বাজারে ঢুকতে না পারে, সে ব্যাপারে সরকারের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও প্রশাসন সম্পূর্ণ সচেতন রয়েছে।
সেমিনারে চোরাই গরুর বিষয়ে ক্রেতাদেরও সতর্ক থাকার আহ্বান জানান প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, চোরাই বা অবৈধ উপায়ে আসা গরু দিয়ে কোরবানি দেওয়া সমীচীন কি না, তা নিয়ে ক্রেতাদের নিজেদেরও সচেতন থাকা উচিত। দেশীয় খামারিরা যাতে তাদের পশুর ন্যায্য মূল্য পান, তা নিশ্চিত করতে সরকার সব ধরনের পদক্ষেপ নিচ্ছে।
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, বর্তমান সরকারের দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য কেবল দেশের অভ্যন্তরীণ চাহিদা মেটানোই নয়, বরং দেশের এই পশুপালন খাতকে আরও সমৃদ্ধ করে ভবিষ্যতে বিদেশেও মাংস ও পশু রপ্তানি করা। এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে খামারিদের আধুনিক প্রশিক্ষণ ও চিকিৎসা সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।
আরটিভি/এআর