বুধবার, ২০ মে ২০২৬ , ০১:৫০ এএম
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সে এক নজিরবিহীন ও অদ্ভুত ঘটনা ঘটেছে। সোমবার (১৮ মে) সকালে এক শীর্ষ কর্মকর্তাকে পদোন্নতি দিয়ে মহাব্যবস্থাপক থেকে পরিচালক করা হয়। বিকেলে সেই আদেশ বাতিল করা হয়েছে এবং পরদিন মঙ্গলবার (১৯ মে) তাকে বরখাস্ত করা হয়।
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ওই কর্মকর্তার নাম মিজানুর রশীদ। তিনি বিমানের মহাব্যবস্থাপক ও ভারপ্রাপ্ত পরিচালক (প্রশাসন ও মানবসম্পদ) হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।
জানা গেছে, মিজানুর রশীদের বিরুদ্ধে রয়েছে নানা দুর্নীতির অভিযোগ। তবে, তিনি অদৃশ্য ক্ষমতা বলে রাষ্ট্রীয় বিমান সংস্থাটির অর্থ পরিদপ্তর আর প্রশাসন ও মানবসম্পদ পরিদপ্তরের মতো গুরুত্বপূর্ণ শাখার ভারপ্রাপ্ত পরিচালকের দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। সোমবার তাকে সেই পদ থেকে পরিচালকের পদে পদোন্নতি দেওয়া হয়। এ নিয়ে বিমানের কেন্দ্রীয় কার্যালয় বলাকায় তোলপাড় চলে। শেষ পর্যন্ত সেই পদোন্নতি আদেশ বাতিলের পর মঙ্গলবার তাকে সাসপেন্ড করা হলো।
মঙ্গলবার (১৯ মে) বিকেলে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের এমডি ও সিইও কাইজার সোহেল আহমেদ স্বাক্ষরিত এক আদেশে তাকে বরখাস্ত করা হয়।
আদেশে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ বিমান করপোরেশন এমপ্লোয়ীজ রেগুলেশনের ১৯৭৯-এর ৫৮ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী তাকে আগামী ২০ মে থেকে তাকে সাময়িক বরখাস্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
বিমান সূত্রে জানা গেছে, সোমবার (১৮ মে) সকালে প্রশাসন ও মানবসম্পদ বিভাগ থেকে মহাব্যবস্থাপক (প্রশাসন ও মানবসম্পদ) খন্দকার বাকী উদ্দিন আহম্মদের সই করা এক আদেশে মিজানুর রশীদকে পদোন্নতির কথা জানানো হয়। এই খবর প্রকাশের পর বিমানের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ হলে ওই দিন বিকেলে একই বিভাগ থেকে তার পদোন্নতি আদেশ বাতিল করা হয়।
বিমান সূত্র জানায়, সরকারি অর্থে সফটওয়্যার কেনায় প্রায় ৩ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে বিভাগীয় মামলার মুখে পড়েছিলেন মো. মিজানুর রশীদ। যদিও তিনি সেই মামলা থেকে অব্যাহতি পেয়েছেন। তবে, দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) বিষয়টি নিয়ে এখনো অনুসন্ধান চালাচ্ছে। এই অনুসন্ধানের মধ্যেই মহাব্যবস্থাপক (যানবাহন) হিসেবে দায়িত্ব পালনরত অবস্থায় গত ৪ মার্চ মিজানুর রশীদকে বদলি করে অর্থ ও হিসাব বিভাগে নেওয়া হয়। পরদিন আবার তাকে প্রশাসন ও মানবসম্পদ বিভাগের মহাব্যবস্থাপক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। একই সঙ্গে তাকে প্রশাসন ও মানবসম্পদ বিভাগের পরিচালকের অতিরিক্ত দায়িত্বও দেওয়া হয়। পাশাপাশি অর্থ বিভাগের পরিচালকের দায়িত্বও তার ওপর ন্যস্ত করা হয়েছিল।
সূত্র আরও জানায়, মিজানুর রশীদের বাবা ও বড় ভাইও বিমানের কর্মকর্তা ছিলেন। তার বড় ভাই মো. হারুন অর রশীদ ভ্রমণ ভাতা ও দৈনিক ভাতার ভুয়া ভাউচার তৈরি করে ৬ কোটি টাকা আত্মসাতের মামলায় দোষী সাব্যস্ত হন। ২০১৮ সালে আদালত তাকে পাঁচ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেন। বর্তমানে তিনি পলাতক।
আরটিভি/এমএম