images

জাতীয় / স্বাস্থ্য

এ বছর বিশ্বে হামে মৃত্যুতে শীর্ষে বাংলাদেশ

শুক্রবার, ২২ মে ২০২৬ , ০২:৪৯ এএম

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর বুধবার (২০ মে) পর্যন্ত দেশে হাম ও উপসর্গে মৃতের সংখ্যা ছিল ৪৮৮। ২০২৬ সালে বিশ্বে এটি হামে সর্বোচ্চ মৃত্যুর ঘটনা।

এর মধ্যে নিশ্চিত হামে মৃত্যু হয়েছে ৮৩ শিশুর এবং উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে আরও ৪০৫ জন। একই সময়ে হাম ও উপসর্গে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ মৃত্যু হয়েছে সুদানে। সেখানে মারা গেছে ৩৭১ জন। অথচ মার্চ পর্যন্ত আক্রান্তের সংখ্যায় বাংলাদেশের চেয়ে দুই ধাপ এগিয়ে ছিল সুদান।

সংশ্লিষ্ট দেশের স্বাস্থ্য বিভাগ এবং আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ২০২৬ সালে হাম ও উপসর্গে মৃত্যুতে বিশ্বে তৃতীয় অবস্থানে আছে পাকিস্তান। দেশটিতে হামে অন্তত ৭১ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া মেক্সিকোতে ৩২ জন, ইয়েমেনে ২৫, অ্যাঙ্গোলায় ১৫ এবং গুয়াতেমালায় ১০ জনের মৃত্যুর তথ্য পাওয়া যায়। মৃত্যুর এ সংখ্যা হামে আক্রান্ত ও উপসর্গে মারা যাওয়াদের। আর সব দেশেই মূলত শিশুরা মৃত্যুর শিকার হচ্ছে। বিভিন্ন দেশে হামে মৃত্যুর সংখ্যা নিয়ে সরকারি হালনাগাদ তথ্যের অভাব দেখা গেছে।

২০২৬ সালে বিশ্বের বেশ কয়েকটি দেশে নতুন করে হামের প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা সতর্ক করে বলেছে, টিকাদানের হার কমে যাওয়ায় বিশ্বের কিছু অঞ্চলে আবার হাম রোগের পুনরুত্থান দেখা যাচ্ছে। বাংলাদেশে হামের এ নতুন প্রাদুর্ভাব সবচেয়ে প্রাণঘাতী হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৬ সালে ভারত, পাকিস্তান, ইয়েমেন, মেক্সিকো, অ্যাঙ্গোলা, কাজাখস্তান, ইন্দোনেশিয়া, সুদান ও ক্যামেরুনসহ বহু দেশে নতুন করে হামের প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র-কানাডার মতো উন্নত দেশগুলোতেও হাম ফিরে আসার তথ্য পাওয়া গেছে। তবে মৃত্যুর সংখ্যার আধিক্যের কারণে গুরুতর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে বাংলাদেশকে ঘিরে।

আরও পড়ুন
1

হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৭ শিশুর মৃত্যু

চলতি মাসে সংস্থাটি ‘মিজেলস অ্যান্ড রুবেলা গ্লোবাল সিচুয়েশন আপডেট’ নামের একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। যেখানে ২০২৫ সালের অক্টোবর থেকে ২০২৬ সালের মার্চ পর্যন্ত বিভিন্ন দেশে হাম রোগীর সংখ্যা প্রকাশ করা হয়েছে। এতে দেখা যায়, আক্রান্তের সংখ্যায় শীর্ষ ১০ দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান সবার নিচে। আলোচ্য ছয় মাসে বাংলাদেশে হাম রোগীর সংখ্যা ছিল ৩ হাজার ২৭৬। শীর্ষ নয় দেশের মধ্যে পর্যায়ক্রমে ছিল ভারত (১৯ হাজার ৭০৫), ইয়েমেন (১১ হাজার ৩৫৪), মেক্সিকো (১০ হাজার ৬৭৮), পাকিস্তান (৯ হাজার ৬৭১), অ্যাঙ্গোলা (৬ হাজার ৯৫৮), কাজাখস্তান (৬ হাজার ৮৫৬), ক্যামেরুন (৬ হাজার ৮৫১), সুদান (৪ হাজার ৮৮০), গুয়াতেমালা (৪ হাজার ৮০২)।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুসারে, দেশের ৬৪ জেলার মধ্যে ৫৮টিতেই সংক্রমণ ছড়িয়েছে। পরীক্ষাগারে একদিকে নিশ্চিত রোগী শনাক্ত হচ্ছে, অন্যদিকে উপসর্গ নিয়ে ভুগছে অনেক শিশু। বিশেষ করে পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুদের মধ্যে আক্রান্তের হার সবচেয়ে বেশি।

আক্রান্তের তুলনায় বাংলাদেশে মৃত্যুহার বেশি হওয়ার পেছনে একাধিক কারণ কাজ করছে বলে মনে করছেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। দেশে হামে এ মৃত্যুহার এখন দশমিক ৯৮ শতাংশ। মৃত্যুহার বেশি হওয়ার কারণের মধ্যে রয়েছে নিয়মিত টিকাদানে ঘাটতি, দীর্ঘদিন এমআর (হাম-রুবেলা) ক্যাম্পেইন বন্ধ থাকা, শিশুদের অপুষ্টি, দেরিতে হাসপাতালে আসা এবং দরিদ্র জনগোষ্ঠীর মধ্যে স্বাস্থ্যসেবার সীমিত সুযোগ।

আরটিভি/এমএইচজে