বুধবার, ২৭ মে ২০২৬ , ০৬:২৮ পিএম
পবিত্র ঈদুল আযহাকে সামনে রেখে রাজধানীতে কোরবানির বর্জ্য দ্রুত অপসারণ ও পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিতে নগরবাসীর প্রতি সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম।
তিনি বলেছেন, চটের ব্যাগ ছাড়া যত্রতত্র কোরবানির বর্জ্য ফেলা যাবে না এবং ড্রেনে বর্জ্য ফেলা থেকে বিরত থাকতে হবে।
বুধবার (২৭ মে) সকালে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের সঙ্গে জাতীয় ঈদগাহ পরিদর্শন শেষে এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে প্রশাসক এসব কথা বলেন।
ডিএসসিসি প্রশাসক জানান, ঈদের জামাত শেষে রাজধানীতে তিন দিনব্যাপী কোরবানি কার্যক্রম চলবে। এই সময়ে কোরবানির সব বর্জ্য অপসারণে সিটি কর্পোরেশন সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে।
তিনি বলেন, ‘ঈদের জামাত সকাল সাড়ে ৭টার অনুষ্ঠানের পরে ঢাকা শহরে যে কোরবানি হবে, সেই কোরবানিগুলো তিনদিনব্যাপী হবে। এই তিন দিনে কোরবানির সমস্ত বর্জ্য পরিষ্কার করার জন্য আমরা সম্পূর্ণভাবে প্রস্তুত রয়েছি।’
নগরবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, নির্ধারিত স্থানে কোরবানি দিতে হবে এবং যত্রতত্র পশু জবাই করা থেকে বিরত থাকতে হবে। বর্জ্য ফেলার জন্য নগরবাসীর মধ্যে এক লাখের বেশি চটের ব্যাগ বিতরণ করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
প্রশাসক বলেন, ‘আমরা আশা করব সেই চটের ব্যাগের মধ্যে তারা বর্জ্যগুলো ফেলবেন। কোনো অবস্থাতেই কোনো ড্রেনের মধ্যে যাতে তারা বর্জ্য না ফেলেন, এই বিষয়টি আমরা বারবার গুরুত্বসহকারে বলেছি।’
তিনি বলেন, বর্তমানে বর্ষাকাল চলায় ড্রেনে বর্জ্য ফেললে জলাবদ্ধতার ঝুঁকি তৈরি হবে। ড্রেন বন্ধ হয়ে গেলে বৃষ্টির পানি উপচে রাস্তায় উঠে আসতে পারে।
মো. আবদুস সালাম বলেন, ‘বৃষ্টি হচ্ছে, বর্ষাকাল চলছে। এই মুহূর্তে যদি ড্রেনগুলো বন্ধ হয়ে যায় তাহলে পানি উপচে রাস্তায় চলে আসবে। তাই এই ব্যাপারে সবাইকে সচেতন থাকতে হবে।’
পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে সহযোগিতার জন্য নগরবাসীর মধ্যে স্যাভলন ও ব্লিচিং পাউডারও সরবরাহ করা হয়েছে উল্লেখ করে কোরবানির স্থান পরিষ্কার করে সেখানে ব্লিচিং পাউডার ও জীবাণুনাশক ব্যবহারেরও আহ্বান জানান সিটি প্রশাসক।
তিনি বলেন, ‘আমরা নগরবাসীকে স্যাভলন ও ব্লিচিং পাউডার সাপ্লাই দিয়েছি। কোরবানির জায়গা ধৌত করে সেখানে ব্লিচিং পাউডার এবং স্যাভলন ব্যবহার করবেন এবং পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের সহযোগিতা করবেন।’
এদিকে ঈদ উপলক্ষে সিটি কর্পোরেশনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ছুটি বাতিল করা হয়েছে বলেও জানান তিনি। ঈদের পুরো সময়ে তারা নগরবাসীর সেবায় নিয়োজিত থাকবেন।
সবার সহযোগিতা কামনা করে ডিএসসিসি প্রশাসক বলেন, ‘যেমন নিজের ঘর পরিষ্কার রাখি, তেমনি আশপাশের পরিবেশ ও সামনের রাস্তাও পরিষ্কার রাখার চেষ্টা করতে হবে। আমরা যদি সবাই বদলাই, তাহলে ঢাকা শহরও বদলাবে।’
তিনি আরও বলেন, পরিচ্ছন্ন ও সবুজ নগরী গড়তে সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টা প্রয়োজন। একটি পরিচ্ছন্ন ও বাসযোগ্য ঢাকা গড়তে নগরবাসীর সচেতন সহযোগিতাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
আরটিভি/ এসকেডি