রোববার, ১৪ জুন ২০২৬ , ০২:৩৫ পিএম
রাজধানীর পল্লবীতে আট বছরের শিশু রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা মামলার প্রধান আসামি সোহেল রানা জেল আপিলে নিজের অপরাধ স্বীকার করে আদালতের কাছে ক্ষমা চেয়েছেন। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত এই আসামি দাবি করেছেন, আর্থিক সংকট, পারিবারিক অশান্তি এবং মাদকাসক্তির কারণে তিনি এই ভয়াবহ ঘটনার সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন।
রোববার (১৪ জুন) হাইকোর্টে করা জেল আপিলে সোহেল রানা বলেন, তিনি অটোরিকশা গ্যারেজে মিস্ত্রির কাজ করতেন এবং নিয়মিত মাদক সেবন করতেন। মাদকাসক্তির কারণে পরিবারে প্রায়ই ঝগড়া-বিবাদ হতো বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
জবানবন্দিতে সোহেল দাবি করেন, ঘটনার সময় তিনি মাদকাসক্ত ও নেশাগ্রস্ত ছিলেন। আর্থিক অভাব, পারিবারিক অশান্তি ও মাদকের প্রভাবে ঘটনাটি অনিচ্ছাকৃতভাবে ঘটেছে বলে তিনি আদালতকে জানান।
সোহেল রানা বলেন, আমি ভুল করেছি, আমি ক্ষমা চাই। আমার একটি মাত্র ছেলে আছে। তার পড়াশোনা ও পরিবারের ভরণ-পোষণের জন্য আর কেউ নেই।
অন্যদিকে, একই মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত স্বপ্না আক্তার জেল আপিলে নিজেকে নির্দোষ দাবি করে খালাস চেয়েছেন।
এর আগে গত ১১ জুন কারা কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে হাইকোর্টে জেল আপিল করেন সোহেল রানা ও স্বপ্না আক্তার। রোববার (১৪ জুন) হাইকোর্ট তাদের জেল আপিল শুনানির জন্য গ্রহণ করেন।
উল্লেখ্য, মামলার নথি অনুযায়ী, গত ১৯ মে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে পল্লবীর বাসা থেকে বের হয় পপুলার মডেল হাই স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী রামিসা। প্রতিবেশী স্বপ্না খাতুন তাকে কৌশলে নিজেদের বাসায় ডেকে নেন। পরে রামিসাকে খুঁজে না পেয়ে খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে সোহেলের দরজার সামনে মেয়ের জুতা দেখতে পান তার মা। কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে প্রতিবেশীদের সহায়তায় দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকে শয়নকক্ষের মেঝেতে রামিসার মস্তকবিহীন মরদেহ এবং একটি বালতির ভেতর তার কাটা মাথা দেখতে পান বাবা-মা। পরে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এর মাধ্যমে খবর পেয়ে পুলিশ স্বপ্নাকে আটক করে এবং তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থেকে মূল ঘাতক সোহেল রানাকে গ্রেপ্তার করে।
এই ঘটনায় পরদিন ২০ মে রাতে শিশুটির বাবা পল্লবী থানায় মামলা করেন।
আরটিভি/জেএমএ