images

জাতীয়

ভারতে কী ঘটেছিল, জানালেন তথ্য উপদেষ্টা

মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬ , ০৩:২৫ পিএম

ভারতের দিল্লি বিমানবন্দরে ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষের অনাকাঙ্ক্ষিত আচরণের মুখে পড়ার বিষয়ে মুখ খুলেছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। 

মঙ্গলবার (১৬ জুন) সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, সেখানে তাকে কোনো রুমে আটকে রাখা বা জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়নি, তবে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা হিসেবে তার সঙ্গে যে ধরনের আচরণ প্রত্যাশিত ছিল, তা করা হয়নি। আত্মসম্মান রক্ষার্থেই তিনি তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্তে দেশে ফিরে এসেছেন।

দিল্লিতে ইন্ডিয়ান ওশান রিম অ্যাসোসিয়েশনের (আইওআরএ) সম্মেলনে বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের নেতা হিসেবে অংশ নেওয়ার কথা ছিল ডা. জাহেদ উর রহমানের। তার সফরের বিষয়টি শুক্রবার (১২ জুন) দিল্লিতে বাংলাদেশ হাইকমিশনের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে কূটনৈতিক পত্রের মাধ্যমে জানানো হয়েছিল। এত আনুষ্ঠানিকতার পরও  রোববার (১৪ জুন) সন্ধ্যায় দিল্লি বিমানবন্দরে অবতরণের পর তাকে রহস্যজনক কারণে ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ প্রায় আড়াই ঘণ্টা বসিয়ে রাখে। তাকে দিল্লিতে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হবে কি না, সে বিষয়েও কোনো স্পষ্ট তথ্য দেওয়া হয়নি।

আরও পড়ুন
jahed666

দিল্লিতে প্রবেশে বাধা, কলম্বো হয়ে ঢাকায় ফিরলেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা 

বিষয়টিকে নিজের ও রাষ্ট্রের আত্মসম্মানে আঘাত হিসেবে দেখে ভারতের ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষের কাছে নিজের পাসপোর্ট ফেরত চান জাহেদ উর রহমান এবং তাৎক্ষণিক দেশে ফিরে আসার সিদ্ধান্ত নেন। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে ইমিগ্রেশন কর্মকর্তারা বারবার তাকে আন্তরিকতার সঙ্গে ভারতে প্রবেশের অনুরোধ জানালেও তিনি নিজের সিদ্ধান্তে অটল থাকেন। এরপর এয়ার ইন্ডিয়ার একটি ফ্লাইটে রোববার রাতেই তিনি কলম্বোর উদ্দেশে রওনা দেন এবং সেখান থেকে শ্রীলঙ্কান এয়ারলাইনসের ফ্লাইটে সোমবার (১৫ জুন) বেলা পৌনে ১২টার দিকে ঢাকায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করেন।

আজকের ব্রিফিংয়ে এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাকে ‘হেনস্থা’ হিসেবে উল্লেখ করে সাংবাদিকেরা প্রশ্ন করলে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, ‘ওখানে কোনো রুমে নিয়ে আটকে রাখা হয়েছে বা জেরা করা হয়েছে—বিষয়টি একদম তেমন নয়। একটা জায়গায় বসতে দেওয়া হয়েছিল। আমার সঙ্গে দৃশ্যত কোনো দুর্ব্যবহার করা হয়েছে তাও বলব না, তবে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা হিসেবে প্রটোকল অনুযায়ী আমার সঙ্গে যে ট্রিট করার কথা ছিল, সেটি করা হয়নি।’

পরিস্থিতি আরও জটিল করতে চাননি উল্লেখ করে ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, ‘আমি সিচুয়েশনটাকে বেশি খারাপ করতে চাইনি এবং সেই বার্তাও ওদের দিয়ে এসেছি। চাইলে আমরা আমাদের পুরো প্রতিনিধিদলকে সম্মেলন থেকে প্রত্যাহার করে নিতে পারতাম, কিন্তু তা করা হয়নি। আমার সঙ্গে যে আচরণ হয়েছে, তার একটি তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া আমি সেদিনই দেখিয়েছি।’ তবে এই ঘটনার পরও ভবিষ্যতে ভারত সরকার যদি যথাযথ সম্মান প্রদর্শনপূর্বক আমন্ত্রণ জানায়, তবে তিনি আবারও দেশটিতে যাবেন বলে জানান।

এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে ভারতের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক ভুল স্বীকার বা ক্ষমা চাওয়া উচিত কি না—সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে উপদেষ্টা জানান, এটি পুরোপুরি একটি কূটনৈতিক বিষয়। রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে কী পদক্ষেপ নেওয়া হবে, সেটি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় খতিয়ে দেখছে। রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পর্যায়ে দ্বিপক্ষীয় আলোচনার মাধ্যমেই এই স্পর্শকাতর বিষয়টি সুরাহা করা হবে।

আরটিভি/এআর