images

জাতীয় / অর্থনীতি

সরকারি রাজস্ব ও অন্যান্য প্রাপ্তি জমায় বাধ্যতামূলক হচ্ছে ‘এ-চালান’ 

মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬ , ০৮:৩৭ পিএম

সরকারি রাজস্ব ও অন্যান্য সব ধরনের সরকারি প্রাপ্তি জমার ক্ষেত্রে আগামীকাল ১ জুলাই থেকে এ-চালান বাধ্যতামূলক করেছে সরকার। নতুন অর্থবছরের শুরু থেকে কোনো মন্ত্রণালয়, বিভাগ, অধিদপ্তর, স্বায়ত্তশাসিত সংস্থা বা অধীনস্থ দপ্তর এ-চালানের বাইরে অন্য কোনো মাধ্যমে সরকারি অর্থ সংগ্রহ ও জমা দিতে পারবে না।

মঙ্গলবার (৩০ জুন) অর্থ বিভাগের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সরকারি অর্থ তাৎক্ষণিকভাবে ট্রেজারি সিঙ্গেল অ্যাকাউন্টে (টিএসএ) জমা নিশ্চিত করা, নগদ ব্যবস্থাপনাকে আরও কার্যকর করা, আর্থিক স্বচ্ছতা বৃদ্ধি এবং ম্যানুয়াল চালান ব্যবস্থা সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করতেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বর্তমানে সরকারি অর্থ সংগ্রহে ব্যবহৃত পৃথক কোনো ব্যবস্থা থাকলে তা বন্ধ করতে হবে। পাশাপাশি বাণিজ্যিক ব্যাংকের বিভিন্ন হিসাবে সংরক্ষিত সরকারি অর্থ ৩০ জুনের মধ্যে এ-চালানের মাধ্যমে সরকারের ট্রেজারি সিঙ্গেল অ্যাকাউন্টে স্থানান্তরের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

অর্থ বিভাগ জানায়, এ-চালান প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার, লেনদেন ও আদায়ের পরিমাণে গত অর্থবছরে রেকর্ড প্রবৃদ্ধি হয়েছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে এ ব্যবস্থার মাধ্যমে সরকারি কোষাগারে জমা হয়েছে ৪ লাখ ৭ হাজার ২২৫ কোটি ৯৪ লাখ টাকা। আগের অর্থবছরে এ পরিমাণ ছিল ২ লাখ ৬৫ হাজার ৭০৮ কোটি টাকা। এক বছরের ব্যবধানে আদায় বেড়েছে প্রায় ৫০ শতাংশ।

একই সময়ে ৬ কোটি ৭৫ লাখ চালান প্রক্রিয়াকরণ হয়েছে, যা ২০২৪-২৫ অর্থবছরের তুলনায় ৭১ দশমিক ৭ শতাংশ বেশি। ২০১৯-২০ অর্থবছরে মাত্র ১৭টি চালানের মাধ্যমে যাত্রা শুরু করা এ-চালান প্ল্যাটফর্মে সাত অর্থবছরে ১৯ কোটি ৩ লাখের বেশি চালান প্রক্রিয়াকরণ হয়েছে এবং সরকারি হিসাবে জমা হয়েছে ১০ লাখ ৬৩ হাজার কোটি টাকারও বেশি।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে অনলাইন চালানের সংখ্যা ৯২ শতাংশ বেড়ে ৫ কোটি ৩৬ লাখে পৌঁছেছে। অনলাইনে আদায়ের পরিমাণ ৫৪ দশমিক ৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়িয়েছে ১১ হাজার ২৯৮ কোটি ১২ লাখ টাকায়। একই সময়ে ওভার দ্য কাউন্টার (ওটিসি) লেনদেনের মাধ্যমে জমা হয়েছে ৩ লাখ ৮৬ হাজার ৩৯৭ কোটি ৫৫ লাখ টাকা।

অর্থ বিভাগের মতে, এ-চালানের পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়নের ফলে সরকারের প্রকৃত নগদ অবস্থান সম্পর্কে তাৎক্ষণিক ও নির্ভুল তথ্য পাওয়া সম্ভব হবে। বিভিন্ন ব্যাংক হিসাবে ছড়িয়ে থাকা অলস সরকারি অর্থ কমবে এবং নগদ ব্যবস্থাপনা আরও দক্ষ ও ব্যয়-সাশ্রয়ী হবে।

আরও পড়ুন
19

জুলাই মাসের জন্য জ্বালানি তেলের দাম ঘোষণা  

অতীতে সরকারি ফি বা রাজস্ব জমার জন্য অনেক ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট ব্যাংক শাখায় যেতে হতো। এতে সেবাগ্রহীতাদের সময়, অর্থ ও শ্রম ব্যয় হতো। পাশাপাশি সরকারি কোষাগারে অর্থ স্থানান্তরে বিলম্ব, হিসাব সমন্বয়ে জটিলতা এবং ভুয়া চালান তৈরির ঝুঁকিও ছিল। এ-চালান ব্যবস্থা এসব সীমাবদ্ধতা দূর করেছে।

বর্তমানে বাংলাদেশ ব্যাংক ও সব তফসিলি ব্যাংকের শাখা কাউন্টার, ইন্টারনেট ব্যাংকিং, বিকাশ, নগদ, রকেট, উপায়, ট্যাপসহ বিভিন্ন মোবাইল আর্থিক সেবা এবং ডেবিট ও ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে সরকারি রাজস্ব ও সেবা ফি জমা দেওয়া যাচ্ছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এ ব্যবস্থার মাধ্যমে নাগরিকরা যেকোনো স্থান থেকে সহজে সরকারি অর্থ পরিশোধ করতে পারছেন। অর্থ জমা হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে চালান রসিদ তৈরি হয় এবং তাৎক্ষণিকভাবে ব্যবহার করা যায়। অন্যদিকে সরকারের জন্যও জমা হওয়া অর্থ তাৎক্ষণিকভাবে ট্রেজারি সিঙ্গেল অ্যাকাউন্টে স্থানান্তরিত হওয়ায় প্রাপ্তির তথ্য রিয়েল-টাইমে পর্যবেক্ষণ, আর্থিক স্বচ্ছতা বৃদ্ধি এবং ঋণ ব্যবস্থাপনা আরও কার্যকর করা সম্ভব হচ্ছে।

এছাড়া স্বয়ংক্রিয় হিসাব সমন্বয়, তাৎক্ষণিক রাজস্ব পর্যবেক্ষণ এবং চালান যাচাইয়ের সুবিধার কারণে ভুয়া চালান, জাল দলিল ও রাজস্ব ফাঁকির ঝুঁকিও উল্লেখযোগ্যভাবে কমছে বলে জানিয়েছে অর্থ বিভাগ।

বৃহত্তর সরকারি আর্থিক ব্যবস্থাপনা সংস্কারের অংশ হিসেবে ২০১৯-২০ অর্থবছরে অর্থ বিভাগ এ-চালান চালু করে। এর লক্ষ্য ছিল সরকারি অর্থ দ্রুত কোষাগারে জমা নিশ্চিত করা, রাজস্ব ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা ও স্বচ্ছতা বৃদ্ধি, ভুয়া চালান প্রতিরোধ এবং সরকারের নগদ অবস্থান সম্পর্কে নির্ভুল তথ্যপ্রাপ্তি নিশ্চিত করা।

আরটিভি/ এসকেডি