মঙ্গলবার, ০৭ জুলাই ২০২৬ , ১২:৫৪ পিএম
সারা দেশে এমনিতেই চাহিদার তুলনায় গ্যাসের তীব্র সংকট চলছে। এর মধ্যে ঢাকাসহ দেশবাসীর জন্য নতুন করে বড় এক দুঃসংবাদ এসেছে। সমুদ্রে দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে কক্সবাজারের মহেশখালীতে দুটি ভাসমান টার্মিনাল থেকে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) রূপান্তর ও সরবরাহ প্রায় ৩০ শতাংশ কমে গেছে। এর ফলে সারা দেশে গ্যাসের সামগ্রিক সরবরাহ এক ধাক্কায় অনেকটা কমে গেছে, যার চরম খেসারত দিতে হবে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের সাধারণ গ্রাহকদের।
বাংলাদেশ তেল, গ্যাস ও খনিজ সম্পদ করপোরেশন (পেট্রোবাংলা) সূত্র জানায়, দেশের দুটি ভাসমান টার্মিনাল থেকে দিনে ১০০ থেকে ১০৫ কোটি ঘনফুট এলএনজি সরবরাহ করা হচ্ছিল। তবে সমুদ্রে প্রতিকূল আবহাওয়া পরিস্থিতির কারণে সোমবার (৬ জুলাই) গভীর রাত থেকে ধাপে ধাপে ৩০ কোটি ঘনফুট সরবরাহ কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে দৈনিক মাত্র ৭৫ কোটি ঘনফুট এলএনজি সরবরাহ করা হচ্ছে। আবহাওয়া পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়া পর্যন্ত সরবরাহ বাড়ানোর কোনো সুযোগ নেই।
দেশে দৈনিক সরবরাহ করা মোট গ্যাসের প্রায় ৩৫ থেকে ৪০ শতাংশ আসে আমদানি করা এলএনজি থেকে। ফলে এলএনজির সরবরাহ এক দিনেই ৩০ কোটি ঘনফুট কমায় দেশজুড়ে আকস্মিক গ্যাসের বড় সংকট তৈরি হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, এই সরবরাহের ঘাটতির কারণে ইতিমধ্যে সারা দেশে বড় ধরনের প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। অনেক এলাকায় আবাসিক গ্রাহকদের রান্নার চুলা জ্বালাতে চরম ভোগান্তি পোহাতে হতে পারে। পাশাপাশি শিল্পকারখানাও চাহিদামতো গ্যাস পাবে না এবং গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদনও ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
গ্যাসের সরবরাহ হঠাৎ কমে যাওয়ায় গ্রাহকদের সতর্ক করে দুঃখ প্রকাশ করেছে রাজধানী ঢাকা ও আশপাশের জেলায় গ্যাস বিতরণকারী প্রতিষ্ঠান তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিশট্রিবিউশন পিএলসি।
তিতাসের পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে মহেশখালীর টার্মিনালগুলো থেকে এলএনজি সরবরাহ প্রায় ৩০ কোটি ঘনফুট কমেছে। এ কারণে তিতাস গ্যাসের আওতাভুক্ত এলাকার সব শ্রেণির গ্রাহকপ্রান্তে গ্যাসের স্বল্প চাপ বিরাজ করবে। আবহাওয়া ও এলএনজি সরবরাহ পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়া পর্যন্ত গ্যাসের এই তীব্র সংকট ও কম চাপ অব্যাহত থাকবে।
আরটিভি/এআর