বুধবার, ০৮ জুলাই ২০২৬ , ০২:০১ পিএম
বৈষম্যের শিকার হয়ে অযৌক্তিকভাবে চাকরিচ্যুতির অভিযোগে আবেদন করা সাবেক সেনাসদস্যদের মধ্যে প্রথম ধাপে ১৬২ জন সৈনিক ভূতাপেক্ষ পদোন্নতি ও অবসরজনিত সুযোগ-সুবিধা পাচ্ছেন। এছাড়া একই প্রক্রিয়ায় রয়েছেন আরও অন্তত ৫০০ জন।
বুধবার (৮ জুলাই) প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, চাকরি ফিরে পাওয়া অথবা ভূতাপেক্ষ পদোন্নতি ও অন্যান্য সুবিধার দাবিতে বরখাস্ত বা অব্যাহতিপ্রাপ্ত সৈনিক পর্যায়ের এক হাজার ৩০০ জনের বেশি সাবেক সেনাসদস্য আবেদন করেন। এসব আবেদন যাচাই-বাছাইয়ের জন্য গঠিত পর্ষদ কয়েক ধাপের পর্যালোচনার মাধ্যমে প্রায় ৮৫০টি আবেদনকে যৌক্তিক হিসেবে চিহ্নিত করে।
এরপর পর্যালোচনা কমিটি প্রথম ধাপে প্রায় ৩৫০টি আবেদন নিষ্পত্তি করে। এর মধ্যে প্রায় ১৬২ জন সাবেক সেনাসদস্যের ক্ষেত্রে ভূতাপেক্ষ পদোন্নতি বা প্রাপ্য সুযোগ-সুবিধা দেওয়ার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। ইতোমধ্যে তাদের মধ্যে কয়েকজন অবসরকালীন আর্থিক ও অন্যান্য সুবিধা পেতে শুরু করেছেন। অন্যরাও শিগগির এসব সুবিধা পেতে শুরু করবেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি।
বর্তমানে পর্ষদের অনুমোদন পাওয়া বাকি প্রায় ৫০০টি আবেদন পর্যালোচনার বিভিন্ন ধাপে রয়েছে। প্রতিটি আবেদন একাধিক স্তরে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে সংশ্লিষ্ট অভিযোগ, চাকরিচ্যুতির কারণ এবং নথিপত্র খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানা গেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর ভাষ্য, যাচাই-বাছাইয়ের সময় দেখা গেছে, কিছু আবেদনকারী মাদকাসক্তি, পরকীয়াসহ বিভিন্ন নৈতিক স্খলন বা শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে চাকরি হারিয়েছিলেন। এরপরও তারা বৈষম্য ও অন্যায়ের শিকার হওয়ার দাবি তুলে চাকরি পুনর্বহাল বা ভূতাপেক্ষ সুযোগ-সুবিধার জন্য আবেদন করেন। এসব ক্ষেত্রে অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এদিকে বর্তমানে সাবেক সৈনিকদের একটি অংশ আন্দোলনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি, এই আন্দোলনে বিভিন্ন অপরাধে অভিযুক্ত বা শাস্তিপ্রাপ্ত কিছু সাবেক সেনাসদস্য সক্রিয় ভূমিকা রাখছেন। তাদের উসকানিমূলক কর্মসূচির কারণে প্রকৃতভাবে সুপারিশপ্রাপ্ত ও সুযোগ-সুবিধা পাওয়ার অপেক্ষায় থাকা আবেদনকারীরা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারেন বলে আশঙ্কা করছে সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র।
প্রসঙ্গত, গত সপ্তাহে সশস্ত্র বাহিনীর ১৫০ জন সামরিক কর্মকর্তাকে ভূতাপেক্ষ পদোন্নতি ও বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় তথা সরকার। বিষয়টি বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশ হওয়ার পর প্রায় একই ধরনের বিষয়ে আবেদন করা সৈনিকদের মধ্যেও কেউ কেউ তীব্র উস্কানি বা ক্ষোভ ও প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করে আন্দোলন কর্মসূচি ঘোষণা করেন।
আরটিভি/এমএ