images

জাতীয়

মডেল মসজিদ প্রকল্পের দুর্নীতি তদন্ত করা হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬ , ০৬:০০ পিএম

বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বাস্তবায়িত মডেল মসজিদ নির্মাণ প্রকল্পে দুর্নীতির বিষয়গুলো তদন্ত করা হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। বক্তব্যে আলোচিত এ প্রকল্পের ব্যয় ১৩ কোটি টাকা থেকে বাড়িয়ে ২১ কোটি টাকায় উন্নীত করার বিষয়টিকে অত্যন্ত গর্হিত ও ন্যক্কারজনক বলে উল্লেখ করেন তিনি। 

সোমবার (১৩ জুলাই) জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশনে প্রশ্নোত্তর পর্বে ধর্মমন্ত্রীর পক্ষে জবাব দিতে গিয়ে এসব কথা জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। 

সংসদে নোয়াখালী-২ আসনের সংসদ সদস্য জয়নুল আবদীন ফারুকের সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, বিগত ফ্যাসিবাদী সরকারের আমলে অর্থ লোপাটের উদ্দেশ্যে বিভিন্ন প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছিল। মসজিদের নামে করা এসব অনিয়ম কেবল দুর্নীতি নয়, বরং ধর্মীয় অবমাননার শামিল। 

তিনি বলেন, দেবপ্রিয় ভট্টাচার্যের শ্বেতপত্রেও মেগাপ্রকল্পের নামে মেগা দুর্নীতির চিত্র ফুটে উঠেছে, যেখানে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে সময় ও ব্যয় কয়েকগুণ বাড়িয়ে লুটপাট করা হয়েছে। মডেল মসজিদের ক্ষেত্রেও ঠিক একইভাবে ব্যয় বাড়ানো হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে সরকার বদ্ধপরিকর। ইসলামের নাম ভাঙিয়ে যারা এই অপকর্ম করেছে, তাদের চিহ্নিত করতে প্রতিটি মডেল মসজিদের নির্মাণকাজ ও ব্যয় নিয়ে আলাদাভাবে তদন্ত পরিচালনা করতে মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দেওয়া হবে। 

এই তদন্ত প্রক্রিয়ায় সরকারের অন্যান্য সংস্থাও অন্তর্ভুক্ত হতে পারে বলে জানান মন্ত্রী।

এ সময় জয়নুল আবদীন ফারুক অভিযোগ করে বলেন, অধিকাংশ মডেল মসজিদ মানসম্মতভাবে নির্মিত হয়নি এবং নির্মাণের পরপরই অনেকগুলো ভেঙে পড়ার উপক্রম হয়েছে। তার নিজের নির্বাচনী এলাকা সেনবাগের মডেল মসজিদের অবস্থা তুলে ধরে তিনি বলেন, সেখানে মসজিদে প্রবেশ করাই দায় এবং ছাদ দিয়ে পানি পড়ে। একই সুর শোনা যায় ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামালের কণ্ঠেও। 

আরও পড়ুন
Rohingya

রোহিঙ্গাদেরকে মিয়ানমারে ফেরত পাঠাতে নতুন কমিটি, নেতৃত্বে প্রধানমন্ত্রী

নিজের এলাকার দুর্গাপুর মডেল মসজিদের দুরবস্থার বর্ণনা দিয়ে তিনি জানান, দুর্গম স্থানে মসজিদ তৈরি করে সেটিকে স্থানীয়দের কাছে তাজমহল হিসেবে হাস্যরসে পরিণত করা হয়েছে, যেখানে পৌঁছাতে এখন নতুন করে ব্রিজের প্রয়োজন পড়ছে।

এদিকে, একই অধিবেশনে নরসিংদী-১ আসনের সংসদ সদস্য খায়কুল কবির খোকনের প্রশ্নের জবাবে ধর্মমন্ত্রীর পক্ষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী দেশের সব ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের ইমাম, মুয়াজ্জিন, খাদেম, পুরোহিত, সেবাইত এবং বৌদ্ধ ধর্মীয় নেতাদের চলমান কর্মসূচির আওতায় আনার প্রক্রিয়া চলছে। এরইমধ্যে ১৩ হাজার ৯৪৯ জনের অনুকূলে সম্মানী দেওয়া হয়েছে। এছাড়া চট্টগ্রাম-১৫ আসনের সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরীর প্রশ্নের জবাবে ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফজ্জল হোসাইন (কায়কোবাদ) জানান, দেশে বর্তমানে ৫ লাখ ৩৭ হাজার ৫৫০ দশমিক ৯৮ একর নিবন্ধিত ওয়াকফ সম্পত্তি রয়েছে, যার মধ্যে অবৈধ দখলদারদের হাত থেকে ২৭ দশমিক ৫৩ একর সম্পত্তি উদ্ধার করা হয়েছে।

আরটিভি/এসএইচএম