শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬ , ১০:৫৯ পিএম
প্রবাসীদের সামাজিক মর্যাদা বৃদ্ধি ও ক্ষমতায়নের লক্ষ্যে বড় এক উদ্যোগ নিতে যাচ্ছে বর্তমান সরকার। আগামী মাসের মধ্যেই বিশ্বের বিভিন্ন দেশে কর্মরত প্রবাসীদের জন্য পরীক্ষামূলকভাবে শুরু হতে যাচ্ছে প্রবাসী কার্ডের কার্যক্রম। ডুয়াল কারেন্সি কার্ডে আন্তর্জাতিক পেমেন্ট এবং ব্যাংকিং সুবিধার পাশাপাশি প্রবাসীদেরকে আর্থিক প্রণোদনাও দেওয়া হবে এই একই কার্ডে।
শনিবার (১৮ জুলাই) প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের চামেলী হলে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে প্রবাসী কার্ড চালুর উদ্যোগ-সংক্রান্ত এক বৈঠকে এ তথ্য জানানো হয়। প্রধানমন্ত্রীর ডেপুটি প্রেস সেক্রেটারি শাহাদাৎ স্বাধীন বিষয়টি জানিয়েছেন।
বৈঠকে জানানো হয়, সরকারের নির্বাচনি অঙ্গীকারের অংশ হিসেবে এরই মধ্যে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড ও ক্রীড়া কার্ড বাস্তবায়নের কার্যক্রম শুরু হয়েছে। প্রবাসী কার্ডও সরকারের নির্বাচনি অঙ্গীকারের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। সেই ধারাবাহিকতায় এর পরীক্ষামূলক কার্যক্রম শুরু হচ্ছে।
প্রবাসী কার্ডের মাধ্যমে অন্তত ১০টি বিশেষ সুবিধা পাবেন প্রবাসীরা। এসব সুবিধার মধ্যে রয়েছে- দেশে ও বিদেশে কমপ্লিমেন্টারি এয়ারপোর্ট লাউঞ্জ ব্যবহারের সুযোগ, বিশেষ ইমিগ্রেশন বুথের মাধ্যমে দ্রুত সেবা, আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে কমপ্লিমেন্টারি মিট অ্যান্ড গ্রিট সেবা, বিমান টিকিট ও হোটেল বুকিংয়ে বিশেষ ছাড়, দেশে ও বিদেশে ন্যায্যমূল্যে গাড়ি বুকিং এবং সিগনেচার কার্ডধারীদের জন্য বিমানবন্দর থেকে নিয়ে যাওয়া ও আসা।
এছাড়া, সরকারি হাসপাতালে প্রবাসী সেবা বুথ ও বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাসেবায় বিশেষ ছাড়, কার্ডধারীর মৃত্যু হলে বিনা খরচে মরদেহ দেশে পরিবহনের সুবিধা, প্রবাসফেরতদের পুনর্বাসন ও বিমা সুবিধা, জমি রেজিস্ট্রেশন, নামজারি, পরিষেবা সংযোগ, লাইসেন্স প্রদান ও বৈদেশিক বিনিয়োগে অগ্রাধিকার, রেমিট্যান্স রিওয়ার্ড পয়েন্ট, ক্রেডিট স্কোরিং, ঋণ সুবিধা, কার্ডের মাধ্যমে সরাসরি অর্থ প্রেরণ ও সহজ লেনদেনের সুবিধা এবং জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি), পাসপোর্ট, কনস্যুলার সেবা, ব্যাংকিং ও সরকার প্রদত্ত অন্যান্য সেবায় অগ্রাধিকার থাকবে।
সভায় আরও জানানো হয়, আগস্টের মাঝামাঝি সময়ে প্রবাসী কার্ডের পরীক্ষামূলক উদ্বোধন করা হবে। প্রথম পর্যায়ে রাষ্ট্রায়ত্ত জনতা ব্যাংকের মাধ্যমে প্রবাসী ডেবিট কার্ড ইস্যু করা হবে। ডিসেম্বরের মধ্যে ৫০ হাজার এবং আগামী বছরের জুন মাসের মধ্যে দুই লাখ প্রবাসী কার্ড বিতরণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
এছাড়া, দ্বিতীয় পর্যায়ে প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংকের মাধ্যমে প্রবাসী কার্ড-সংক্রান্ত সব কার্যক্রম পরিচালিত হবে।
সভায় জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষকে আরও সময়োপযোগী ও আধুনিক করতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দেন প্রধানমন্ত্রী। একই সঙ্গে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অবস্থানরত সব বাংলাদেশি প্রবাসী যাতে প্রবাসী কার্ডের আওতায় আসতে পারেন, সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন তিনি।
বৈঠকে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ ও মাহদী আমিন, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী শাকিরুল ইসলাম খান এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
আরটিভি/এসএইচএম