মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬ , ০৮:১৫ এএম
জুলাইয়ের সম্মিলিত চেতনা বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক মূল্যবান সম্পদ, যা ভবিষ্যৎ রাষ্ট্রচিন্তার অন্যতম প্রেরণা হয়ে থাকবে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী।
সোমবার (২৭ জুলাই) সন্ধ্যায় নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয় এবং ‘জুলাই শহীদ স্মৃতি ফাউন্ডেশন’-এর যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান-২০২৪ স্মরণানুষ্ঠানে’ বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, মূল উপলব্ধিটি হলো, আপনি সংবিধান সংশোধন করলেন, পার্লামেন্ট অ্যাক্টের মাধ্যমে আইন প্রণয়ন করলেন, কিন্তু দেখা গেল কোন এক সময় ছিদ্রপথে ফ্যাসিবাদের আগমন ঘটলো। তখন এই আইনগুলো কিন্তু আমাদের সুরক্ষা দিতে পারে না। যেমন শেখ হাসিনা তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থার জন্য ধ্বংসাত্মক আন্দোলন করেছিলেন, আবার পরবর্তীতে নিজের হাতেই তা সংবিধান থেকে মুছে দিয়েছিলেন। তাই কাগজে লেখা একটি আইন সবাই মান্য করবে, এমন কোনো কথা নেই। মূল বিষয়টি হলো মানুষের মানসিকতা। এটি শুধু লিগ্যাল বা আইনি বিষয় নয়, এটি একটি মনস্তাত্ত্বিক বিষয়।
তিনি আরও বলেন, রাজনীতিবিদদের একটি কমন পয়েন্টে আসতেই হবে। আমরা মতাদর্শগত ঝগড়া-ঝাটি বা আলোচনা-সমালোচনা করলেও, সমগ্র রাষ্ট্রব্যবস্থা যেন একটি ধ্বংসস্তূপে পরিণত না হয়, সেই দিকটা মাথায় রেখে কাজ করতে হবে। মানসিকতার এই পরিবর্তন না হলে সংবিধান সংশোধন বা আইন প্রণয়ন, কোনোটিই কার্যকর হবে না।
রিজভী বলেন, শুধু ভূখণ্ড, অর্থনীতি কিংবা রাজনৈতিক কাঠামোর ওপর একটি জাতির শক্তি নির্ভর করে না। তার প্রকৃত ভিত্তি নির্মিত হয় ইতিহাস, স্মৃতি ও মূল্যবোধের ওপর। জাতীয় স্মৃতি কোনো অতীতচারিতা নয়; এটি একটি জাতির আত্মপরিচয়ের ভিত্তি, নৈতিক চেতনার উৎস এবং ভবিষ্যৎ নির্মাণের দিকনির্দেশনা। যে জাতি তার ইতিহাসকে সত্যনিষ্ঠভাবে ধারণ করতে পারে, সে অতীতের ভুল থেকে শিক্ষা নেয়, অর্জনকে সংরক্ষণ করে এবং ভবিষ্যৎকে আরও দায়িত্বশীলভাবে নির্মাণ করে। পক্ষান্তরে, ইতিহাস যদি রাজনৈতিক সুবিধাবাদ বা সাময়িক ক্ষমতার স্বার্থে ব্যবহৃত হয়, তবে তা ক্ষণিকের আবেগ সৃষ্টি করতে পারে, কিন্তু দীর্ঘমেয়াদে জাতীয় ঐক্যমত বা সুস্থ রাজনৈতিক সংস্কৃতি গড়ে তুলতে পারে না। তাই ইতিহাসের প্রতি প্রকৃত দায়বদ্ধতা মানে শুধু স্মরণ নয় সত্যের প্রতি আনুগত্য এবং সেখান থেকে শিক্ষা গ্রহণের মানসিকতা।
রিজভী আরও বলেন, রাজনৈতিক বা ব্যক্তিগত জীবনে কেবল ভাগ্যের ওপর নির্ভর না করে কঠোর পরিশ্রমের ওপর গুরুত্ব আরোপ করতে হবে। ‘লক্ষ্য অর্জনে কঠোর পরিশ্রমের কোনো বিকল্প নেই। একটি আদর্শিক বোধ রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের মনে থাকলে রাজনৈতিক সাফল্য আসবেই।
আরটিভি/টিআর