images

জাতীয়

রক্তমাখা পতাকা নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ সেই শেখ আজিজুরের

বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬ , ০৬:০১ পিএম

মাথায় গুলির ক্ষত। শরীরের বিভিন্ন স্থানে ৩৬টি বুলেটের স্প্লিন্টারের চিহ্ন। জুলাই আন্দোলনের মাঠে গুরুতর আহত অবস্থায় মাথার রক্ত বন্ধ করতে যে জাতীয় পতাকা বেঁধেছিলেন, সেই পতাকা রক্তে ভিজে গিয়েছিল। সেই রক্তমাখা পতাকা হাতে নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করলেন শেখ আজিজুর রহমান।

বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) দুপুরে বাংলাদেশ সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এই সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। এই সাক্ষাতের মধ্য দিয়ে আজিজুরের দীর্ঘদিনের স্বপ্ন পুরণ হলো। আজিজুরের ইচ্ছা ছিল ওই পতাকাটি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের হাতে তুলে দেওয়ার। আজ তিনি রক্তক্ষরণ ঠেকাতে মাথায় বাঁধা সেই পতাকা প্রধানমন্ত্রীর হাতে তুলে দেন। 

সম্প্রতি আজিজুরকে নিয়ে গণমাধ্যমে একটি সংবাদ প্রকাশিত হয়। ‘গুলিবিদ্ধ হওয়ার পরও শুধু ছাত্রদল করার কারণে মেলেনি জুলাই যোদ্ধার স্বীকৃতি’—শিরোনামে প্রকাশিত সংবাদটি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নজরে আসলে তার অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমনকে বিষয়টি খোঁজখবর নেওয়ার নির্দেশ দেন।  স্বাক্ষাতের জন্য নিয়ে আসা হয় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে। 

আরও পড়ুন
6

দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে খুলেছে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার: মাহদী আমিন

এ সময় প্রধানমন্ত্রী মনোযোগ দিয়ে আজিজুরের দুঃখ কষ্টের কথা শোনেন। তার আহত হওয়ার ঘটনা, লেখাপড়া, বর্তমান জীবনযাপন এবং সিএনজি চালিয়ে শিক্ষাজীবনের খরচ চালানোর বিষয়সহ তার চিকিৎসার খোঁজখবর নেন। তার জীবন সংগ্রামের কথাগুলো দারুণভাবে ব্যথিত করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে। 

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন শেখ আজিজুর রহমান বলেন, তিনি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সরাসরি দেখা করতে পেরে আনন্দিত ও আবেগাপ্লুত। নিজের কষ্টের কথা প্রধানমন্ত্রী শুনেছেন এবং তার খোঁজখবর নিয়েছেন; এটিকে জীবনের স্মরণীয় একটি মুহূর্ত হিসেবে দেখছেন তিনি। 

আজিজুর বলেন, এই পতাকাটি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে আমার আমার তুলে দেওয়ার খুব ইচ্ছা ছিল। আজ সেই ইচ্ছা পুরণ হয়েছে। এই অনুভূতি ভাষায় প্রকাশ করার মত না। 

আরও পড়ুন
NPL

পররাষ্ট্র উপদেষ্টার সঙ্গে নেপালের রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাৎ

আজিজুর রহমান সরকারি বাঙলা কলেজের সমাজকর্ম বিভাগের অনার্স দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী। তিনি কলেজ ছাত্রদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য। তার বাড়ি নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলায়।

এতো ত্যাগ আর অবদান যার, সেই যোদ্ধা ছাত্রদল করার কারণে দীর্ঘ দুই বছরেও পাননি জুলাই যোদ্ধার স্বীকৃতি। সংসার আর লেখাপড়ার খরচ চালাতে ধরতে হয়েছে সিওনজি স্টিয়ারিং। জীবনের দুটি বছর কেটেছে নানা ঘাতপ্রতিঘাতে।

২০২৪ সালের জুলাইয়ের গণআন্দোলনে মিরপুর-১০ ফ্লাইওভারে জাতীয় পতাকা উড়িয়ে আলোচনায় আসেন আজিজুর। আন্দোলনের একপর্যায়ে পুলিশের গুলিতে গুরুতর আহত হন।

আহত অবস্থায় মাথার গুলির ক্ষত ঢাকতে বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা মাথায় বেঁধে নেন। রক্তে ভিজে যায় সেই পতাকা। তবু রাজপথ ছাড়েননি। ১৯ জুলাই পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে। দুই দিনের রিমান্ড শেষে ২১ জুলাই মুক্তি পান তিনি। তবুও ছাত্রদল করায় মেলেনি তার জুলাই যোদ্ধার স্বীকৃতি।

আরটিভি/এমএম