রোববার, ০২ আগস্ট ২০২৬ , ০৩:০৫ পিএম
দীর্ঘদিন ধরেই দক্ষিণ-পূর্ব এশীয় দেশগুলোর জোট আসিয়ানে সদস্য হিসেবে জায়গা পাওয়ার চেষ্টা করে আসছে বাংলাদেশ। তবে, শেষ পর্যন্ত আর সফল হলো না সেই চেষ্টা। আসিয়ানের শীর্ষ কর্মকর্তার মতে, আসিয়ান চার্টারের ভৌগোলিক শর্ত পূরণ করতে ব্যর্থ হওয়ায় জোটের সদস্য হওয়ার সুযোগ নেই বাংলাদেশের।
বাংলাদেশের মতো দীর্ঘদিন ধরে আসিয়ানের সদস্যপদ পাওয়ার আশা ব্যক্ত করে আসছিল পাপুয়া নিউ গিনিও। এমনকি দেশটিকে প্রকাশ্যে সমর্থনও দিয়েছিল ইন্দোনেশিয়া। তবে, আসিয়ানের মহাসচিব কাও কিম হোর্ন সম্প্রতি নিশ্চিত করেছেন যে, পূর্ব তিমুরই শেষ দেশ হিসেবে যুক্ত হয়েছে দক্ষিণ-পূর্ব এশীয় দেশগুলোর এই জোটে।
ম্যানিলায় অনুষ্ঠিত ১০ম আসিয়ান মিডিয়া ফোরামে কথা বলতে গিয়ে তিনি বলেছেন, আমাদের সদস্য সংখ্যা বাড়ানোর অধ্যায় এখানেই শেষ।
এ বিষয়ে ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে আসিয়ান মহাসচিব বলেছেন, আসিয়ান চার্টার অনুযায়ী, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার ভৌগোলিক অঞ্চলে অবস্থিত হিসেবে কেবল ১১টি দেশকে বিবেচনা করা হয়। বিষয়টি এটাই। পাপুয়া নিউ গিনি এবং বাংলাদেশ এই নির্দিষ্ট ভৌগোলিক অঞ্চলের বাইরে অবস্থিত।
আসিয়ান চার্টার মূলত জোটটির আইনি কাঠামো নির্ধারণ করে। এই দলিল অনুযায়ী, নতুন সদস্য গ্রহণের ক্ষেত্রে কিছু শর্ত নির্দিষ্ট করা রয়েছে, যার মধ্যে একটি হলো আবেদনকারী দেশকে ‘দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার স্বীকৃত ভৌগোলিক অঞ্চলে অবস্থিত’ হতে হবে। ভৌগোলিক বিচারে পাপুয়া নিউ গিনি ওশেনিয়া অঞ্চলের অন্তর্গত, আর বাংলাদেশের অবস্থান দক্ষিণ এশিয়ায়।
বাংলাদেশ এবং পাপুয়া নিউগিনির জন্য আসিয়ানের সদস্য হওয়ার একমাত্র উপায় হলো যদি ১০ দেশের এই জোটটি তাদের চার্টার বা সংবিধানে সংশোধন আনে। তবে, এই ধরনের যেকোনও সংশোধনের জন্য সব সদস্য দেশের সম্মতির প্রয়োজন হয়।
আসিয়ান মহাসচিব কাও স্পষ্ট করে বলেছেন, সদস্য দেশগুলো চার্টার সংশোধন না করলে এবং ভূগোলকে নতুনভাবে সংজ্ঞায়িত না করলে আমাদের যে ১১টি দেশ রয়েছে, তাদের নিয়েই দাঁড়িয়ে থাকবে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া বা আসিয়ান।
উল্লেখ্য, ২০১১ সাল থেকে চেষ্টা চালানোর পর দীর্ঘ প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে অবশেষে গত বছর আসিয়ানে নিজেদের কাঙ্ক্ষিত আসন নিশ্চিত করে পূর্ব তিমুর। এই প্রক্রিয়াটি এতটাই দীর্ঘ ছিল যে, পূর্ব তিমুরের প্রেসিডেন্ট হোসে রামোস-হোর্তা রসিকতা করে বলেছিলেন, ‘আসিয়ানের দরজায় প্রবেশের চেয়ে স্বর্গে প্রবেশ করা হয়তো সহজ।’
বিগত বছরে মালয়েশিয়া যখন আসিয়ানের সভাপতির দায়িত্বে ছিল, তখন তাদের সমর্থন পেতে চেষ্টা চালিয়েছিল ঢাকা। অন্যদিকে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট প্রাবোও সুবিয়ান্তো পাপুয়া নিউ গিনির সদস্যপদের পক্ষে প্রকাশ্যে সমর্থন ঘোষণা করেন। অবশ্য, ১৯৭৬ সাল থেকে আসিয়ান জোটে পর্যবেক্ষকের মর্যাদা উপভোগ করে আসছে পাপুয়া নিউ গিনি, যা তাদেরকে জোটের বৈঠকগুলোতে অংশ নেওয়ার সুযোগ দেয়।
আরটিভি/এসএইচএম