images

জাতীয়

আজ খুলছে জুলাই স্মৃতি জাদুঘর, যা যা দেখবেন দর্শনার্থীরা

বৃহস্পতিবার, ০৬ আগস্ট ২০২৬ , ০৯:৪৮ এএম

জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর আজ (৬ আগস্ট) থেকে সাধারণ দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত হচ্ছে। এর আগে বুধবার (৫ আগস্ট) সকালে জাদুঘরটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

জাদুঘরটিতে জুলাই আন্দোলনের ঘটনাপ্রবাহ, শহীদ ও আহতদের স্মৃতি, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, দলিল, ব্যক্তিগত ব্যবহার্য সামগ্রী এবং নানা ধরনের ডিজিটাল প্রদর্শনী সংরক্ষণ করা হয়েছে। উদ্বোধনের পরদিন দর্শনার্থীদের জন্য বরাদ্দ প্রথম দিনের ৯০০টি টিকিট বুধবার বিকেল ৪টার মধ্যেই বিক্রি শেষ হয়ে যায়।

জাদুঘর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, প্রাথমিকভাবে প্রতিদিন সর্বোচ্চ ৯০০ জন দর্শনার্থী মূল ভবনে প্রবেশের সুযোগ পাবেন। প্রতিদিন তিনটি নির্ধারিত সময়ে ৩০০ জন করে দর্শনার্থী প্রবেশ করতে পারবেন। টিকিট অনলাইনের পাশাপাশি জাদুঘরের কাউন্টার থেকেও সংগ্রহ করা যাবে।

দর্শনার্থীরা সকাল ১১টা থেকে দুপুর ১টা, দুপুর ১টা থেকে বিকেল ৩টা এবং বিকেল ৪টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত নির্ধারিত সময়ে জাদুঘর ঘুরে দেখতে পারবেন। তবে টিকিটে উল্লেখিত সময়ের মধ্যেই প্রবেশ করতে হবে।

জাদুঘরে প্রবেশের জন্য প্রাপ্তবয়স্কদের টিকিটের মূল্য ৫০ টাকা এবং শিশুদের জন্য ২৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। কোনো নির্ধারিত সময়ের সব টিকিট শেষ হয়ে গেলে পরবর্তী দিনের খালি সময় বেছে নিতে হবে। দর্শনার্থীদের চাপ সামলাতে এবং সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার স্বার্থে প্রাথমিকভাবে সীমিত সংখ্যক প্রবেশের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছেন জাদুঘরের মহাপরিচালক তানজিম ইবনে ওয়াহাব।

আরও পড়ুন
Web-Image5

জুলাই সনদের প্রতিটি অক্ষর বাস্তবায়িত হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

এর আগে মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) এক সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান জানিয়েছিলেন, উদ্বোধনের প্রথম দিনটি শুধু জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ পরিবারের সদস্যদের জন্য সংরক্ষিত থাকবে।

তবে উদ্বোধনের দিন টানা বৃষ্টির মধ্যেও বিপুলসংখ্যক মানুষ জাদুঘরের সামনে ভিড় করেন। দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষার পরও ফটক না খোলায় একপর্যায়ে বিক্ষুব্ধ জুলাইযোদ্ধা, আহত আন্দোলনকারী ও শহীদ পরিবারের সদস্যরা ফটকের তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন। পরে অন্য দর্শনার্থীরাও সেখানে ঢুকে শেখ হাসিনার ফাঁসির দাবিতে স্লোগান দেন।

জাদুঘরে যা যা দেখবেন

একসময় দেশের প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন হিসেবে পরিচিত গণভবন এখন রূপ নিয়েছে জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরে। রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের ১৭ একর জায়গাজুড়ে গড়ে ওঠা এই জাদুঘরে জুলাই আন্দোলন, গণতান্ত্রিক সংগ্রাম এবং সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ইতিহাসের নানা স্মারক ও নিদর্শন স্থান পেয়েছে।

প্রধান ফটক দিয়ে প্রবেশ করলেই দেখা যাবে লাল ইটের পথের দুই পাশে বিভিন্ন ফলজ গাছ। পথের পাশেই রয়েছে ‘গণতন্ত্রের পথে দীর্ঘ যাত্রা’ শীর্ষক প্রদর্শনী, যেখানে স্বাধীনতার পর থেকে ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান পর্যন্ত দেশের রাজনৈতিক ঘটনাপ্রবাহ তুলে ধরা হয়েছে।

জাদুঘরের অন্যতম আকর্ষণ ‘জুলাই স্মৃতিসৌধ’। এখানে সাদা মার্বেল পাথরে বৃত্তাকারে নির্মিত স্মৃতিফলকে নিহতদের নাম উৎকীর্ণ করা হয়েছে। ভেতরের অংশ প্রতীকী কবরস্থানের আদলে সাজানো হয়েছে। পাশাপাশি খোলা প্রাঙ্গণে রয়েছে আন্দোলনের বিভিন্ন ঘটনার প্রতীকী ভাস্কর্য, যার মধ্যে গুলিবিদ্ধ ব্যক্তির দৃশ্য, সাঁজোয়া যানে ঝুলন্ত আন্দোলনকারী, সাইকেলে মিছিলে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীর প্রতিরূপ, পিলখানা হত্যাকাণ্ড, শাপলা চত্বরের ঘটনা, গুমের অভিযোগ এবং নারী আন্দোলনকারীদের স্মরণে নির্মিত শিল্পকর্ম উল্লেখযোগ্য।

জাদুঘরের দক্ষিণ পাশে তৈরি করা হয়েছে আলোচিত ‘আয়নাঘর’-এর আদলে একটি প্রতীকী কক্ষ, যেখানে গুমের অভিযোগে ব্যবহৃত বন্দিশালার পরিবেশ তুলে ধরা হয়েছে।

দোতলা ভবনের নিচতলায় রয়েছে বিভিন্ন নথি, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, প্রামাণ্য উপকরণ এবং আন্দোলনসংক্রান্ত প্রদর্শনী। সেখানে সাবেক প্রধানমন্ত্রীর বৈঠককক্ষও সংরক্ষণ করা হয়েছে। গণঅভ্যুত্থানের সময় কক্ষটির যে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছিল, তা অক্ষত রাখতে পুরো মেঝে বিশেষ কাচ দিয়ে ঢেকে রাখা হয়েছে, যাতে দর্শনার্থীরা সেটি দেখতে পারেন।

দ্বিতীয় তলায় পুরো আয়োজনই জুলাই আন্দোলনের স্মৃতিকে ঘিরে। এখানে শহীদদের ব্যবহৃত পোশাক, বই, খাতা, খেলাধুলার সামগ্রীসহ বিভিন্ন ব্যক্তিগত স্মারক সংরক্ষণ করা হয়েছে। প্রদর্শনীতে রয়েছে শহীদ আবু ইসাহাকের রক্তমাখা পোশাকও।

এছাড়া দিনভিত্তিক জুলাই আন্দোলনের ঘটনাপঞ্জি, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, দলিল, শিল্পকর্ম এবং চারপাশজুড়ে বিশাল ডিজিটাল পর্দায় জুলাই আন্দোলনের দৃশ্য দেখার বিশেষ ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। বিভিন্ন কক্ষে মিছিল, নারী শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ, সূচিকর্ম, পোস্টার ও ভাস্কর্যের মাধ্যমে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের নানা অধ্যায় তুলে ধরা হয়েছে।


আরটিভি/জেএমএ