শনিবার, ২৯ অক্টোবর ২০১৬ , ০৯:২০ এএম
আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটিতে আরো কয়েক নতুন মুখ আসছে। জানালেন দলটির নবনির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। এরইমধ্যে সম্পাদকমণ্ডলীতে ৭ জন পদোন্নতি ও নতুন সুযোগ পেয়েছেন। নতুন মুখ এসেছে সভাপতিমণ্ডলীতেও।
শুক্রবার রাতে গণভবনে দলের নতুন সভাপতিমণ্ডলীর প্রথম বৈঠকের পর ওবায়দুল কাদের বললেন, ‘উপদেষ্টা পরিষদের ৪ জন, সভাপতিমণ্ডলীর ৩ জন এবং সম্পাদকমণ্ডলীর ২ থেকে ৩ জন ছাড়া সবার নাম চূড়ান্ত। শনিবার তা প্রকাশ করা হবে।’
তিনি বললেন, ‘এবার কমিটিতে তৃণমূল থেকে অনেকে এসেছেন। তারা একেবারেই নতুন মুখ। দক্ষ, যোগ্য ও মেধাবী। তাই কমিটিতে তারা জায়গা করে নিয়েছেন।’
‘আসছে ৬ নভেম্বর কার্যনির্বাহী সংসদ দলের সভাপতি শেখ হাসিনার নেতৃত্বে টুঙ্গিপাড়ায় বঙ্গবন্ধুর সমাধিসৌধে শ্রদ্ধা জানাতে যাবে। ৮ নভেম্বর বিকেল ৪টায় কার্যনির্বাহী কমিটির প্রথম বৈঠক হবে গণভবনে’, বললেন নতুন সাধারণ সম্পাদক কাদের।
এদিকে মন্ত্রিসভা রদবদলেরও ইঙ্গিত দিয়েছেন ক্ষমতাসীন দলের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। সভার পর বিভিন্ন বিষয় নিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন তিনি। একপর্যায়ে জানান, শিগগিরই মন্ত্রিসভায় রদবদল আনা হবে। সেখানেও আসতে পারে নতুন মুখ।
পরে অবশ্য এ বিষয়ে সাংবাদিকরা আনুষ্ঠানিকভাবে জানতে চাইলে ওবায়দুল কাদের তা এড়িয়ে যান। শুধু বলেন, ‘এটি প্রধানমন্ত্রীর এখতিয়ার।’
সভানেত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে শুক্রবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় সভাপতিমণ্ডলীর বৈঠক শুরু হয়ে চলে ৩ ঘণ্টা। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী, বেগম মতিয়া চৌধুরী, শেখ ফজলুল করিম সেলিম, মোহাম্মদ নাসিম, কাজী জাফর উল্যাহ, অ্যাডভোকেট সাহারা খাতুন, ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন, নুরুল ইসলাম নাহিদ, ড. আব্দুর রাজ্জাক, ফারুক খান, আবদুল মান্নান খান, রমেশ চন্দ্র সেন ও পীযূষ কান্তি ভট্টাচার্য। লন্ডনের উদ্দেশে ঢাকা ছেড়ে যাওয়ায় এ বৈঠকে ছিলেন না শুধু সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম।

এদিকে ২০তম সম্মেলনের মাধ্যমে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য, সাধারণ সম্পাদক, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ও সম্পাদকমণ্ডলীতে স্থান পেয়েছেন বেশ কয়েকজন নতুন মুখ। দীর্ঘ ৬ বছর দায়িত্ব পালন শেষে সাধারণ সম্পাদক পদ থেকে বিদায় নেন সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম। দায়িত্ব পেয়েছেন সভাপতিমণ্ডলীর সদস্যের। ঐতিহ্যবাহী দলটির নতুন সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হলেন সড়ক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। তিনি আগের কমিটির সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ছিলেন।
দলের সর্বোচ্চ ফোরাম প্রেসিডিয়ামের নতুন সদস্য হন আগের কমিটির শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ, আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক কর্নেল (অব.) ফারুক খান, কৃষি ও সমবায় বিষয়ক সম্পাদক ড. আবদুর রাজ্জাক, দপ্তর সম্পাদক অ্যাডভোকেট আব্দুল মান্নান খান, যশোর জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি পীযুষ কান্তি ভট্টাচার্য।
নতুন কমিটিতে যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক হয়েছেন সংসদ সদস্য আবদুর রহমান। গেলো কমিটির উপ-প্রচার সম্পাদক কুমার উকিল নতুন কমিটির সংস্কৃতি বিষয়ক সম্পাদক। আগের কমিটির সদস্য টিপু মুন্সীকে অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক সম্পাদক, আরেক সদস্য সুজিত রায় নন্দীকে নতুন কমিটির ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক করা হয়েছে। সাবেক উপ-দপ্তর সম্পাদক মৃণাল কান্তি দাসকে নতুন কমিটির মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক সম্পাদক করা হয়েছে। শিক্ষা ও গবেষণা সম্পাদক শামসুন নাহার চাঁপা, স্বাস্থ্য ও জনসংখ্যা বিষয়ক সম্পাদক ডা. রোকেয়া সুলতানাও এ কমিটির নতুন মুখ।
নতুন সাংগঠনিক সম্পাদক হয়েছেন গেলো কমিটির সদস্য এনামুল হক শামীম। এ পদে একেবারেই নতুন মুখ চট্টগ্রামের সাবেক মেয়র মহিউদ্দিন চৌধুরীর ছেলে ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নফেল।
গেলো ২২ ও ২৩ অক্টোবর আওয়ামী লীগের ২০তম জাতীয় সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। ২৩ অক্টোবর কাউন্সিল অধিবেশনে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ কার্যকরী কমিটির ২১ জনের নাম ঘোষণা হয়। এর দু’দিন পর ঘোষণা করা হয় আরো ২২ জনের নাম।
সভাপতিমণ্ডলীর ৩ জন, সম্পাদকমণ্ডলীর ৫ জন, দু’টি উপ-সম্পাদকীয় পদ বাকি আছে। এছাড়াও ২৮ সদস্যের পদে এখনো কারও নাম ঘোষণা করা হয়নি।
এস