মঙ্গলবার, ০২ ডিসেম্বর ২০২৫ , ০৭:১৫ পিএম
একসময় বিশ্ব জলবায়ু রক্ষার ক্ষেত্রে যে বনভূমিকে প্রকৃতির আশীর্বাদ এবং একটি জীবনদায়ী ‘কার্বন সিঙ্ক’ হিসেবে গণ্য করা হতো, সেই আফ্রিকার বনগুলোই এখন শোষণের বদলে কার্বন ছড়াচ্ছে। বন উজাড় এবং বনের অবক্ষয়ের কারণে এই ঐতিহাসিক পরিবর্তনটি ঘটেছে, যা বিশ্বজুড়ে জলবায়ু বিজ্ঞানীদের কপালে ভাঁজ ফেলেছে। সায়েন্টিফিক রিপোর্টস জার্নালে প্রকাশিত নতুন এক গবেষণা অনুযায়ী, আফ্রিকা মহাদেশের এই বিপরীতমুখী যাত্রা আন্তর্জাতিক জলবায়ু লক্ষ্যমাত্রার জন্য এক মারাত্মক হুমকি। খবর আনাদোলু এজেন্সির।
গবেষকদের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, ২০০৭ থেকে ২০১০ সালের মধ্যে আফ্রিকার বনভূমিতে বছরে ৪৩৯ মিলিয়ন টন জীবভর বৃদ্ধি পেয়েছিল। কিন্তু এরপরই শুরু হয় বিপর্যয়। ২০১০ থেকে ২০১৫ সালের মধ্যে এই মহাদেশ বছরে গড়ে ১৩২ মিলিয়ন টন জীবভর হারিয়েছে এবং ২০১৫ থেকে ২০১৭ সালের মধ্যে প্রতি বছর ৪১ মিলিয়ন টন জীবভর হ্রাস পেয়েছে। এই পরিসংখ্যান স্পষ্ট প্রমাণ করে যে, বনভূমি এখন আর কার্বন ধরে রাখতে পারছে না, বরং নিজেই কার্বন নিঃসরণের প্রধান উৎসে পরিণত হয়েছে।
এই ক্ষতির প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়েছে গ্রীষ্মমণ্ডলীয় আর্দ্র প্রশস্তপত্রী বনগুলিতে। কঙ্গো গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র, মাদাগাস্কার এবং পশ্চিম আফ্রিকার কিছু অঞ্চলে বন উজাড়ের মাত্রা এতই তীব্র ছিল যে, তা মহাদেশের সামগ্রিক ভারসাম্য নষ্ট করে দিয়েছে। যদিও সাভানা অঞ্চলের ঝোপঝাড় কিছুটা কার্বন শোষণে সাহায্য করেছে, তা মোট বন উজাড়ের ক্ষতি পূরণের জন্য যথেষ্ট ছিল না।
ঐতিহাসিকভাবে আফ্রিকার বনভূমি বৈশ্বিক কার্বন নির্গমনের প্রায় ২০ শতাংশ শোষণ করে পৃথিবীকে শীতল রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখত। গবেষকরা তাই এই পরিস্থিতিকে অত্যন্ত আশঙ্কাজনক বলে মন্তব্য করেছেন এবং দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপের আহ্বান জানিয়েছেন। তারা চলমান ন্যাশনালি ডিটারমাইন্ড কন্ট্রিবিউশনস (এনডিসি) সহ গ্লাসগো লিডারস ডিক্লারেশন অনুযায়ী বন ধ্বংস বন্ধে আরও শক্তিশালী বিশ্বব্যাপী উদ্যোগ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
আরটিভি/এআর