সোমবার, ০৬ ডিসেম্বর ২০২১ , ১১:২৩ এএম
পরিচয় আছে সাহসী পরিচয় আমার
অথচ
লজ্জা চাষ করি বেদনার অনাবাদি বিষাক্ত জমিনে।
শরীরের ভয়াবহ ক্ষতচিহ্ন, এ আমার প্রিয় নির্বাসন,
তোমাদের বিজয় কিংবা স্বাধীনতার গল্পের সাথে আমার তেমন কোন মিল নেই।
যে ক্যাম্পে আমি ছিলাম আমার মতো আরও বেশ কয়েকজন ছিল সেখানে।
ঊনিশ বছরের সেই যে পানপাতা চেহারার মেয়েটি রক্তক্ষরণে মরে গিয়েছিল,
ওকে ওরা নদীতে ভাসিয়ে দিয়েছিল
খুব ইচ্ছে হয় জানতে পঞ্চাশ বছর পরেও,
ওর শরীরটা কি গিলেছিল কুমির গোগ্রাসে!
নাকি মাছেরা ভাগ করে নিয়েছিল কাড়াকাড়ি করে ক্যাম্পের সেনাদের মতো!
আচ্ছা তোমাদের ত্রিশ লক্ষের মধ্যে ওর নাম আছে?
নিজের বয়োবৃদ্ধ শরীরে এখনও টের পাই কতশত ঠোকর বিরতিহীন,
পাপ আমি পুষে না রাখলেও আমাকে সে পুষে রাখে- আমি বীরাঙ্গনা,
কোনটি অধিক সম্মানের, মুক্তিযোদ্ধা নাকি বীরাঙ্গনা?
লাল-সবুজের পতাকায় এত যে তাকিয়ে রই
তবুও কেন শামুকের মতো গুটিয়ে রাখি এ শরীর!
তিন ভাগ জলের এ পৃথিবীতে গল্প বলি গাছ আর মাটিকে,
মাটি কথা বলে এইতো সেদিন বলল
‘বীরাঙ্গনা আবার কি! তুমি মুক্তিযোদ্ধা, এই আমি সাক্ষী।’
চোখের কোনায় জমা পঞ্চাশের পিঁচুটি জলে ধুয়ে যায়,
মাটিতেই লিখে রাখি আমার একাত্তরের গল্পগাঁথা।
[উৎসর্গ- সেই সব মা বোনদের, একাত্তরে যাঁরা বিজয় ছিনিয়ে আনতে সম্ভ্রম দিয়েছেন। ‘বীরাঙ্গনা’ শব্দের আক্ষরিক অর্থ বীরত্ব যে নারী তার অঙ্গে ধারণ করেন)]