বৃহস্পতিবার, ০১ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ , ১১:৩৫ পিএম
বাংলাদেশি হজ যাত্রীদের জন্য চলতি বছর হজের খরচ বাড়লেও পাশের দেশ ভারত অনেক কম খরচে হজের সুযোগ দিচ্ছে জনগণকে।
বাংলাদেশের ধর্ম মন্ত্রণালয়ের বুধবারের সংশোধিত নির্দেশিকা অনুযায়ী সরকারি ব্যবস্থাপনায় জন প্রতি হজের খরচ ধরা হয়েছে ৬ লাখ ৭১ হাজার টাকা। যেখানে ভারতে সরকারি ব্যবস্থাপনায় জন প্রতি হজের খরচ পড়বে রাজ্য ভেদে ৩ লাখ ২০ হাজার থেকে ৩ লাখ ৯০ হাজার রুপি। বাংলাদেশি মুদ্রায় যার পরিমাণ সর্বোচ্চ ৫ লাখ।
অথচ এ হিসেব ভর্তুকির ১০০শতাংশ প্রত্যাহার করার পর। পাঁচ বছর আগে ২০১৮ সালে ভারতীয় হজ যাত্রীদের হজযাত্রার ওপর কেন্দ্রীয় সরকারের দেওয়া ভর্তুকি উঠিয়ে নেয় ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার।
চলতি বছর ভারত থেকে হজ যাত্রায় অংশগ্রহণ করবে প্রায় ১ লাখ ৭৫ হাজার হজ যাত্রী। ভারতের হজ ব্যবস্থাপনার সাথে যুক্ত হজ কমিটির সিইও ইয়াকুব শেখ জানিয়েছেন গেলো দুই বছরের তুলনায় চলতি বছর ভারতে রাজ্যভেদে হজের খরচ প্রায় ৫০ হাজার রুপি থেকে ৮০ হাজার রুপি পর্যন্ত কমেছে। সৌদি আরবের থেকে উত্তর-পশ্চিম ভারতের দূরত্ব কম হওয়ায় কম বিমান ভাড়া সুবিধা নিয়ে সবথেকে কম খরচে হজের প্যাকেজ দিতে পারছে জম্মু-কাশ্মীর এবং গুজরাট। এসব রাজ্যে হজের প্যাকেজ করা হয়েছে ৩ লাখ ২০ হাজার থেকে ৩ লাখ ৫০ হাজার রুপির মধ্যে।
অন্যদিকে বিমান ভাড়া বেশি হওয়ায় খরচ বেশি হচ্ছে পশ্চিমবঙ্গ আসাম ত্রিপুরার হজ যাত্রীদের। এই রাজ্যগুলোর হজের প্যাকেজ করা হয়েছে ৩ লাখ ৮০ হাজার থেকে ৩ লাখ ৯০ হাজারের মধ্যেই।
এদিকে, কোটা পূরণ না হতেই বৃহস্পতিবার (১ ফেব্রুয়ারি) শেষ হয়েছে হজ নিবন্ধনের সময়। এর আগে তিন দফা বাড়ানোর পরও হজের কোটা পূরণ হয়নি।
সবশেষ তথ্যানুযায়ী সরকারি ও বেসরকারিভাবে হজে যাওয়ার জন্য মোট ৬৮ হাজার ৩৫৫ জন নিবন্ধন করেছেন। তাদের মধ্যে সরকারি ব্যবস্থাপনায় ৪ হাজার ৫৬ জন এবং বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ৬৪ হাজার ২৯৯ জন নিবন্ধন করেছেন। সৌদি আরবের সঙ্গে বাংলাদেশের চুক্তি অনুযায়ী, চলতি বছর হজ পালনে ১ লাখ ২৭ হাজার ১৯৮ জনের নিবন্ধন করার কথা। হিসাব অনুযায়ী কোটা পূরণে এখনও প্রায় ৫৯ হাজার নিবন্ধন দরকার।
কোটা পূরণ না হলেও হজ নিবন্ধনের সময় আর বাড়াতে চায় না ধর্ম মন্ত্রণালয়। তবে নিবন্ধনের সময় আরও বাড়ানোর দাবি হজ ট্রাভেল এজেন্সিগুলোর।
এজেন্সি মালিকরা মনে করছেন, বাংলাদেশে বর্তমানে অর্থনৈতিক সংকট চলছে। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে মানুষ দিশেহারা। দেশের মানুষ তাদের মৌলিক চাহিদা মেটাতেই হিমশিম খাচ্ছে। সব ক্ষেত্রেই খরচ কয়েকগুণ বেড়ে যাওয়ায় মানুষের হাতে পর্যাপ্ত টাকাও নেই। এর ওপর আবার হজ প্যাকেজের দামও বেশি। ফলে সাধারণ মানুষ এবার হজের প্রতি আগ্রহ কম দেখাচ্ছেন।
এ বিষয়ে মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, নিবন্ধনের সময় শেষ হচ্ছে বৃহস্পতিবার। এরপর আর সময় বাড়ানো হবে না। কারণ, আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি হজযাত্রীর সংখ্যা সৌদি কর্তৃপক্ষকে জানিয়ে বাকি কোটা ফিরিয়ে দিতে হবে। তাই সময় বাড়ানোর সুযোগ আর মন্ত্রণালয়ের হাতে নেই। যারা নিবন্ধন করেছেন, তাদের নিয়েই হজ ফ্লাইট সৌদি যাবে।
২০২৩ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর থেকে এবারের হজ নিবন্ধন শুরু হয়। যা চলে ১০ ডিসেম্বর পর্যন্ত। কিন্তু কাঙ্ক্ষিত পরিমাণ নিবন্ধন না হওয়ায় ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত ফের সময় বাড়ানো হয়। এরপর আরেক দফা বাড়ানো হয় সময়। যা চলে ১৮ জানুয়ারি পর্যন্ত। এরপর তৃতীয় দফা এবং সবশেষ নিবন্ধনের সময় ১ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত করা হয়। ফলে আজ শেষ হচ্ছে সেই সময়সীমা। তবে সময়সীমা শেষ হলেও বাংলাদেশের কোটার প্রায় অর্ধেক হজযাত্রী নিবন্ধনের বাইরে রয়েছেন।
মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, ২০২২ সালে সরকারি ব্যবস্থাপনায় মোট তিনটি প্যাকেজ ঘোষণা করা হয়। প্রথম প্যাকেজ ৪ লাখ ২৫ হাজার টাকা, দ্বিতীয় প্যাকেজ ৩ লাখ ৬০ হাজার এবং তৃতীয় প্যাকেজ ৩ লাখ ১৫ হাজার টাকা ছিল। বেসরকারি প্যাকেজ ছিল ৩ লাখ ৫৮ হাজার টাকা।
তবে পরের বছরই খরচ বেড়ে যায়। সরকারি ব্যবস্থাপনায় তখন হজের খরচ নির্ধারণ করা হয় ৬ লাখ ৮৩ হাজার ১৮ টাকা এবং বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ৬ লাখ ৭২ হাজার ৬১৮ টাকা। তবে এবার হজের প্যাকেজ আগের বছরের চেয়েও কম নির্ধারণ করা হয়। এবার সাধারণ প্যাকেজে ৫ লাখ ৭৮ হাজার ৮৪০ টাকা এবং বিশেষ প্যাকেজে ৯ লাখ ৩৬ হাজার ৩২০ টাকা ব্যয় হবে। বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ৮৩ হাজার ২০০ টাকা কমিয়ে সাধারণ প্যাকেজ ৫ লাখ ৮৯ হাজার ৮০০ টাকা এবং বিশেষ প্যাকেজ ৬ লাখ ৯৯ হাজার ৩০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়।
করোনা মহামারির কারণে ২০২০ এবং ২১ সালে সীমিত আকারে হজ অনুষ্ঠিত হয়। তখন বাংলাদেশ থেকে কেউ হজের সুযোগ পাননি। পরে ২০২২ সালে বাংলাদেশকে মাত্র ৬০ হাজার হজযাত্রীর কোটা দেওয়া হলে তা পূরণও হয়। সবশেষ ২০২৩ সালে বাংলাদেশ থেকে ১ লাখ ২২ হাজার ৫৫৮ জন হজ পালন করেন।