শুক্রবার, ২১ নভেম্বর ২০২৫ , ০৩:৩৯ পিএম
ডব্লিউডব্লিউই-এর বর্তমান ‘ট্রাইবাল চিফ’ রোমান রেইন্স গত এক দশক ধরে পেশাদার রেসলিং বিশ্বে রাজত্ব করছেন। তিনি এখন রেসলিংয়ের অন্যতম মেগাস্টার, তবে তার এই সফল কেরিয়ার যাত্রা সহজ ছিল না। রেইন্স একদিকে যেমন তার শারীরিক কষ্ট সহ্য করছেন, অন্যদিকে ক্যারিয়ার ও স্বাস্থ্য নিয়ে ভবিষ্যৎ চিন্তা করছেন। খবর ইন্টারন্যাশনাল বিজনেস টাইমসের।
২০০৭ সালে, যখন রেইন্স কলেজ ফুটবল থেকে পেশাদার রেসলিংয়ে আসেন, তখনই তিনি প্রথম জানতে পারেন যে তিনি লিউকেমিয়া, অর্থাৎ রক্তের ক্যান্সারে আক্রান্ত। সুস্থ হওয়ার পর, ২০১৮ সালে সেই ক্যান্সার আবার ফিরে আসে এবং তিনি ঘোষণা করেন যে তিনি এখন ক্রনিক লিউকেমিয়া রোগের সঙ্গে লড়াই করছেন। এই রোগটি সম্পূর্ণরূপে নিরাময়যোগ্য না হলেও, নিয়মিত চিকিৎসার মাধ্যমে এটি নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।
রেইন্স তার শারীরিক অবস্থা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেননি। তিনি জানিয়েছেন, যতক্ষণ না আমি নিয়মিত চিকিৎসা নিচ্ছি, আমার পারফরম্যান্সে এর কোনো প্রভাব পড়ছে না। তবে দীর্ঘমেয়াদী এই স্বাস্থ্য সমস্যা তার ভবিষ্যৎ রেসলিং কেরিয়ারের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
বর্তমানে, রোমান রেইন্সের ডব্লিউডব্লিউই চুক্তি ২০২৬ সালে শেষ হবে। এরপর তিনি সম্ভবত পূর্ণকালীন রেসলিং থেকে কিছুটা বিরতি নেবেন এবং হলিউডে অভিনয়ের দিকে নজর দেবেন। তিনি জানিয়েছেন যে, শারীরিক চাপ কমিয়ে কম্পোজিশন ও অভিনয়ের জন্য সময় দিতে চান, তবে রেসলিং থেকে তিনি পুরোপুরি অবসর নেবেন না। বরং, তিনি উভয় ক্ষেত্রেই সময় ভাগ করে কাজ করতে চান।

এছাড়া, সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় এক ভক্ত রোমান রেইন্সের নতুন পোশাক নিয়ে মন্তব্য করেছেন। রেইন্স হাতে আর্ম স্লিভ পরেন, যা তিনি সাধারণত পরেন না। এটি একটি মেডিক্যাল কমপ্রেশন স্লিভ, যা লিউকেমিয়া রোগীদের শরীরের বিভিন্ন শারীরিক সমস্যা যেমন ফুলে যাওয়া, রক্ত সঞ্চালন উন্নত করা এবং শরীরের দ্রুত পুনরুদ্ধারে সাহায্য করে।
এছাড়া, রেইন্সের শরীরের অস্বাভাবিক পরিবর্তনও ভক্তদের নজরে এসেছে। অনেক সময় তিনি চিকন হয়ে যান, আবার কখনো ফুলে যান। কিন্তু তার এসব পরিবর্তন কিংবা শারীরিক কষ্টের মধ্যেও রেইন্স রেসলিং দুনিয়াতে নিজের শক্ত অবস্থান বজায় রেখেছেন। তিনি বর্তমানে ডব্লিউডব্লিউই-র সবচেয়ে জনপ্রিয় এবং সফল তারকা।
রোমান রেইন্স যেভাবে তার স্বাস্থ্য সমস্যা এবং ক্যারিয়ারকে সামঞ্জস্য রেখে কাজ করছেন, তা সত্যিই প্রশংসনীয়। তবে ২০২৬ সালের পর, যখন তার চুক্তি শেষ হবে, তখন হয়তো তার ক্যারিয়ার নতুন দিক নিবে। শারীরিক দিক থেকে কম চাপ নিয়ে, নতুন ভূমিকা যেমন ম্যানেজার বা পরামর্শদাতা হিসেবে তাকে দেখা যেতে পারে।
আরটিভি/কেআই