রোববার, ০১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ , ০৬:৫৩ পিএম
ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনের আগমুহূর্তে তাড়াহুড়ো করে ‘সম্প্রচার কমিশন অধ্যাদেশ-২০২৬’ প্রণয়নের উদ্যোগে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ব্রডকাস্ট জার্নালিস্ট সেন্টার (বিজেসি)। সংগঠনটি মতে, জনমত যাচাইয়ের জন্য মাত্র চারদিন সময় দিয়ে এমন গুরুত্বপূর্ণ আইন পাস করা সমীচীন নয়। এর পরিবর্তে আইনটি প্রণয়নের দায়িত্ব পরবর্তী নির্বাচিত সরকারের ওপর ছেড়ে দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে তারা।
বিজেসি জানায়, সম্প্রচার কমিশন গঠনে সরকারের উদ্যোগকে তারা স্বাগত জানালেও খসড়া অধ্যাদেশের বেশ কিছু ধারা ও শব্দ নিয়ে তাদের আপত্তি রয়েছে। তাদের মতে, খসড়ায় ‘জনস্বার্থবিরোধী’, ‘বিদ্বেষমূলক’ এবং ‘রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি’-এর মতো অস্পষ্ট শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে। এর ফলে যেকোনো সমালোচনামূলক সংবাদ বা বিষয়কে সহজেই অপরাধ হিসেবে চিহ্নিত করার এবং প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে গণমাধ্যম বন্ধ করার সুযোগ তৈরি হবে।
বিজেসির চেয়ারম্যান রেজোয়ানুল হক ও সদস্য সচিব ইলিয়াস হোসেন স্বাক্ষরিত এই বিবৃতিতে বলা হয়, সম্প্রচার প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে যা অপপ্রয়োগের আশঙ্কা রয়েছে।
এতে আরও বলা হয়, বর্তমান ডিজিটাল যুগে সম্প্রচার খাত কেবল রেডিও-টেলিভিশনে সীমাবদ্ধ নয়; এটি এখন আইসিটি, ইন্টারনেট সম্প্রচার ও সাইবার নিরাপত্তার অবিচ্ছেদ্য অংশ। অথচ খসড়াটিতে এই আধুনিক বিষয়গুলো এবং সাংবাদিকদের বেতন-ভাতার বঞ্চনা নিরসনের বিষয়ে কোনো উল্লেখ নেই।
সংগঠনটি দাবি করেছে, যেহেতু নির্বাচনের আর মাত্র দুই সপ্তাহ বাকি, তাই সব অংশীজনের সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা ছাড়া এই অধ্যাদেশ জারি করা ঠিক হবে না। সাংবাদিক ও গণমাধ্যমের স্বার্থ রক্ষায় একটি কার্যকর কমিশন গঠনে তারা সরকারকে আরও সময় নিয়ে কাজ করার পরামর্শ দিয়েছে।
আরটিভি/একে