বুধবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৫ , ১১:০৯ পিএম
জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের জরুরি বৈঠকে ‘নোট অব ডিসেন্ট’ এবং জুলাই সনদ বাস্তবায়নের পথরেখা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্য সচিব আখতার হোসেন। তিনি দাবি করেছেন, সনদের খসড়ায় ভিন্নমতের বিষয়গুলোর সুস্পষ্ট সংজ্ঞায়ন এবং বাস্তবায়নের কার্যকর পথরেখা থাকা আবশ্যক।
বুধবার (১৫ অক্টোবর) রাতে ফরেন সার্ভিস একাডেমির মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত এই জরুরি বৈঠকে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠক শেষে আখতার হোসেন সাংবাদিকদের জানান, জুলাই সনদের খসড়ায় ‘নোট অব ডিসেন্ট’ (ভিন্নমত বা দ্বিমত)-এর বিষয়গুলো পরিষ্কার করা হয়নি। তিনি বলেন, কীভাবে সেগুলোকে বাস্তবায়ন করা হবে, সেই পথরেখা পরিষ্কার হওয়া প্রয়োজন।
তিনি অঙ্গীকারনামা প্রসঙ্গে বলেন, আমরা যে অঙ্গীকারনামাটি পেয়েছি, সেই অঙ্গীকারনামায় আমরা দীর্ঘসময় ধরে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের আলোচনা করেছি। সেই বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া এখানে সুস্পষ্টভাবে বিস্তৃত হয়নি। এনসিপি এই বাস্তবায়ন প্রক্রিয়াকে ‘জুলাই বাস্তবায়নের আদেশ’ বা ‘সাংবিধানিক সংস্কার আদেশ’ নামে অভিহিত করার প্রস্তাব করেছে।
আখতার হোসেনের মতে, জনগণের অভিপ্রায়কে সুসংহত করতে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস সরকারের প্রধান হিসেবে এই আদেশ জারি করবেন।
এনসিপি সদস্য সচিব গণভোটের প্রক্রিয়া নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। তিনি বলেন, রাজনৈতিক দলগুলো গণভোটের বিষয়ে একমত হলেও সেই গণভোট কীভাবে হবে, সেই প্রশ্ন, দিনক্ষণ—সে বিষয়গুলো আমাদের কাছে এখনো পর্যন্ত পরিষ্কার নয়।
সংবিধানের মৌলিক বিষয়গুলোর পরিবর্তনের ক্ষেত্রে তিনি শুধু সংশোধনের সীমাবদ্ধতা নিয়ে কথা বলেন।
তিনি বলেন, সংবিধানের মৌলিক বিষয়গুলো শুধু সংশোধনের মধ্য দিয়ে টেকসই করা সম্ভব নয়। এর জন্য রাজনৈতিক দলগুলো একমত যে সামনের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের কাছে সাংবিধানিক ক্ষমতা ডেলিগেট করা হবে, যাতে সাংবিধানিক সংস্কারগুলো টেকসই হয়। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, জুলাই ঘোষণাপত্রে সংশোধনের নয়, সংস্কারের কথা বলা হয়েছিল।
আমরা চাই জুলাই সনদ বাস্তবায়নের পথটাকে পরিষ্কার করে তারপর আমরা সনদ স্বাক্ষর করার দিকে অগ্রসর হবো। জাতির কাছে সবগুলো বিষয়কে পরিষ্কার করে তারপর জুলাই সনদ স্বাক্ষরিত হলে, তবেই সেটা বাংলাদেশে কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা সম্ভব এবং জাতির প্রত্যাশা পূরণ করা সম্ভব।
আরটিভি/এএইচ