বুধবার, ১০ ডিসেম্বর ২০২৫ , ১০:৫২ পিএম
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) প্রথম ধাপের প্রাথমিক প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করেছে। এতে দলটির পক্ষ থেকে বগুড়া-৬ আসন থেকে আব্দুল্লাহ-আল-ওয়াকি লড়বেন। এই আসনে ধানের শীষ নিয়ে লড়বেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
নির্বাচন কমিশেনর তথ্য বলছে, ২০০৮ সাল পর্যন্ত সব জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বগুড়া-৬ আসন বিএনপির দখলে ছিল। এর মধ্যে ১৯৯১ থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত এই আসনে চারবার সংসদ সদস্য হন বিএনপির চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া।
২০০৮ সালে বিকল্প ধারার হয়ে বগুড়া-৬ আসনে নির্বাচনের পর এবার এনসিপির হয়ে নির্বাচনে অংশ নেবেন আব্দুল্লাহ-আল-ওয়াকি। তিনি বলেন, এনসিপি নমিনেশনের জন্য আবেদন করতে আহ্বান করেছিল। সেখানে আমি আবেদন করেছিলাম। তারা আমাকে গ্রহণযোগ্য মনে করেছে। এটা খুশির খবর।
ওয়াকি এনসিপির জাতীয় কিংবা জেলা-উপজেলার কোনো পদে ছিলেন না। অন্য কোনো দলের রাজনীতিতেও তেমন সক্রিয় ছিলেন না। তবে দুর্নীতিবিরোধী অবস্থান থেকে তিনি নির্বাচন করছেন বলেন দাবি তার।
ওয়াকি বলেন, ২০০৭ সালে এক/এগারোর সময় আমি স্বতন্ত্র থেকে নির্বাচন করার ঘোষণা দিয়েছিলাম। এরপর ২০০৮ সালে আমি বিকল্প ধারায় মনোনয়ন নিয়ে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করি। পরে ২০১৪-১৫ সালের দিকে আমি নিজের একটি সংগঠন তৈরি করি। তার নাম জনতার শক্তি। ফেসবুকে অনেক অ্যাক্টিভ ছিলাম। কিন্তু জনশক্তি রাজনৈতিক দল হিসেবে নিবন্ধন পায়নি।
সব ছেড়ে এনসিপিতে আসার বিষয়ে তিনি বলেন, এনসিপি দেশের গণঅভ্যুত্থানে নের্তৃত্ব দিয়েছে। এদের সম্মান আছে, বিশ্বাস আছে, গ্রহণযোগ্যতা আছে; এই কারণে এনসিপিতে আসা।
বিকল্প ধারা কেন ছাড়লেন এই প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বিকল্প ধারা জোটের সঙ্গী হয়েছিল। আর এই দলের প্রতিষ্ঠাতা একিউএম বদরুদ্দোজা চৌধুরী মারা যাওয়ার পর তাদের রাজনৈতিক অবস্থান পরিস্কার নয়। তারা আর কামব্যাক করবে বলে মনে হয় না। এ কারণে তাদের অবস্থান আমার ভালো লাগেনি।
দীর্ঘ বিরতির পর চলতি বছরের মার্চে দেশে এসেছিলেন ওয়াকি। ২০০০ সালে ইংল্যান্ডে পড়তে যান। সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে পড়াশোনা শেষ করে ওখানেই চাকরি শুরু করেন।
এদিকে ২০০৮ সালে বিকল্প ধারার হয়ে বগুড়া-৬ আসন থেকে নির্বাচন করার সময় তিনি একটি হলফনামা জমা দেন নির্বাচন কমিশনে (ইসি)। নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি তার হলফনামায় উল্লেখ করেছিলেন, তার বাড়ি বগুড়ার সূত্রাপরের ঠনঠনিয়া এলাকায়। যুক্তরাজ্য থেকে নিয়ে বিএসসি পাস করেছেন। তার পেশা থেকে বছরে আয় করেন ৮ লাখ টাক। এই টাকা থেকে বছরে তার ৫ লাখ টাকা ব্যয় হয় বলে হলফনামায় জানিয়েছিলেন।
ওই সময় তার কাছে নদগ টাকা ছিল তিন লাখ। এবং বৈদেশিক মুদ্রা ছিল ৩ হাজার পাউন্ড। বাংলাদেশের দুটি বেসরকারি ব্যাংকে ২ লাখ টাকা জমা ছিল। মোটরগাড়ি ও মোটরসাইকেল মিলে তার সম্পত্তির পরিমাণ ছিল ৭ লাখ টাকার। আর ইলেক্ট্রনিক সামগ্রী ছিল ৩ লাখ টাকার। ওই সময় হলফনামার ঘোষণা অনুযায়ী, যুক্তরাজ্যে তার ১ কোটি ৪০ লাখ টাকার যৌথ মালিকানায় একটি বাড়ি রয়েছে।
নির্বাচনী ব্যয়ের জন্য নিজ আয় হতে তিনি ৫ লাখ টাকা খরচ করতে চেয়েছিলেন। আর তাকে তার বাবা, মামা ও বোন মিলে ৪ লাখ টাকা স্বেচ্ছা প্রণোদিত হয়ে নির্বাচনে দান করেছিলেন।
আরটিভি/একে