বৃহস্পতিবার, ২৫ ডিসেম্বর ২০২৫ , ০৪:২৬ পিএম
দীর্ঘ ১৭ বছরের নির্বাসন ও শত ষড়যন্ত্রের জাল ছিন্ন করে অবশেষে প্রিয় মাতৃভূমিতে পা রাখলেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। বৃহস্পতিবার (২৫ ডিসেম্বর) বিকেলে রাজধানীর ৩০০ ফিট সড়কে আয়োজিত এক বিশাল গণসংবর্ধনা মঞ্চে দাঁড়িয়ে তিনি দেশবাসীকে নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখান। লাখো জনতার উদ্দেশে দেওয়া তার প্রথম বক্তৃতার শুরুতেই তিনি মহান আল্লাহর প্রতি শুকরিয়া আদায় করে বলেন, আপনাদের দোয়ায় আজ আমি আমার প্রিয় মাতৃভূমিতে ফিরে আসতে পেরেছি।
তারেক রহমান তার বক্তব্যে বাংলাদেশের ইতিহাসের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণকে তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ১৯৭১ সালে শহীদদের রক্তে অর্জিত স্বাধীনতা, ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর আধিপত্যবাদবিরোধী সিপাহী-জনতার বিপ্লব এবং ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থান—সবই ছিল দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষার সংগ্রাম। দল-মত নির্বিশেষে কৃষক, শ্রমিক, নারী-পুরুষ ও মাদ্রাসার ছাত্রসহ সর্বস্তরের মানুষের ত্যাগের বিনিময়েই আজ দেশ স্বৈরাচারমুক্ত হয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
আগামীর রাষ্ট্রকাঠামো নিয়ে নিজের ভাবনার কথা জানিয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বলেন, আমরা সবাই মিলে এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চাই, যে বাংলাদেশের স্বপ্ন একজন মা দেখেন।
অর্থাৎ, একটি নিরাপদ বাংলাদেশ; যেখানে একজন নারী, একজন পুরুষ বা একজন শিশু—যিনিই হোন না কেন, নিরাপদে ঘর থেকে বের হয়ে যেন আবার নিরাপদে ঘরে ফিরে আসতে পারেন। তিনি ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে পাহাড় ও সমতলের সব মানুষের ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টায় একটি বৈষম্যহীন রাষ্ট্র গড়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
বক্তৃতায় তিনি দেশের চার কোটি তরুণ, পাঁচ কোটি শিশু এবং কয়েক কোটি কৃষক-শ্রমিকের প্রত্যাশা পূরণের ওপর জোর দেন। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, বাংলাদেশের মানুষ এখন কেবল কথা বলার অধিকার নয়, বরং যোগ্যতা অনুযায়ী ন্যায্য অধিকারও ফিরে পেতে চায়। বিগত ১৫ বছরে গুম-খুন ও নির্যাতনের শিকার হওয়া হাজারো মানুষের আত্মত্যাগের কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, আজ সময় এসেছে ঐক্যবদ্ধ হয়ে সেইসব স্বপ্ন পূরণের। এর আগে বিকেল ৩টা ৫০ মিনিটে তিনি মঞ্চে পৌঁছালে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ শীর্ষ নেতারা তাকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান।
আরটিভি/এআর