images

রাজনীতি

খালেদা জিয়ার বর্ণাঢ্য জীবন

মঙ্গলবার, ৩০ ডিসেম্বর ২০২৫ , ০৯:১৩ এএম

বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া ইন্তেকাল করেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) সকাল ৬টায় তিনি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন। বিএনপি মিডিয়া সেলের ফেসবুক পেজে প্রকাশিত এক পোস্টে এ তথ্য জানানো হয়।

একজন সাধারণ গৃহবধূ থেকে দেশের অন্যতম প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতৃত্বে উত্তরণ বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে বেগম খালেদা জিয়ার উত্থান এক বিরল দৃষ্টান্ত। খালেদা খানম পুতুল থেকে সময়ের পরিক্রমায় তিনি হয়ে ওঠেন খালেদা জিয়া। তিনি ছিলেন বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী এবং মুসলিম বিশ্বের দ্বিতীয় নারী সরকারপ্রধান। একই সঙ্গে তিনি দেশের অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারপারসন হিসেবে দীর্ঘদিন নেতৃত্ব দিয়েছেন।

১৯৪৫ সালে ভারতের জলপাইগুড়িতে (তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতের বৃহত্তর দিনাজপুর) খালেদা জিয়ার জন্ম। তার পৈতৃক নিবাস ফেনী জেলার ফুলগাজীতে। বাবা ব্যবসায়ী ইস্কান্দার মজুমদার ও মা তৈয়বা মজুমদার। শৈশব ও কৈশোর কেটেছে দিনাজপুরের মুদিপাড়া গ্রামে।

১৯৬০ সালে দিনাজপুর সরকারি স্কুল থেকে ম্যাট্রিকুলেশন পাস করেন তিনি। পরে দিনাজপুর সুরেন্দ্রনাথ কলেজে ভর্তি হন। কলেজে অধ্যয়নকালে তৎকালীন পাকিস্তান সেনাবাহিনীর ক্যাপ্টেন জিয়াউর রহমানের সঙ্গে তার বিয়ে হয়। এরপর আর প্রাতিষ্ঠানিক পড়াশোনা চালিয়ে যেতে পারেননি। রাষ্ট্রীয় নথিতে তার শিক্ষাগত যোগ্যতা হিসেবে ‘স্বশিক্ষিত’ উল্লেখ রয়েছে।

মুক্তিযুদ্ধের সময় খালেদা জিয়া আত্মগোপনে ছিলেন। পরে ঢাকায় এসে পরিবারের সঙ্গে অবস্থান করেন। ২ জুলাই পাকিস্তানি সেনারা তাকে ও তার দুই পুত্রকে গ্রেপ্তার করে ঢাকা ক্যান্টনমেন্টে নিয়ে যায়। ১৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত তিনি বন্দিদশায় ছিলেন।

স্বামী জিয়াউর রহমান রাষ্ট্রপতি হলেও রাজনীতিতে তার সক্রিয় ভূমিকা তখনো শুরু হয়নি। ১৯৮১ সালে জিয়াউর রহমান নিহত হওয়ার পর বিএনপির নেতাকর্মীদের আহ্বানে তিনি রাজনীতিতে নেতৃত্ব দেন। আপসহীন মনোভাব ও দৃঢ় অবস্থানের কারণে তিনি ‘আপসহীন নেত্রী’ হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন।

খালেদা জিয়া তিনবার বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন ১৯৯১ সালে প্রথমবার, ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি দ্বিতীয়বার এবং ২০০১ সালে জোট সরকারের প্রধান হিসেবে তৃতীয়বার।

১৯৮২ সালের ২ জানুয়ারি বিএনপির প্রাথমিক সদস্য হিসেবে দলে যোগ দেন তিনি। ১৯৮৪ সালে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসন এবং একই বছরের ১০ মে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বিএনপির চেয়ারপারসন নির্বাচিত হন। টানা প্রায় চার দশকের বেশি সময় তিনি দলটির নেতৃত্ব দেন।

তার নেতৃত্বে বিএনপি স্বৈরশাসক এরশাদের বিরুদ্ধে দীর্ঘ আন্দোলন গড়ে তোলে। ১৯৮৩ সালে সাতদলীয় জোট গঠন করে সামরিক শাসনের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক আন্দোলন পরিচালনা করেন। আপসহীন আন্দোলনের মধ্য দিয়েই এরশাদ সরকারের পতন ত্বরান্বিত হয়।

নির্বাচনী রাজনীতিতে খালেদা জিয়ার রয়েছে অনন্য রেকর্ড। পাঁচটি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ২৩টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে সবকটিতেই বিজয়ী হন তিনি।

২০০৭ সালে সেনাসমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। দীর্ঘ কারাবাস ও একাধিক মামলার মুখোমুখি হলেও তিনি বিদেশে নির্বাসনে যেতে অস্বীকৃতি জানান। পরবর্তী সময়ে আওয়ামী লীগ সরকার আমলে তার বিরুদ্ধে একাধিক দুর্নীতি ও অন্যান্য মামলা হয়। জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় দণ্ডপ্রাপ্ত হয়ে ২০১৮ সালে কারাবরণ করেন তিনি। বর্তমানে তিনি নির্বাহী আদেশে জামিনে ছিলেন।

আরও পড়ুন
khaleda-zia

খালেদা জিয়ার জানাজা বুধবার: সালাহউদ্দিন আহমেদ

বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবনের মাধ্যমে বাংলাদেশের ইতিহাসে গভীর ছাপ রেখে গেছেন বেগম খালেদা জিয়া। তার মৃত্যুতে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নেমে এসেছে শোকের ছায়া।

আরটিভি/এসকে