সোমবার, ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ , ০১:৫৯ পিএম
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সাবেক ৮ জন কেন্দ্রীয় সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সংসদ সদস্য (এমপি) নির্বাচিত হয়েছেন। তাদের মধ্যে পাঁচজন প্রথমবারের মতো জাতীয় সংসদে যাচ্ছেন। পাশাপাশি কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কমিটির একাধিক সাবেক নেতা ধানের শীষ প্রতীকে বিজয়ী হয়েছেন।
দলের ‘ভ্যানগার্ড’ খ্যাত ছাত্রসংগঠনটির সাবেক শীর্ষ নেতৃত্বের সংসদে প্রবেশকে ইতিবাচকভাবে দেখছেন নেতাকর্মীরা। তাদের মতে, এতে ছাত্রদলের প্রতি দলের আস্থা এবং ছাত্রনেতাদের জনগ্রহণযোগ্যতা পুনরায় প্রমাণিত হলো।
ছাত্রদলের সাবেক আহ্বায়ক ও ডাকসুর সাবেক ভিপি আমানউল্লাহ আমান ঢাকা-২ (কেরানীগঞ্জ) আসন থেকে ১,৬৩,৭৯৩ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি আগে প্রতিমন্ত্রী ছিলেন। সাবেক জিএস খায়রুল কবির খোকন নরসিংদী-১ আসনে ১,৬০,৬৭৬ ভোট পেয়ে বিজয়ী। গাজীপুর-৫ আসনে সাবেক সভাপতি এ কে এম ফজলুল হক মিলন পেয়েছেন ১,৩৩,৬৯৭ ভোট। লক্ষ্মীপুর-৩ আসনে সাবেক সভাপতি শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি পেয়েছেন ১,৩৩,৭৬৫ ভোট।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, এ চারজনের মধ্যে কয়েকজনকে দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান-এর নেতৃত্বাধীন সম্ভাব্য মন্ত্রিসভায় দেখা যেতে পারে।
খুলনা-৪ আসনে প্রথমবারের মতো বিজয়ী হয়েছেন সাবেক সভাপতি আজিজুল বারী হেলাল। টাঙ্গাইল-৫ (সদর) থেকে জয়ী হয়েছেন সাবেক সভাপতি সুলতান সালাউদ্দিন টুকু। ঢাকা-৯ আসনে নির্বাচিত হয়েছেন সাবেক সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রশিদ হাবিব। ভোলা থেকে প্রথমবার নির্বাচিত হয়েছেন সাবেক সহ-সভাপতি ও বর্তমান যুবদল সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম নয়ন।
এছাড়া রকিবুল ইসলাম বকুল, আমিরুল ইসলাম খান আলিম, এবিএম মোশাররফ হোসেন, রাজীব আহসান এবং এস এম জিলানীসহ আরও কয়েকজন সাবেক ছাত্রনেতা বিজয়ী হয়েছেন।
নির্বাচন শেষে শুরু হয়েছে মন্ত্রিসভা গঠনের প্রক্রিয়া। বিএনপির নীতিনির্ধারকদের ভাষ্য অনুযায়ী, নতুন মন্ত্রিসভা ৩২ থেকে ৪২ সদস্যের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকতে পারে। প্রবীণদের অভিজ্ঞতা ও নবীনদের উদ্যম এই সমন্বয়ে মন্ত্রিসভা গঠনের পরিকল্পনা রয়েছে।
দলীয় নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, নির্বাচনের পরদিন সিনিয়র নেতারা দলের চেয়ারম্যানের সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠকে সম্ভাব্য মন্ত্রীদের নাম, সংসদ সদস্যদের শপথ ও সরকার গঠনের সার্বিক বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।
সংসদ সদস্য নন এমন কয়েকজন হেভিওয়েট নেতাকেও টেকনোক্র্যাট কোটায় মন্ত্রিসভায় নেওয়া হতে পারে। এ ক্ষেত্রে আলোচনায় রয়েছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী এবং যুগ্ম মহাসচিব হাবিব-উন-নবী খান সোহেল।
দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, কেমন মন্ত্রিসভা হতে যাচ্ছে, তা দেখার জন্য দেশবাসীকে আর অল্প কিছু সময় অপেক্ষা করতে হবে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ছাত্রসংগঠন থেকে উঠে আসা এসব নেতার সংসদে প্রবেশ দলীয় রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করবে। বিশেষ করে প্রথমবারের মতো জাতীয় সংসদে যাওয়া সাবেক ছাত্রনেতাদের উপস্থিতি ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। একই সঙ্গে জাতীয় রাজনীতিতে ছাত্রনেতৃত্বের ধারাবাহিক প্রভাবও আরও স্পষ্ট হলো।
আরটিভি/এসকে