মঙ্গলবার, ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ , ০১:৫৭ পিএম
জামালপুর-১ (দেওয়ানগঞ্জ-বকশীগঞ্জ) আসন থেকে বিজয়ী বিএনপি নেতা এম. রশিদুজ্জামান মিল্লাত প্রতিমন্ত্রী হিসেবে ডাক পেয়েছেন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে তিনি এক লাখ ৭৩ হাজার ৬৫৬ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন।
বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির কোষাধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালনকারী মিল্লাত তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী মোহাম্মদ নাজমুল হক সাঈদী-কে বড় ব্যবধানে পরাজিত করেন। জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশের দাড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী অ্যাডভোকেট নাজমুল হক সাঈদী পান ৯৬ হাজার ৭৮৩ ভোট।
জামালপুর-১ আসনটি দেওয়ানগঞ্জ উপজেলা ও বকশীগঞ্জ উপজেলা নিয়ে গঠিত। ২০২৬ সালের ১৫ জানুয়ারি প্রকাশিত বাংলাদেশ গেজেট অনুযায়ী এ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৪ লাখ ২৮ হাজার ৮৭৫ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার: ২ লাখ ১৪ হাজার ১০৪ জন, নারী ভোটার: ২ লাখ ১৪ হাজার ৭৬৯ জন,হিজড়া ভোটার: ২ জন।
উপজেলা ভিত্তিক প্রাপ্ত ভোটের হিসাবে, বকশীগঞ্জ উপজেলা থেকে মিল্লাত পান ৫৯ হাজার ৩৭৯ ভোট, দেওয়ানগঞ্জ উপজেলা থেকে পান ১ লাখ ১৩ হাজার ১৮৯ ভোট, দুই উপজেলা মিলিয়ে মোট প্রাপ্ত ভোট দাঁড়ায় এক লাখ ৭৩ হাজার ৬৫৬।
সরকারের পক্ষ থেকে প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালনের আহ্বান পাওয়ায় স্থানীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে উচ্ছ্বাস দেখা গেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, জামালপুর–১ আসনে এই ফলাফল বিএনপির সাংগঠনিক শক্তির প্রতিফলন।
প্রসঙ্গত, গত ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনে ২৯৭টি আসনের মধ্যে ২০৯টি আসনে জয় পেয়েছেন বিএনপির প্রার্থীরা। এছাড়া জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্য পেয়েছে ৭৭ আসন। যেখানে জামায়াত এককভাবে পেয়েছে ৬৮ আসন এবং ৯ আসন পেয়েছে তাদের শরিক দলগুলো।জাতীয় সংসদের ৩০০টি আসনের মধ্যে ১৫১টি আসনে বিজয়ী হলেই সরকার গঠন করা যায়। অর্থাৎ মোট আসনের ৫০ দশমিক ৩৩ শতাংশ আসনে জয়ী হলেই সরকার গঠন করতে পারে একটি দল। বিএনপির এই নিরঙ্কুশ জয়ে উল্লসিত দলের সর্বস্তরের নেতাকর্মীরা। সবমিলিয়ে বিএনপিতে বইছে স্বস্তির সুবাতাস।
এবারের নির্বাচনে বিএনপির ভূমিধস বিজয়ের পেছনে কাজ করেছে নানা কারণ। এসব কারণের মধ্যে রয়েছে- একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ধারণ, দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ক্যারিশম্যাটিক লিডারশিপ, দীর্ঘ ১৭ বছরের বেশি সময় ধরে পতিত আওয়ামী লীগ সরকারের মাধ্যমে দলের লাখো নেতাকর্মী নির্যাতনের শিকার, দলের অটুট ঐক্য, দলের প্রয়াত চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া ও জিয়া পরিবারের সীমাহীন ত্যাগ।
তবে এ বিজয়ের পেছনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হলো দলের কাণ্ডারী তারেক রহমানের দেশে প্রত্যাবর্তন। দীর্ঘ ১৭ বছর নির্বাসনে থাকার পর দেশে ফেরা এবং নির্বাচনী রাজনীতিতে সক্রিয় নেতৃত্ব প্রদান- বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক ব্যতিক্রমী ঘটনা।
নির্বাচনী প্রচারে তার নেতৃত্ব, দলীয় ঐক্য ও সাংগঠনিক পুনর্গঠন বিএনপিকে নতুন করে প্রাণবন্ত করেছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, তারেক রহমান কেবল নির্বাচনে জয় নিশ্চিত করেননি, বরং দলকে দীর্ঘদিন পর একটি সুস্পষ্ট রাজনৈতিক রোডম্যাপ দিয়েছেন। এই রোডম্যাপের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে- গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার, প্রশাসনিক সংস্কার, অর্থনৈতিক পুনর্গঠন ও সুশাসন প্রতিষ্ঠা।
আরটিভি/এসকে