images

রাজনীতি

৫০ সদস্যের মন্ত্রিসভা গঠন করছে বিএনপি, ডাক পেলেন যারা

মঙ্গলবার, ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ , ০২:১৮ পিএম

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ গ্রহণ শেষ হয়েছে। এ সরকারের নতুন মন্ত্রিসভার আকার হতে পারে ৫০।  

মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় নতুন মন্ত্রিসভাকে শপথ পাঠ করাবেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। এ শপথের মধ্য দিয়ে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করা বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) এ নিয়ে চতুর্থবারের মতো সরকার গঠন করছে। 

নতুন মন্ত্রীদের শপথ অনুষ্ঠানে আনা-নেয়ার জন্য ৪৯টি গাড়ি পাঠাচ্ছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। এর মধ্যে ২৫ পূর্ণমন্ত্রী এবং ২৪ প্রতিমন্ত্রী হতে পারেন বলে জানা গেছে। এরই মধ্যে শপথ নেওয়ার জন্য আমন্ত্রণ জানিয়ে ফোন দিতে শুরু করেছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।

বিএনপি সরকারের নতুন মন্ত্রিসভায় স্থান পাচ্ছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সালাহউদ্দিন আহমদসহ আরও অনেকে। আরও যাদের নাম রয়েছে তারা হলেন- ইকবাল হাসান মাহমুদ, হাফিজ উদ্দিন আহমেদ, আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেন, ড. খলিলুর রহমান (টেকনোক্র্যাট)। 

ফরহাদ হোসেন আজাদ: পঞ্চগড়-২ (বোদা ও দেবীগঞ্জ) আসনে বিএনপি থেকে নির্বাচিত ফরহাদ হোসেন আজাদ প্রতিমন্ত্রী হচ্ছেন। তিনি দলটির জাতীয় নির্বাহী কমিটির পল্লী উন্নয়নবিষয়ক সম্পাদক ও পঞ্চগড় জেলা বিএনপির সদস্যসচিব।

আরিফুল হক চৌধুরী: আরিফুল হক চৌধুরী মন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার জন্য ফোন পেয়েছেন। তিনি এবারই প্রথমবারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। সিলেট সিটি করপোরেশনের দুইবারের নির্বাচিত মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী। মন্ত্রী হওয়ার বিষয়টি তিনি নিজেই এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

আরও পড়ুন
Web-Image

তারেক রহমান সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত

এহসানুল হক মিলন: মন্ত্রিসভায় মন্ত্রী হওয়ার ডাক পেয়েছেন সাবেক শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ও চাঁদপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য আ ন ম এহসানুল হক মিলন। আ ন ম এহসানুল হক মিলনের একান্ত সচিব এম এ ফয়েজ এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

নুরুল হক নূর: পটুয়াখালী-৩ (গলাচিপা-দশমিনা) আসন থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য ও ডাকসুর সাবেক ভিপি নুরুল হক নূর। তিনিও তারেক রহমানের মন্ত্রিসভায় মন্ত্রী হিসেবে শপথ নিতে ডাক পেয়েছেন। 

খন্দকার আবদুল মুক্তাদীর: নতুন মন্ত্রিসভায় পূর্ণমন্ত্রী হিসেবে ঠাঁই পাওয়ার কথা জানিয়েছেন সিলেট-১ (মহানগর ও সদর) আসনের সংসদ সদস্য খন্দকার আবদুল মুক্তাদীর।  মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে খন্দকার আবদুল মুক্তাদীরকে মন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার জন্য কল করা হয়েছে। তিনি এবারই প্রথমবারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। 

মীর শাহে আলম: মীর শাহে আলম প্রতিমন্ত্রী হিসেবে মন্ত্রিসভার শপথের জন্য ফোন পেয়েছেন। তিনি বগুড়া-২ আসন থেকে নির্বাচিত। মীর শাহে আলম বগুড়া জেলা বিএনপির সহসভাপতি।

শরীফুল আলম: কিশোরগঞ্জ-৬ আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য শরীফুল আলম প্রতিমন্ত্রী হিসেবে ফোন পেয়েছেন। বিএনপি থেকে নির্বাচিত এই সংসদ সদস্য এবারই প্রথম নির্বাচনী জয়ী হয়ে আজ সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নিয়েছেন। তিনি নিজেই প্রতিমন্ত্রী হিসেবে ফোন পাওয়ার কথা জানিয়েছেন।

রশিদুজ্জামান মিল্লাত: প্রতিমন্ত্রী হচ্ছেন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জামালপুর-১ (দেওয়ানগঞ্জ-বকশীগঞ্জ) আসন থেকে বিজয়ী এম. রশিদুজ্জামান মিল্লাত।

প্রসঙ্গত, গত ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনে ২৯৭টি আসনের মধ্যে ২০৯টি আসনে জয় পেয়েছেন বিএনপির প্রার্থীরা। এছাড়া জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্য পেয়েছে ৭৭ আসন। যেখানে জামায়াত এককভাবে পেয়েছে ৬৮ আসন এবং ৯ আসন পেয়েছে তাদের শরিক দলগুলো।

জাতীয় সংসদের ৩০০টি আসনের মধ্যে ১৫১টি আসনে বিজয়ী হলেই সরকার গঠন করা যায়। অর্থাৎ মোট আসনের ৫০ দশমিক ৩৩ শতাংশ আসনে জয়ী হলেই সরকার গঠন করতে পারে একটি দল। বিএনপির এই নিরঙ্কুশ জয়ে উল্লসিত দলের সর্বস্তরের নেতাকর্মীরা। সবমিলিয়ে বিএনপিতে বইছে স্বস্তির সুবাতাস।

আরও পড়ুন
Web-Image

সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ নেয়নি বিএনপি

এবারের নির্বাচনে বিএনপির ভূমিধস বিজয়ের পেছনে কাজ করেছে নানা কারণ। এসব কারণের মধ্যে রয়েছে- একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ধারণ, দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ক্যারিশম্যাটিক লিডারশিপ, দীর্ঘ ১৭ বছরের বেশি সময় ধরে পতিত আওয়ামী লীগ সরকারের মাধ্যমে দলের লাখো নেতাকর্মী নির্যাতনের শিকার, দলের অটুট ঐক্য, দলের প্রয়াত চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া ও জিয়া পরিবারের সীমাহীন ত্যাগ।

তবে এ বিজয়ের পেছনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হলো দলের কাণ্ডারী তারেক রহমানের দেশে প্রত্যাবর্তন। দীর্ঘ ১৭ বছর নির্বাসনে থাকার পর দেশে ফেরা এবং নির্বাচনী রাজনীতিতে সক্রিয় নেতৃত্ব প্রদান- বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক ব্যতিক্রমী ঘটনা। নির্বাচনী প্রচারে তার নেতৃত্ব, দলীয় ঐক্য ও সাংগঠনিক পুনর্গঠন বিএনপিকে নতুন করে প্রাণবন্ত করেছে। 

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, তারেক রহমান কেবল নির্বাচনে জয় নিশ্চিত করেননি, বরং দলকে দীর্ঘদিন পর একটি সুস্পষ্ট রাজনৈতিক রোডম্যাপ দিয়েছেন। এই রোডম্যাপের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে- গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার, প্রশাসনিক সংস্কার, অর্থনৈতিক পুনর্গঠন ও সুশাসন প্রতিষ্ঠা।

আরটিভি/এমএ