images

রাজনীতি / সোশ্যাল মিডিয়া

জটিল সমস্যা নিয়ে হাসপাতালে এনসিপি নেত্রী ডা. মিতু

রোববার, ০১ মার্চ ২০২৬ , ০৩:১০ পিএম

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় যুগ্ম সদস্যসচিব ডা. মাহমুদা মিতু হাসপাতালে ভর্তি আছেন। ইতোমধ্যে তার জরুরি অপারেশন সম্পন্ন হয়েছে।

শনিবার (১ মার্চ) ডা. মাহমুদা মিতুর ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডি থেকে দেওয়া এক পোস্টে এসব তথ্য জানান তার স্বামী।

ওই পোস্টে তিনি লিখেন, ‘আমার স্ত্রী ডা. মাহমুদা মিতুর গত ২৩ তারিখ হঠাৎ গাইনোকোলজিকাল ইমার্জেন্সি দেখা দেওয়ায় জরুরি অপারেশন করতে হয়েছে।

ডা. মাহমুদা মিতুর স্বামী লিখেন, অপারেশনের পূর্বে মিতু প্রায় শক অবস্থায় ছিলেন এবং পেটের ভেতরে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণজনিত জটিলতা তৈরি হয়েছিল। অনেকেই দৌড়ে এসে রক্ত দিয়ে গেছেন। আপনাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা। আপনাদের সহায়তা, আল্লাহর অশেষ রহমত এবং চিকিৎসকদের সর্বোচ্চ প্রচেষ্টায় সেই কঠিন সংকট সামাল দেওয়া সম্ভব হয়েছে।

তবে, অপারেশনের পর আরও কিছু জটিলতা দেখা দিয়েছিল উল্লেখ করে পোস্টে লেখা হয়, বর্তমানে অপারেশনজনিত সমস্যা না থাকলেও পোস্ট-অপারেটিভ ফুসফুসের সংক্রমণসহ আরো কিছু জটিলতার কারণে  ডা. মাহমুদা মিতু এখনো হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন। সেপটিসেমিয়ার ফিচারসহ, ডি ডাইমার, লিভার এঞ্জাইম, সিআরপি, ডব্লিউবিসি—সব প্যারামিটার রেইজসড সাথে নিউট্রোফিলিয়া। নতুন করে হাই ডায়াবেটিক (অন ইনসুলিন) অবস্থায় আছে। অক্সিজেন সাপোর্ট ছাড়া তার এখনো স্যাচুরেশন ফল করছে। তবে, যেগুলো বেশি ছিল, সেগুলো এখন কমে আসছে। সবশেষ শুধু ডব্লিউবিসি বেড়েছে। এই সব প্যারামিটার রেইজ যেহেতু এবং বর্তমানে তার ফুসফুস আক্রান্ত, তাই আপাতত কোনো ভিজিটর অনুমোদন করা হচ্ছে না। 

আরও পড়ুন
amir

নিউমোনিয়া নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি অর্থমন্ত্রী

ডা. মিতুর স্বামী লিখেন, দুই দিন আগে তাকে আইসিইউতে স্থানান্তরের পরিকল্পনাও করা হয়েছিল। কিন্তু, আল্লাহর অশেষ রহমত এবং চিকিৎসকদের আন্তরিক প্রচেষ্টায় আমরা আপাতত সেই কঠিন সময় অতিক্রম করতে পেরেছি, তবে এখনো পুরোপুরি ঝুঁকিমুক্ত নন। চিকিৎসকরা ধারণা করছেন আরো ৪-৫ দিন সময় লাগতে পারে। পরিবারের পক্ষ থেকে তিনি সম্পূর্ণ সুস্থ হওয়ার পর বিষয়টি জানাতে চেয়েছিলাম। কিন্তু গত কয়েক দিন তার অনলাইনে অনুপস্থিতি দেখে আপনাদের শত শত কল ও বার্তা এবং আজ এনসিপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে বিভিন্ন স্থান থেকে নেতাকর্মীদের উদ্বিগ্ন যোগাযোগের কারণে বিষয়টি জানানোকে দায়িত্ব মনে করেছি। অনেকে হাসপাতালের ঠিকানা জানতে চেয়েছেন। তিনি পাস করার পর প্রায় ৯ বছর যে গাইনি ক্লিনিকে কাজ করেছেন, সেটিকেই তিনি নিজের দ্বিতীয় ঘর মনে করেন। আমি ঢাকা মেডিক্যালে ডিউটিরত থাকার সময়ও তিনি নিজ সিদ্ধান্তে সেখানে ভর্তি হয়েছেন। তার কমফোর্ট জোন বিবেচনায় আমরা তাকে সেখানেই রেখেছি। 

তিনি আরও লিখেন, গত ২২-২৩ তারিখ থেকেই তিনি অনেক বেশি শারীরিক কষ্ট পেয়েছেন। আমি দেশবাসীর কাছে আমার স্ত্রীর জন্য আন্তরিক দোয়া প্রার্থনা করছি। তার কথা বা অবস্থানের কারণে যদি কেউ কোনোভাবে কষ্ট পেয়ে থাকেন, তাহলে নিজ গুণে ক্ষমা করে দেওয়ার অনুরোধ জানাচ্ছি। আমার বাচ্চারা, আমরা ব্যক্তিগত ও পারিবারিকভাবে এই মুহূর্তে কিছুটা ভঙ্গুর অবস্থার মধ্য দিয়ে যাচ্ছি। পবিত্র রমজান মাসের বরকতময় সময়ে আপনাদের আন্তরিক দোয়ার উছিলায় মহান আল্লাহ তাআলা যেন তাকে দ্রুত পূর্ণ সুস্থতা দান করেন এই কামনাই করছি। আপনাদের কাছে বিনীত অনুরোধ, তার নাম মনে পড়লেই নাম ধরে আল্লাহর কাছে দোয়া করবেন। আপনাদের দোয়া, ভালোবাসা ও সমর্থন আমাদের জন্য অনেক বড় শক্তি। মহান রাব্বুল আলামিন আপনাদের অন্তরে তার জন্য যে ভালোবাসা ও সম্মান সৃষ্টি করেছেন, সেই ভালোবাসা ও দোয়াতেই তিনি দ্রুত সুস্থ হয়ে আমাদের মাঝে ফিরে আসবেন এবং আপনাদের আশানুরূপ স্থানে আমরা অতি দ্রুতই তার কণ্ঠস্বর শুনতে পাব, ইনশাআল্লাহ।

আরটিভি/এসএইচএম