images

রাজনীতি

সেদিন হাসনাত আবদুল্লাহর সঙ্গে কী ঘটেছিল, জানালেন মনজুর আলম

বুধবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৬ , ১০:২৩ পিএম

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) সাবেক মেয়র মোহাম্মদ মনজুর আলমের উত্তর কাট্টলির বাসভবনে সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহর আগমন এবং পরবর্তীতে সৃষ্টি হওয়া অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি নিয়ে মুখ খুলেছেন তিনি। 

মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) দুপুরের সেই ঘটনা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা আলোচনা ও ভিডিও ছড়িয়ে পড়লে তিনি প্রকৃত বিষয়টি সংবাদমাধ্যমকে স্পষ্ট করেন।

সাবেক মেয়র বলেন, হাসনাত আবদুল্লাহ সাহেব চট্টগ্রামে এসে আমাকে দুপুরে ফোন দিয়েছিলেন। তিনি জানিয়েছিলেন আমার বাসায় আসতে চান। আমি তাকে সাদরে গ্রহণ করি এবং দুপুরের খাবারের আমন্ত্রণ জানাই।

বিকেল ৩টার দিকে হাসনাত আবদুল্লাহ মনজুর আলমের বাসভবনে পৌঁছান। দুইজনের মধ্যে কুশল বিনিময় হয় এবং তারা একসঙ্গে মধ্যাহ্নভোজে অংশ নেন। তবে হাসনাত আবদুল্লাহ বাসার ভেতরে থাকা অবস্থাতেই বাইরে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হতে শুরু করে।

হাসনাত আবদুল্লাহর আগমনের খবর পেয়ে স্থানীয় একদল যুবক ‘জুলাই যোদ্ধা’ পরিচয় দিয়ে বাসার সামনে জড়ো হন। তারা মনজুর আলমকে ‘আওয়ামী লীগের দোসর’ আখ্যা দিয়ে স্লোগান দিতে থাকেন এবং  সেখানে আসার প্রতিবাদ জানান।

আরও পড়ুন
copy

চট্টগ্রামে আওয়ামী লীগ নেতার বাসায় গিয়ে তোপের মুখে হাসনাত আবদুল্লাহ

বাসার ভেতরের পরিবেশ সম্পর্কে মনজুর আলম বলেন, বাইরে কিছু ছেলে জড়ো হওয়ার পর পরিস্থিতি বিবেচনায় হাসনাত আবদুল্লাহ নিজেই উদ্যোগী হন। তিনি নিজেই ঘর থেকে বেরিয়ে গিয়ে বিক্ষুব্ধ যুবকদের সামনে দাঁড়ান এবং তাদের সঙ্গে কথা বলেন। তিনি তাদের শান্ত করার চেষ্টা করেন এবং দীর্ঘক্ষণ আলোচনার পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে হাসনাত আবদুল্লাহ ওই এলাকা ত্যাগ করেন।

বিক্ষোভকারীদের করা ‘আওয়ামী লীগের দোসর’ অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে নজুর আলম বলেন, “আমার নামে কোনো মামলা নেই, আমি কখনো আওয়ামী লীগ করিওনি। আমি তো বিএনপির সমর্থন নিয়ে মেয়র হয়েছিলাম। আমি কী করে আওয়ামী লীগের দোসর হলাম?”

তিনি আরও জানান, যারা বিক্ষোভ করতে এসেছিল তারা স্থানীয় এবং বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। মূলত ভুল তথ্যের ভিত্তিতে বা রাজনৈতিক ভুল বোঝাবুঝি থেকে এমনটি ঘটে থাকতে পারে বলে তিনি মনে করেন।

২০১৫ সালের চসিক নির্বাচনের পর রাজনীতি থেকে অবসরের বিষয়টি পুনরায় মনে করিয়ে দিয়ে সাবেক এই মেয়র বলেন, “আমি অনেক আগেই রাজনীতি থেকে অবসর নিয়েছি। এখন কেবল সমাজসেবামূলক কাজ করছি। হাসনাত আবদুল্লাহর সঙ্গে আমার সাক্ষাৎ ছিল নিতান্তই সৌজন্যমূলক।”

আরটিভি/এআর