শনিবার, ০৯ মে ২০২৬ , ০৩:৩৯ পিএম
জাতীয় নাগরিক পাটির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর বিরুদ্ধে রাজনীতির নামে ধর্মীয় ভণ্ডামির অভিযোগ তুলেছেন গণ অধিকার পরিষদের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও বর্তমানে বিএনপি নেতা মুহাম্মদ রাশেদ খাঁন।
শনিবার (৯ মে) নিজের ফেসবুক পোস্টে এই অভিযোগ তুলেছেন তিনি।
আরটিভির পাঠকদের জন্য পোস্টটি হুবহু তুলে ধরা হলো—
‘রাজনীতির নামে ধর্মীয় ভণ্ডামি কখনোই নতুন রাজনীতি হতে পারেনা।’
শহীদ ওসমান হাদী এনসিপির ৩ টা অপরাধ চিহ্নিত করে গেছেন। তিনি বলেছিলেন, (১) ঠিক ৭১ এর মুক্তিযুদ্ধ যেভাবে আওয়ামীলীগ কুক্ষিগত করেছে, এনসিপি সেভাবে জুলাইকে কুক্ষিগত করেছে। (২) তারা অনেকে দুর্নীতিগ্রস্ত হয়েছে। আজ থেকে ১০ মাস আগে যে ছেলেটা দেখেছি সারা গায়ে আঘাতের চিহ্ন, সেইসব ছেলেমেয়ে মাত্র ৮-১০ মাসের মধ্যে কিভাবে কোটি টাকার মালিক হতে পারে? এই চিন্তায় আমাদেরও ঘুম আসেনা। (৩) জুলাইয়ে বৃহত্তর ঐক্য নষ্ট করেছে এনসিপি।
এছাড়া তিনি আরও বলেছিলেন, নিজেদের ক্ষমতা কুক্ষিগত করার জন্য বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের যে ফোর্স ছিলো, সেটাকেও নাই করে দেওয়া হলো।
এনসিপি সম্পর্কে এসব বলার কারণে এনসিপির শীর্ষ নেতৃবৃন্দ শহীদ ওসমান হাদী বেঁচে থাকা অবস্থা তাঁকে ধারণ করতো না, বরং এভয়ড করতো! কিন্তু তিনি শহীদ হওয়ার পরে হয়ে গেলেন এনসিপির আইডল! জাতীয় নির্বাচনে আগে তাঁকে এনসিপির সবচেয়ে বড় আধ্যাত্মিক নেতা হিসেবে দেখানোর চেষ্টা করা হলো! কিন্তু জীবিত অবস্থায় তিনি এনসিপি সম্পর্কে যেসব বলে গেছেন, সেগুলোর কোন জবাবদিহিতা এনসিপি করেছে?
এখন মসজিদে মসজিদে গিয়ে এনসিপি নেতা নাসির উদ্দীন পাটোয়ারী স্লোগান দিচ্ছে, আমরা সবাই হাদী হবো, গুলির মুখে কথা কবো.... তিনি কি সত্যিই শহীদ ওসমান হাদীকে ধারণ করেন, নাকি শহীদ ওসমান হাদীকে তার রাজনৈতিক যাত্রার ট্রাম কার্ড হিসেবে ব্যবহার করছেন? সেই উত্তর অবশ্যই শহীদ ওসমান হাদীর বক্তব্য বিশ্লেষণ করলে পাওয়া যায়। অতীতে তারা যেভাবে আওয়ামীলীগের মত জুলাইকে কুক্ষিগত করার চেষ্টা করেছে। ঠিক এখন শহীদ ওসমান হাদীর জনপ্রিয়তা কুক্ষিগত করে রাজনীতি করার চেষ্টা করছে এনসিপি।
দেখেন, আমরা সবাই ওসমান হাদী হত্যার বিচার চাই। কিন্তু যখন কোন শহীদকে নিয়ে অতিমাত্রায় রাজনীতি করা হয়, তখন ধীরেধীরে তাঁর সার্বজনীনতা নষ্ট হতে থাকে!
মসজিদ একটি পবিত্র জায়গা। মসজিদকে যদি কোন রাজনৈতিক দল বা নেতা দলীয় কার্যালয়ের মত ব্যবহার করতে চায়, সেটা কি ভাল হবে? দেখেন, পবিত্র জুমার নামাজ পড়ার জন্য দেশের বিভিন্ন মসজিদে এনসিপি নেতা নাসির উদ্দীন পাটোয়ারী যেতেই পারেন। কিন্তু তিনি যাওয়ার আগে ফেসবুকে পোস্ট করছেন এবং গুগল ম্যাপ শেয়ার করছেন। এরপরে কি ঘটছে?
ঐ অঞ্চলের এনসিপি, জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মী তার সাথে সাক্ষাতের জন্য জড়ো হচ্ছেন। তিনি সাাথে লোক নিয়ে যাচ্ছেন। তিনি মসজিদের ভিতরে বক্তব্যে দেওয়ার সময় সুকৌশলে প্রচার করছেন, মাসজিদের ভিতরে ছবি তুলবেন না। নামাজ শেষে আমি বাইরে গিয়ে দাঁড়াব, যার যার সেলফি তোলার দরকার, সকলে সেলফি তুলবেন..... গতকাল নারায়ণগঞ্জের ঘটনায় নিশ্চয়ই ঐ এলাকায় মানুষের বক্তব্য শুনেছেন।
একজন মুসল্লী বলেছেন, মসজিদ থেকে বের হওয়ার সময় তো একটা আদবকায়দা থাকবে, হাটার নিয়ম, চলার নিয়ম, কথা বলার নিয়ম, এখানে এমন হট্টগোল শুরু হয়েছে, মনে হচ্ছে তিনি সিনেমা হল থেকে বের হচ্ছে.....।
তিনি খুব জনপ্রিয় হয়েছেন, এটা দেখানোর জন্য তিনি তার পিআর টিম নিয়ে মসজিদে যাচ্ছেন। জোট ও দলের নেতাকর্মীদের জড়ো করছেন এবং সারাদেশের মানুষকে দেখাচ্ছেন যে, তাকে এক নজর দেখার জন্য সবাই মসজিদে নামাজে এসেছে! রাজনীতির নামে এই ধর্মীয় ভণ্ডামি কখনোই নতুন রাজনীতি হতে পারেনা।
আরটিভি/এসআর