শনিবার, ০৯ মে ২০২৬ , ০৯:০১ পিএম
ভারতে মুসলিম নিধনের প্রতিবাদে রাজধানীতে রোববার (১০ মে) বিক্ষোভ মিছিলের ডাক দিয়েছে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস।
শনিবার (৯ মে) দুপুরে পল্টনের কার্যালয়ে কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের নিয়মিত মাসিক বৈঠকে কর্মসূচির ঘোষণা দেন দলের আমির মাওলানা মামুনুল হক।
ভারতের পশ্চিমবঙ্গ-আসামে মুসলমানদের ওপর চলমান নিপীড়ন, উচ্ছেদ অভিযান ও সাম্প্রদায়িক সহিংসতার ঘটনায় উদ্বেগ ও নিন্দা জানান মামুনুল হক।
তিনি বলেন, পশ্চিমবঙ্গের দার্জিলিং, উত্তর দিনাজপুর, মুর্শিদাবাদসহ বিভিন্ন এলাকায় মুসলমানদের ঘরবাড়ি, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, মসজিদ ও ঈদগাহে হামলার ঘটনা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। একইভাবে আসামের বিভিন্ন অঞ্চলে মুসলিম জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে উচ্ছেদ অভিযান ও বসতবাড়ি ধ্বংসের ঘটনা মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন।
সংখ্যালঘু মুসলমানদের জানমাল, ধর্মীয় অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব বলে জানান মামুনুল হক। তিনি বলেন, ভারতের হিন্দুত্ববাদী সরকার ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের ভূমিকা পরিস্থিতিকে আরও উদ্বেগজনক করে তুলেছে।
তিনি জাতিসংঘ, ওআইসি, মুসলিম বিশ্ব এবং বিশেষভাবে বাংলাদেশ সরকারের প্রতি এ বিষয়ে কার্যকর কূটনৈতিক উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানান।
দলের মহাসচিব মাওলানা জালালুদ্দীন আহমদের সঞ্চালনায় বৈঠকে বক্তব্য দেন সিনিয়র নায়েবে আমির মাওলানা ইউসুফ আশরাফ, নায়েবে আমির মাওলানা শাহীনুর পাশা চৌধুরী, মাওলানা কোরবান আলী কাসেমী, মাওলানা মাহবুবুল হক, যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা আতাউল্লাহ আমীন, মাওলানা আব্দুল আজীজ, মুফতি শরাফত হোসাইন, মাওলানা তোফাজ্জল হোসাইন মিয়াজী ও মাওলানা শরীফ সাইদুর রহমান।
বৈঠকে বক্তারা বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে গাজা, লেবানন, ইয়েমেন ও ইরানকে কেন্দ্র করে যে অস্থিরতা ও সামরিক উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে, তা সমগ্র মুসলিম বিশ্বের জন্য গভীর উদ্বেগের বিষয়। বিশেষ করে ইরানকে ঘিরে চলমান উত্তেজনা বৃহত্তর আঞ্চলিক সংঘাতে রূপ নেওয়ার আশঙ্কা তৈরি করেছে।
বৈঠকে অবিলম্বে গাজা, লেবানন, ইয়েমেন, ইরানসহ সমগ্র মধ্যপ্রাচ্যে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা, ফিলিস্তিনিদের নিজ ভূমিতে ফেরার অধিকার নিশ্চিত এবং মসজিদুল আকসার মর্যাদা রক্ষায় কার্যকর আন্তর্জাতিক উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়।
একইসঙ্গে জাতিসংঘের নিষ্ক্রিয়তার সমালোচনা করে মুসলিম বিশ্বকে বিভেদ ভুলে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানানো হয়।
দেশের জনগণ গত ১২ ফেব্রুয়ারির গণভোটে সংবিধান সংস্কারের পক্ষে সুনির্দিষ্ট রায় দিয়েছে। সেই রায় উপেক্ষা করে সরকার জনগণের মতামতের প্রতি চরম অবজ্ঞা দেখিয়েছে, বলছেন বক্তারা।
আরটিভি/এমএ