images

রাজনীতি

রাষ্ট্র সংস্কারে রাজনীতিবিদদের সদিচ্ছার প্রয়োজন: ড. ফরাসউদ্দিন

বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬ , ০৭:০২ পিএম

বিগত ৫৫ বছরে অর্থনৈতিক অগ্রগতি সত্ত্বেও কাক্সিক্ষত রাষ্ট্রীয় সংস্কার অর্জনে বাংলাদেশ পিছিয়ে রয়েছে বলে মনে করেন বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ও বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ড. মোহাম্মদ ফরাসউদ্দিন। তার মতে, দৃঢ় রাজনৈতিক সদিচ্ছা, আমলাতান্ত্রিক নির্ভরতা হ্রাস এবং ওয়েস্টমিনস্টার ধাঁচের পারস্পরিক শ্রদ্ধাশীল রাজনৈতিক চর্চাই পারে দেশকে টেকসই সংস্কারের দিকে নিয়ে যেতে।

দেশের একটি গণমাধ্যমকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে ফরাসউদ্দিন বলেন, স্বাধীনতার পর দেশের মানুষের মাথাপিছু আয় ১০০ ডলার থেকে বেড়ে ২ হাজার ৮৬০ ডলারে উন্নীত হলেও সুযোগ থাকা সত্ত্বেও দক্ষিণ কোরিয়ার মতো ১০ হাজার ডলারে পৌঁছানো সম্ভব হয়নি। জাতিগতভাবে সততা, স্বচ্ছতা ও ন্যায়নিষ্ঠার সঙ্গে রাষ্ট্র পরিচালনায় ঘাটতি থাকাই এর মূল কারণ।

আরও পড়ুন
8

রাষ্ট্র সংস্কারের ৩১ দফা কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হবে: প্রধানমন্ত্রী

প্রকৃত রাষ্ট্র সংস্কারের উপায় ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি দেশের দ্বিদলীয় রাজনৈতিক কাঠামোর গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি বলেন, দেশে মূলত দ্বিদলীয় রাজনৈতিক ব্যবস্থা কার্যকর রয়েছে। প্রধান দুই রাজনৈতিক দল যদি স্বচ্ছ নির্বাচনের মাধ্যমে পালাক্রমে সরকার ও বিরোধী দলে যাওয়ার বিষয়ে একমত হতে পারে, তবেই রাষ্ট্র সংস্কার সহজ হবে। ওয়েস্টমিনস্টার ডেমোক্রেসির মতো নির্বাচিত সরকারকে যেমন মেনে নিতে হবে, তেমনি বিরোধী দলকেও উপযুক্ত সম্মান ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।

নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থার সমালোচনা করে সাবেক এই গভর্নর বলেন, বিশ্বজুড়ে কোথাও এ ধরনের ব্যবস্থা নেই। এটি মূলত বিরাজনীতিকরণ ও আমলাতান্ত্রিক অব্যবস্থাপনা জোরদার করার একটি হাতিয়ার। আমলাদের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে রাজনৈতিক আলোচনার মাধ্যমেই প্রশাসনিক ও গণতান্ত্রিক সমস্যার সমাধান খোঁজা উচিত।

অতীতের রাজনৈতিক সুযোগ হাতছাড়ার প্রসঙ্গ টেনে ফরাসউদ্দিন বলেন, ২০১৪ সালে নির্বাচনকালীন সংকট নিরসনে যৌথ মন্ত্রিসভার যে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল, তা গ্রহণ করা হলে দেশে বিরাজনীতিকরণের পথ বন্ধ হতো। ওই সময় স্বরাষ্ট্র ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ দপ্তর বিরোধী দলকে দেওয়ার প্রস্তাব থাকা সত্ত্বেও তা হাতছাড়া হওয়াকে তিনি রাজনৈতিক সদিচ্ছার অভাব হিসেবে চিহ্নিত করেন।

ড. ফরাসউদ্দিন আরও বলেন, শুধু সাময়িক ব্যবস্থার পেছনে না ছুটে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে পারস্পরিক আস্থা গঠন, স্বচ্ছ নির্বাচন ব্যবস্থা চালু করা এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে স্বাধীনভাবে কাজ করতে দেওয়াই হলো প্রকৃত রাষ্ট্র সংস্কারের একমাত্র পথ।

আরটিভি/এআর