শনিবার, ২৫ জুলাই ২০২৬ , ০৪:৫৭ পিএম
বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের শিক্ষা ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক পদ থেকে পদত্যাগের পর সংগঠনটির সঙ্গে দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলা ও বিভিন্ন মুহূর্তের স্মৃতিচারণ করেছেন মেঘমল্লার বসু।
শনিবার (২৫ জুলাই) নিজের ফেসবুক পোস্টে তিনি বলেন, ছাত্র ইউনিয়নের সঙ্গে তার সম্পর্ক শুরু হয়েছিল ২০১৩ সাল থেকে, যখন এসএসসি পরীক্ষা দেওয়ার পর তিনি সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত হন।
তিনি লেখেন, প্রথমে মোহাম্মদপুরে সংগঠনের কাজ করেন। পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়ে বিশ্ববিদ্যালয় ইউনিটের সঙ্গে যুক্ত হন। ২০১৯ সালে ডাকসু নির্বাচনের আগে ছাত্র ইউনিয়নের কলা ও সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের দায়িত্ব ছেড়ে স্বতন্ত্র জোটের গঠনের কাজে যুক্ত হলেও কয়েক মাসের মধ্যেই তার সেই উদ্যোগে মোহভঙ্গ হয়। এরপর তিনি আবার ছাত্র ইউনিয়নে ফিরে আসেন।
মেঘমল্লার বসুর বলেন, সে সময়ের নেতৃত্ব তাকে সাদরে ফিরিয়ে না নিলে তার রাজনৈতিক জীবনের কী হতো, তা তিনি প্রায়ই ভাবেন। ছাত্র ইউনিয়নে ফিরে আসার পরের ছয় বছর তার জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময় বলে উল্লেখ করেন তিনি।
ফেসবুক পোস্টে তিনি বলেন, সংগঠনের ভাঙনকে কেন্দ্র করে প্রাতিষ্ঠানিক অস্বীকৃতি এবং শুভানুধ্যায়ীদের একটি বড় অংশের বিরূপ আচরণের মতো নানা প্রতিকূলতার মধ্য দিয়েই তার রাজনৈতিক জীবনের গুরুত্বপূর্ণ সময় কেটেছে। দুই বছরের বেশি সময় বিশ্ববিদ্যালয় ইউনিটের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করে অনেক কিছু শিখেছেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
ছাত্র ইউনিয়নের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে মেঘমল্লার বসু লেখেন, তার মতো একজন ‘আনঅর্থোডক্স অ্যাক্টিভিস্টকে’ রাজনৈতিক পরিসর দেওয়া এবং নেতৃত্বে নিয়ে আসা ছাত্র ইউনিয়নের পক্ষেই সম্ভব হয়েছে। তার ভাষায়, ‘ছাত্র ইউনিয়ন আমার কাছে একটা স্কুলের মতো। রাজনৈতিক শিক্ষার স্কুল।’
তিনি আরও বলেন, ছাত্র ইউনিয়নের শিক্ষা তার মধ্যে সবসময় থেকে যাবে। স্বৈরাচার, সাম্রাজ্যবাদ ও সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে ছাত্র ইউনিয়নের লড়াই চলমান থাকবে এবং নতুন প্রজন্ম সেই লড়াইয়ের দায়িত্ব গ্রহণ করবে।
প্রায় ১৩ বছরের পথচলার স্মৃতিচারণ করে তিনি সংগঠনের সব সহযোদ্ধাকে কুর্নিশ জানান। একই সঙ্গে প্রয়াত কমরেড সাদাত মাহমুদ ও রেজাকে স্মরণ করেন। পোস্টের শেষাংশে তিনি লেখেন, ‘বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন দীর্ঘজীবী হোক। মেঘমল্লার বসু, সাইনিং অফ।’
এর আগে বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, কেন্দ্রীয় কমিটির শিক্ষা ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক মেঘমল্লার বসুর পদত্যাগপত্র গ্রহণ করা হয়েছে। সংগঠনটির ভাষ্য, বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে একটি নতুন রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্মের সঙ্গে সম্পৃক্ত হওয়ায় একইসঙ্গে দুটি রাজনৈতিক সংগঠনের দায়িত্ব পালন করলে সাংগঠনিক মতদ্বৈততা বা স্বার্থের সংঘাত তৈরি হতে পারে। এই বিবেচনায় তার পদত্যাগপত্র গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
ছাত্র ইউনিয়নের পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়, মেঘমল্লার বসু সম্প্রতি নেটওয়ার্ক ফর পিপলস অ্যাকশন (এনপিএ)-এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন। একই সাংগঠনিক বাস্তবতার কারণে সহ-সভাপতি মাঈন আহমেদ ও কেন্দ্রীয় সংসদের সহ-সভাপতি নাজিফা জান্নাতও ছাত্র ইউনিয়নের দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন।
আরটিভি/ এসকেডি