images

রাজনীতি

খালেদা জিয়াকে ইউনাইটেড হাসপাতালে ভর্তির দাবি রিজভীর

রোববার, ১০ জুন ২০১৮ , ০৫:৩৯ পিএম

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে আবার বঙ্গবন্ধু মেডিকেলে এনে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার, সেটা ভাওতাবাজি। এই হাসপাতালে পরীক্ষা-নিরীক্ষা সম্ভব নয়।

রবিবার নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে তিনি একথা বলেন এবং খালেদা জিয়াকে ইউনাইটেড হাসপাতালে ভর্তির দাবি জানান।

শনিবার খালেদা জিয়ার চারজন চিকিৎসক কারাগারে দেখা করে এসে দাবি করেন, বিএনপি নেত্রীর মাইল্ড স্ট্রোক হয়েছিল। তাকে হাসপাতালে আনা না হলে বড় ধরনের স্ট্রোক হতে পারে।

রিজভী বলেন, ‘খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্যের পরীক্ষা-নিরীক্ষা বঙ্গবন্ধু মেডিকেলে সম্ভব নয়। আধুনিক যন্ত্রপাতির সকল ব্যবস্থা ইউনাটেড হাসপাতালে রয়েছে। অতীতেও আওয়ামী লীগের সভানেত্রীসহ অনেক নেতাকে কারাগারে বন্দী থাকা অবস্থায় প্রাইভেট হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসার সুযোগ দেয়া হয়েছে। তাহলে বেগম খালেদা জিয়াকে তাঁর পছন্দ মতো চিকিৎসা করতে না দেয়া একজন বন্দীর প্রতি চরম মানবধিকার লঙ্ঘন। কারাগারে বিএনপি চেয়ারপারসনের অসুস্থতাকে আরও গুরুতর করে তাকে রাজনৈতিক ময়দান থেকে সরিয়ে দেয়ার সুগভীর চক্রান্ত হচ্ছে।’

বর্তমানে তার (খালেদা জিয়া) যে শারীরিক অবস্থা তাতে দ্রুত চিকিৎসা না দিলে তার বড় ধরনের ক্ষতি হয়ে যেতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেন রিজভী।

রিজভী বলেন, ‘স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন কারাগারে বেগম খালেদা জিয়া যে পড়ে গিয়েছিলেন সেই সম্পর্কে কারা কর্তৃপক্ষ অবগত নয়। তার চিকিৎসা ও অসুস্থতা নিয়ে কতটা অবহেলা করা হচ্ছে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যে সেটা পরিস্কার হয়ে গেল।’

রিজভীর দাবি, কারাগারে পড়ে গিয়ে বেগম খালেদা জিয়া কিছুক্ষণ অজ্ঞান হয়ে পড়েছিলেন। কিন্তু এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এবং কারা কর্তৃপক্ষের কিছু জানা না থাকাটা তার চিকিৎসায় অবহেলার প্রমাণ।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল জানিয়েছেন, এই ধরনের কোনো ঘটনা ঘটেনি। খালেদা জিয়ার সুগার লেভেল পড়ে গিয়েছিল। পরে চকলেট খাওয়ানোর পর ঠিক হয়ে যায়।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল, আইনমন্ত্রী আনিসুল হক এবং অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম জানিয়েছেন, চিকিৎসকদের এই দাবি সত্য নয়। রোজা রাখার পর খালেদা জিয়ার ব্লাড সুগার লেভেল পড়ে গিয়েছিল। পরে তাকে চকলেট খাওয়ানোর পর ঠিক হয়ে যায়। তারপরও বঙ্গবন্ধু মেডিকেলে এনে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার কথা জানান দুই মন্ত্রী। এর আগে গত ৭ এপ্রিলও তাকে এই হাসপাতালে আনা হয়েছিল।

রিজভী বলেন, ‘আমরা বারবার দেশনেত্রীর অসুস্থতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করলেও এবং ব্যক্তিগত চিকিৎসকরা তাঁর কোন কোন বিষয়ে জরুরি চিকিৎসা দরকার সে বিষয়ে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে আহ্বান জানালেও সরকার এবং কারা কর্তৃপক্ষ সব সময় এড়িয়ে চলছে। এ বিষয়ে এখনও তারা কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি।’

অবিলম্বে ঈদের আগেই খালেদা জিয়াকে মুক্তি দেয়ার দাবি জানান রিজভী। সেই সঙ্গে দলীয় প্রধানের অসুস্থতা নিয়ে সরকারের ‘ষড়যন্ত্রের’ সজাগ দৃষ্টি রাখতে দলীয় নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

পি