মঙ্গলবার, ১৬ ডিসেম্বর ২০২৫ , ০৯:২৬ পিএম
নেপালের কাঠমান্ডুস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসে উৎসবমুখর পরিবেশে মহান বিজয় দিবস-২০২৫ উদযাপিত হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৬ ডিসেম্বর) সকালে দূতাবাস প্রাঙ্গণে জাতীয় পতাকা উত্তোলন ও জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মাধ্যমে অনুষ্ঠানটি শুরু হয়। দীর্ঘ নয় মাসব্যাপী মহান মুক্তিযুদ্ধের সময়ে জীবন উৎসর্গকারী বীর শহীদ এবং জুলাই–আগস্ট ২০২৪-এর গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয় এবং তাদের আত্মার মাগফিরাত ও চিরশান্তি কামনায় বিশেষ মোনাজাত করা হয়।
বিজয় দিবস উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন— সার্ক সচিবালয়ের মহাসচিব জনাব মো. গোলাম সারোয়ার, সার্ক সচিবালয়ে কর্মরত বাংলাদেশি কর্মকর্তারা; নেপালে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থায় কর্মরত প্রবাসী বাংলাদেশি নাগরিক; বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের নেপাল অফিসের কর্মকর্তারা; নেপালে বসবাসরত বাংলাদেশ কমিউনিটির সদস্যরা; নেপালের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ ও ব্যবসায়ীরা। এ ছাড়া বর্তমানে কাঠমাণ্ডু সফররত বাংলাদেশের একটি নারী ফুটবল দলের খেলোয়াড় ও কর্মকর্তাবৃন্দ অনুষ্ঠানে যোগ দেন।
বিজয় দিবসের এই উদযাপনের অন্যতম আকর্ষণ ছিল সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, যেখানে কাঠমাণ্ডুর স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা বাংলা ও নেপালি সুরের সাথে নৃত্য পরিবেশন করেন এবং বাংলা ও নেপালি গান পরিবেশন করেন। এ ছাড়া নেপালের সুরসুধা মিউজিক গ্রুপের কণ্ঠশিল্পী সরস্বতী খাত্রী তার কণ্ঠে কয়েকটি বাংলা ও নেপালি গান পরিবেশন করে অনুষ্ঠানে বিশেষ মাত্রা যোগ করেন।
আলোচনা পর্বে সার্ক মহাসচিব রাষ্ট্রদূত মো. গোলাম সারোয়ার মহান বিজয় দিবসের তাৎপর্য তুলে ধরেন এবং মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ধারণ ও সমুন্নত রাখার আহ্বান জানান। তিনি আরও উল্লেখ করেন, জুলাই–আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে সৃষ্ট সুযোগকে কাজে লাগিয়ে বৈষম্যহীন ও অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সম্মিলিতভাবে কাজ করা এখন সময়ের দাবি।

নেপালে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত জনাব মো. শফিকুর রহমান অনুষ্ঠানের সমাপনী বক্তব্য প্রদান করেন। বক্তব্যের শুরুতে তিনি ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে জীবন উৎসর্গকারী বীর শহীদদের এবং আহত মুক্তিযোদ্ধারা, যাদের ত্যাগের বিনিময়ে আমাদের স্বাধীনতা অর্জিত হয়ে, তাদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও সম্মান জানান। একইসঙ্গে তিনি জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের প্রতিও গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
১৯৭১ সালে নিপীড়ন, অবিচার, বৈষম্য ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে মুক্তিযোদ্ধাদের দীর্ঘ সংগ্রাম ও লড়াইয়ের কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থান আমাদের মুক্তিযুদ্ধের অপূর্ণ স্বপ্ন বাস্তবায়নের পথে এক নতুন মাত্রা ও দিকনির্দেশনা যোগ করেছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, গণঅভ্যুত্থান একটি ন্যায়ভিত্তিক, সুশাসনসম্পন্ন, দুর্নীতিমুক্ত ও অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশ ২.০ গড়ে তোলার সুযোগ সৃষ্টি করেছে যার স্বপ্ন মহান মুক্তিযুদ্ধের বীর মুক্তিযোদ্ধারা দেখেছিলেন।

১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ ও ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের অনন্য চেতনার মধ্যে সাদৃশ্য টেনে তিনি বলেন, যেমনভাবে বীর মুক্তিযোদ্ধারা রাজনৈতিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিক বৈষম্যমুক্ত একটি স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের জন্য নিজেদের অমূল্য জীবন উৎসর্গ করেছিলেন, তেমনি ২০২৪ সালে নতুন প্রজন্মের যুবসমাজ গণতন্ত্র, সমতা, ন্যায় ও ন্যায্যতার ভিত্তিতে দেশ পুনর্গঠনের লক্ষ্যে সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকার করেছে। তিনি প্রবাসী সকল বাংলাদেশিকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে মহান মুক্তিযুদ্ধ ও ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের চেতনায় বাংলাদেশ ২.০ গড়ে তুলতে নিজ নিজ অবস্থান হতে কাজ করার আহ্বান জানান।
পরিশেষে উপস্থিত অতিথিদের সম্মানে আয়োজিত মধ্যাহ্নভোজের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।
আরটিভি/একে