শনিবার, ২৪ জানুয়ারি ২০২৬ , ১১:০৯ পিএম
নেপালে নিযুক্ত বাংলাদেশ দূতাবাসের উদ্যোগে কাঠমান্ডুতে এক ব্যতিক্রমী সেমিনার ও মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শনিবার(২৪ জানুয়ারি) ‘মিট অ্যান্ড গ্রিট উইথ দ্য অ্যাম্বাসেডর’ শীর্ষক এই অনুষ্ঠানে নেপালের সেইসব চিকিৎসক ও চিকিৎসা পেশাজীবীরা অংশ নেন যারা বাংলাদেশ থেকে চিকিৎসা শিক্ষা গ্রহণ করেছেন। মূলত দূতাবাসের সমন্বয়ে নেপালি চিকিৎসকদের জন্য একটি বৃহত্তর অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন বা শক্তিশালী প্ল্যাটফর্ম তৈরির লক্ষ্যেই এই মিলনমেলার আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে চিকিৎসকদের সঙ্গে সরাসরি মতবিনিময় করেন নেপালে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত। স্বাগত বক্তব্যে তিনি বাংলাদেশ ও নেপালের মধ্যে বিদ্যমান দীর্ঘস্থায়ী বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের কথা স্মরণ করেন।
তিনি বলেন, শিক্ষা, সংস্কৃতি এবং দুই দেশের মানুষের মধ্যকার নিবিড় যোগাযোগই এই সম্পর্কের মূল ভিত্তি। নেপালি সমাজ ও অর্থনীতিতে চিকিৎসকদের অবদানের প্রশংসা করে রাষ্ট্রদূত বলেন, একটি শক্তিশালী অ্যালামনাই নেটওয়ার্ক দুই দেশের পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধিতে সেতুবন্ধন হিসেবে কাজ করতে পারে যার সম্ভাবনা এখনও পুরোপুরি কাজে লাগানো হয়নি।
এই মিলনমেলায় ১৯৭০-এর দশক থেকে শুরু করে ২০২৫ সালে স্নাতক শেষ করা প্রায় ৮০ জন সিনিয়র ও জুনিয়র চিকিৎসক স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেন। তারা বাংলাদেশে কাটানো তাদের শিক্ষা জীবন, পেশাগত অভিজ্ঞতা এবং সাংস্কৃতিক স্মৃতির কথা আবেগপূর্ণভাবে স্মরণ করেন। প্রস্তাবিত অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন গঠন নিয়ে চিকিৎসকরা বিভিন্ন গঠনমূলক পরামর্শ দেন যা দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে আরও উচ্চতায় নিয়ে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

অনুষ্ঠান শেষে আমন্ত্রিত অতিথিদের জন্য ঐতিহ্যবাহী বাংলাদেশি খাবারের মাধ্যমে নৈশভোজের আয়োজন করা হয়। দূতাবাস কর্মকর্তারা চিকিৎসকদের এই স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণের জন্য ধন্যবাদ জানান এবং নেপাল-বাংলাদেশ শিক্ষা ও পেশাগত সহযোগিতা আরও জোরদার করার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন। এই উদ্যোগের মাধ্যমে নেপালি চিকিৎসকদের দীর্ঘদিনের দাবি ও বাংলাদেশে তাদের শেকড়ের টান এক নতুন প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পেতে যাচ্ছে।
আরটিভি/এআর