শনিবার, ২৩ মে ২০২৬ , ০৬:২৭ পিএম
জাপানে উচ্চশিক্ষার আগ্রহ বাড়ছে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের শিক্ষার্থীদের মধ্যে। তবে দেশটিতে পড়াশোনা করতে গেলে শুধু বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হলেই হয় না— পেরোতে হয় একাধিক প্রক্রিয়া। জাপান সরকার পরিচালিত ‘স্টাডি ইন জাপান’ পোর্টালের তথ্য অনুযায়ী, ভর্তি নিশ্চিত করা থেকে শুরু করে জাপানে আবাসন নিবন্ধন পর্যন্ত ধাপে ধাপে নির্দিষ্ট নিয়ম অনুসরণ করতে হয়।
যোগ্যতার সনদ
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নথিগুলোর একটি হলো যোগ্যতার সনদ (Certificate of Eligibility)। এটি প্রমাণ করে যে শিক্ষার্থী জাপানে দীর্ঘমেয়াদি পড়াশোনার জন্য নির্ধারিত অভিবাসন শর্ত পূরণ করেছে। সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী, শিক্ষার্থী বা তার জাপানে অবস্থানরত প্রতিনিধি আঞ্চলিক ইমিগ্রেশন সার্ভিস ব্যুরোর মাধ্যমে যোগ্যতার সনদের আবেদন করতে পারেন। অধিকাংশ ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীকে গ্রহণকারী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানই এই আবেদনপ্রক্রিয়ায় প্রতিনিধির ভূমিকা পালন করে।
আর্থিক সক্ষমতার প্রমাণ
জাপানে পড়তে যাওয়া শিক্ষার্থীদের নিজেদের আর্থিক সক্ষমতার প্রমাণ দেখাতে হয়। ‘স্টাডি ইন জাপান’ পোর্টালের তথ্য অনুযায়ী, শিক্ষার্থীদের ব্যাংক সঞ্চয়পত্র, আগের বছরের আয় সনদ এবং অর্থের উৎস–সংক্রান্ত নথি জমা দিতে হতে পারে। এসব নথি শিক্ষার্থী নিজে অথবা তাঁর আর্থিক অভিভাবকের নামে হতে পারে।
ভিসার জন্য যেসব কাগজপত্র লাগবে
যোগ্যতার সনদ পাওয়ার পর শিক্ষার্থীরা নিজ দেশের জাপানি দূতাবাস বা কনস্যুলেটে ভিসার আবেদন করতে পারবেন।
সরকারি নির্দেশনায় যেসব নথি উল্লেখ করা হয়েছে সেগুলো হলো—
– বৈধ পাসপোর্ট
– ভিসা আবেদন ফরম
– পাসপোর্ট সাইজের ছবি
– যোগ্যতার সনদ
– প্রয়োজনে অতিরিক্ত সহায়ক নথি
রেসিডেন্স কার্ড
তিন মাসের বেশি সময় জাপানে অবস্থানকারী আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের একটি রেসিডেন্স কার্ড বা ‘জাইরিউ কার্ড’ দেওয়া হয়। বড় বিমানবন্দর দিয়ে প্রবেশ করলে সাধারণত ইমিগ্রেশন ক্লিয়ারেন্সের সময়ই এই কার্ড দেওয়া হয়। ছোট বিমানবন্দর দিয়ে প্রবেশকারীরা পাসপোর্টে সিল পান এবং পরে স্থানীয় নিবন্ধন সম্পন্ন করার পর কার্ড সংগ্রহ করেন। আবাসিক ঠিকানা নির্ধারণের ১৪ দিনের মধ্যে স্থানীয় পৌর কার্যালয়ে গিয়ে নিবন্ধন করতে হয়। জাপানে অবস্থানের সময় এই কার্ড সঙ্গে রাখা বাধ্যতামূলক।
মাই নাম্বার (My Number)
জাপানে অবস্থানকারী বিদেশিদের একটি ১২ সংখ্যার সামাজিক নিরাপত্তা ও কর শনাক্তকরণ নম্বর দেওয়া হয়, যা ‘My Number’ নামে পরিচিত। স্থানীয় নিবন্ধনের পর এই নম্বর ইস্যু করা হয় এবং এটি প্রশাসনিক কাজ, ব্যাংকিং সেবা ও খণ্ডকালীন চাকরির নথিপত্রে ব্যবহৃত হয়।
ভর্তি পরীক্ষার জন্য আলাদা নিয়ম—
শুধু ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নিতে জাপানে যেতে চাইলে শিক্ষার্থীদের Temporary Visitor Visa-এর আবেদন করতে হবে। এ ক্ষেত্রে যে প্রতিষ্ঠানে পরীক্ষা দেবেন সেখান থেকে ইস্যুকৃত পরীক্ষার ভাউচার দেখাতে হবে। জাতীয়তা ও ভিসার ধরন অনুযায়ী অস্থায়ী দর্শনার্থীরা ১৫, ৩০ অথবা ৯০ দিন পর্যন্ত জাপানে অবস্থান করতে পারেন।
আরটিভি/এমএস/এমএইচজে