images

প্রবাস

সাইপ্রাসে বাংলাদেশি শিক্ষার্থী হত্যা, বেরিয়ে আসছে ভয়াবহ তথ্য

সোমবার, ২২ জুন ২০২৬ , ০৬:২১ পিএম

পূর্ব ভূমধ্যসাগরীয় দ্বীপরাষ্ট্র সাইপ্রাসে নিখোঁজ হওয়ার ৯ দিন পর বাংলাদেশি শিক্ষার্থী শাহরুয়ার আহমেদ ইমনের (২২) মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

এ হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে ২২ বছর বয়সি এক বিদেশি যুবককে গ্রেপ্তার করেছে সাইপ্রাস পুলিশ। পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, ১২ জুন নিখোঁজ হওয়ার রাতেই ইমনকে হত্যা করা হয়েছিল।

নিহত শাহরুয়ার আহমেদ ইমন নরসিংদীর রায়পুরা থানার বাখর নগর এলাকার নাসির মিয়ার ছেলে। তিনি সাইপ্রাসের লারনাকা জেলার ওরোক্লিনি এলাকায় বসবাস করতেন।

পুলিশ জানায়, জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার সন্দেহভাজন ব্যক্তি একটি স্থানীয় কসাইখানার কাছাকাছি নির্দিষ্ট স্থানে মরদেহের অবস্থান জানান। পরে সেখানে অভিযান চালিয়ে মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
 
তদন্ত সূত্রে জানা গেছে, গত ১২ জুন সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে ইমন ওরোকলিনিতে তার বাসা থেকে বের হন। তিনি বন্ধুদের জানান, কোফিনোর একটি কারখানায় প্রথম কর্মদিবসে যোগ দিতে যাচ্ছেন।

ওইদিন রাতেই তিনি মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে এক বন্ধুকে নিজের লোকেশন পাঠান এবং গ্রিসে অবস্থানরত তার বাবার কাছে সাহায্য চেয়ে একটি বার্তা পাঠান। তারপর থেকেই তার ফোন বন্ধ হয়ে যায় এবং সব ধরনের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।
 
গ্রেপ্তারের দুই দিন আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মুক্তিপণের বার্তা ছড়িয়ে পড়ে। সেখানে প্রথমে ১০ হাজার ইউরো এবং পরদিন আরও ২৫ হাজার ইউরো দাবি করা হয়। একই সঙ্গে হুমকি দেয়া হয়, পুলিশকে জানানো হলে পরিবারের সদস্যরা আর কখনও ইমনের মুখ দেখতে পারবেন না।
 
ইমন নিখোঁজ হওয়ার পর তার বাবা সাইপ্রাস ও গ্রিস কর্তৃপক্ষের কাছে সাহায্য চান। নিখোঁজের পরদিন থেকেই অজ্ঞাত ব্যক্তিরা ইমনের ফোন ব্যবহার করে তার বাবার সঙ্গে যোগাযোগ করে মুক্তিপণ দাবি করে।
 
তদন্তকারী কর্মকর্তারা জানান, হত্যাকারী মূলত অপহরণের নাটক সাজিয়ে অর্থ আদায়ের চেষ্টা করছিল। ইমনের মোবাইল ফোনের সর্বশেষ সিগন্যাল কোফিনু এলাকায় শনাক্ত করার পর স্থানীয় পুলিশ, সিআইডি এবং গোয়েন্দা দল সিসিটিভি ফুটেজ ও বাস রুট ধরে তল্লাশি শুরু করে।
 
পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তারকৃত ২২ বছর বয়সি অভিযুক্ত যুবক হত্যাকাণ্ডের কথা স্বীকার করেছে। তার দেয়া তথ্য অনুযায়ী, হত্যায় ব্যবহৃত অস্ত্র এবং ইমনের ব্যক্তিগত সামগ্রী উদ্ধার করা হয়েছে।

তদন্তে জানা যায়, কিছুদিন আগে একটি বাসে ভ্রমণের সময় ইমনের সঙ্গে অভিযুক্ত যুবকের পরিচয় হয়। অভিযুক্তের দাবি, ‘ওই সময় ইমন তাকে অপমান করেছিলেন এবং সেই প্রতিশোধ নিতেই এই হত্যাকাণ্ড।’
 
তবে পুলিশ মনে করছে, হত্যাকাণ্ডের মূল উদ্দেশ্য ছিল পূর্বপরিকল্পিতভাবে অর্থ আদায় করা। ঘটনার দিন চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে ইমনকে ওরেক্লিনি এলাকা থেকে কৌশলে গাড়িতে তুলে কোফিনু এলাকায় নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানেই তাকে হত্যা করে একটি অগভীর গর্ত খুঁড়ে লাশ মাটিচাপা দেওয়া হয়।
 
বর্তমানে ইমনের উদ্ধারের স্থানটি ঘিরে রেখেছে সাইপ্রাস পুলিশের ফরেনসিক বিভাগ এবং তদন্তের জন্য আলামত সংগ্রহ করা হচ্ছে। ঘটনার পেছনে অন্য কোনো চক্র বা উদ্দেশ্য রয়েছে কি না, তা উদঘাটনে স্থানীয় প্রশাসন ও গোয়েন্দা পুলিশের তদন্ত চলছে।
 
তথ্যসূত্র: ফিলি নিউজ

আরটিভি/এসএস