বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬ , ০৩:২৯ পিএম
প্রবাসীদের জন্য সম্পত্তি মালিকানার নতুন বিধিমালা অনুমোদন করেছে সৌদি আরব সরকার। এর ফলে মক্কা, মদিনা, রিয়াদ, জেদ্দা ও আল-উলাসহ নির্দিষ্ট কয়েকটি এলাকায় জমি ও স্থাবর সম্পত্তি কিনতে পারবেন বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশের নাগরিকরা।
সৌদির বিনিয়োগ পরিবেশকে আরও প্রতিযোগিতামূলক করা এবং বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করাই এই উদ্যোগের প্রধান লক্ষ্য। গত ২৩ জুন বাদশাহ সালমান বিন আবদুল আজিজের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত অনুমোদন করা হয়।
সৌদির বাণিজ্যমন্ত্রী মাজিদ আল-কাসাবি বলেছেন, নতুন বিধিমালা কোম্পানিগুলোর ব্যবসা সম্প্রসারণ এবং প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়াতে সহায়তা করবে। একই সঙ্গে এটি আন্তর্জাতিক দক্ষ জনশক্তি আকর্ষণের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
সৌদির সাধারণ রিয়েল এস্টেট কর্তৃপক্ষ এরই মধ্যে বিদেশিদের জন্য অনুমোদিত ভৌগোলিক এলাকার তালিকা প্রকাশ করেছে। সে অনুযায়ী, মক্কায় বিদেশিরা আবরাজ মক্কা, আল-মানার, বুর্জ আজইয়াদ, কিং সালমান গেট, তিলাল ভিলেজ, জাবাল ওমর, ধাখির মক্কা, দাহিয়াত সুমু, মাসার এবং মক্কা জোন-১ ও জোন-২ এলাকায় সম্পত্তি কিনতে পারবেন।
সেইসঙ্গে মদিনায় অনুমোদিত এলাকার মধ্যে রয়েছে আল-ঘুররা, মদিনা জোন-১ ও জোন-২, আল-মাহওয়া, দারাত আল-হিজরা, ডাউনটাউন মদিনা, দিয়ার আল-মাকার, রুয়া আল-মদিনা, নলেজ ইকোনমিক সিটি এবং মিশরাফ।
ডেলয়েট মিডল ইস্টের রিয়েল এস্টেট প্রধান অলিভার মরগান বলেন, ‘মক্কা ও মদিনায় সুযোগগুলো বৈশ্বিক মুসলিম সম্প্রদায়ের কাছে বিশেষভাবে আকর্ষণীয় হবে। ফলে, গুরুত্বপূর্ণ আবাসিক প্রকল্পগুলোর চাহিদা বাড়বে।’
বিদেশিদের জন্য রাজধানী রিয়াদ ও জেদ্দাতেও জমিজমা ও সম্পত্তি কেনার সুযোগ করে দিয়েছে সৌদি কর্তৃপক্ষ। এর মধ্যে রিয়াদে কিদ্দিয়া, নিউ মুরাব্বা, স্পোর্টস বুলেভার্ড, আর্টস ডিস্ট্রিক্ট, দিরিয়াহ গেট, কিং সালমান পার্ক, সিদরা, কিং আবদুল্লাহ ফিন্যান্সিয়াল ডিস্ট্রিক্ট, কিং সালমান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এলাকা এবং ট্রানজিট ওরিয়েন্টেড ডেভেলপমেন্ট এলাকায় সম্পত্তি কিনতে পারবেন বিদেশিরা। আর জেদ্দায় শহরের কেন্দ্রীয় অঞ্চল এবং উন্নয়ন জোন-১ থেকে জোন-৫৫ পর্যন্ত এলাকায় বিদেশিদের সম্পত্তি মালিকানার সুযোগ দেওয়া হয়েছে। সেইসঙ্গে আল-উলায় জোন-১ থেকে জোন-১৭ পর্যন্ত এলাকাও এই তালিকায় রয়েছে।
নতুন বিধিমালার আওতায় সৌদির কয়েকটি বড় প্রকল্প এলাকাও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে নিওম, আমালা, রেড সি প্রকল্প, জাজান বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল, রাস আল-খাইর এবং কিং আবদুল্লাহ ইকোনমিক সিটি।
সৌদি আরবের বিনিয়োগমন্ত্রী ফাহাদ বিন আবদুলজলিল আল-সাইফ বলেছেন, নতুন নিয়ম বিদেশি কোম্পানিগুলোকে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ পরিকল্পনা ও ব্যবসা সম্প্রসারণে আরও স্বচ্ছ ও সুস্পষ্ট কাঠামো দেবে।
বিশ্লেষকদের মতে, নতুন নীতির ফলে সৌদির রিয়েল এস্টেট খাতে বিদেশি বিনিয়োগ বাড়বে। স্টেক প্রপার্টিজের সহপ্রতিষ্ঠাতা মানার মাহমাসানি বলেন, বিদেশি বিনিয়োগকারীরা এখন স্পষ্টভাবে জানতে পারবেন কোথায় সম্পত্তি কেনা যাবে।
তিনি বলেন, রিয়াদ, জেদ্দা ও আল-উলার এসব এলাকা দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের জন্য এরই মধ্যে বিনিয়োগকারীদের নজরে রয়েছে।
সৌদির ভিশন ২০৩০ কর্মসূচির অংশ হিসেবে দেশটির রিয়েল এস্টেট খাত দ্রুত সম্প্রসারিত হচ্ছে। বাজার গবেষণা প্রতিষ্ঠান আইএমএআরসি গ্রুপের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে সৌদির রিয়েল এস্টেট বাজারের আকার প্রায় ৭৭ বিলিয়ন ডলার। ২০৩৪ সালের মধ্যে তা বেড়ে ১৪১ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে।
আরটিভি/এসএইচএম