images

প্রবাস

মিশরের গ্র্যান্ড মুফতির সঙ্গে বাংলাদেশি ইমামদের বৈঠক

বুধবার, ০১ জুলাই ২০২৬ , ০৬:১১ পিএম

বাংলাদেশ ও মিশরের মধ্যে ধর্মীয় শিক্ষা, গবেষণা ও জ্ঞানচর্চার সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করার লক্ষ্যে বিখ্যাত আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ে ইমাম প্রশিক্ষণে অংশ নিতে আসা বাংলাদেশি একটি প্রতিনিধি দল মিশরের গ্র্যান্ড মুফতি ও দারুল ইফতা মিশরের প্রধান ড. নাজির মুহাম্মদ আইয়াদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন।

সোমবার (২৯ জুন) কায়রোতে দারুল ইফতা আল-মিসরিয়ার কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে বাংলাদেশি প্রতিনিধি দলকে স্বাগত জানিয়ে মিশরের গ্র্যান্ড মুফতি বলেন, বাংলাদেশ ও মিশরের মধ্যে দীর্ঘদিনের ধর্মীয়, সাংস্কৃতিক ও জ্ঞানভিত্তিক সম্পর্ক রয়েছে। এ ধরনের প্রশিক্ষণ ও সফর দুই দেশের আলেম সমাজের মধ্যে অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং ইসলামি জ্ঞানচর্চার ক্ষেত্রে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করবে।

তিনি ইফতা শিক্ষা, ফতোয়া গবেষণা এবং মুফতিদের প্রশিক্ষণ কার্যক্রমে পারস্পরিক সহযোগিতা আরও জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

আরও পড়ুন
22

ইতালিতে ৩ বাংলাদেশিকে হত্যা, বেরিয়ে এল চাঞ্চল্যকর তথ্য

ড. নাজির মুহাম্মদ আইয়াদ বলেন, দারুল ইফতা মিসর মুফতিদের যুগোপযোগী ও দায়িত্বশীলভাবে গড়ে তুলতে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে। প্রতিষ্ঠানটির প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে পরিচালিত বিশেষায়িত কোর্সে শরিয়াহ জ্ঞান, আরবি ভাষা, সমকালীন বাস্তবতা এবং আধুনিক বিশ্বের বিভিন্ন বিষয়ে প্রয়োজনীয় জ্ঞান প্রদান করা হয়।

তিনি বলেন, একজন যোগ্য মুফতির জন্য শুধু ধর্মীয় জ্ঞান অর্জনই যথেষ্ট নয়; বরং সমাজের বাস্তবতা, মানুষের জীবনব্যবস্থা এবং পরিবর্তনশীল পরিস্থিতি সম্পর্কে গভীর উপলব্ধি থাকা প্রয়োজন। এর মাধ্যমেই সময়োপযোগী, ভারসাম্যপূর্ণ ও দায়িত্বশীল ফতোয়া দেওয়া সম্ভব।

বাংলাদেশি ইমামদের উদ্দেশে মিশরের গ্র্যান্ড মুফতি বলেন, নিজ নিজ দেশে ইসলামের শান্তি, সহনশীলতা, মানবিকতা ও মধ্যপন্থার আদর্শ তুলে ধরতে হবে। ফতোয়া প্রদানের ক্ষেত্রে গভীর গবেষণা, সতর্কতা, আত্মশুদ্ধি এবং বিভিন্ন ইসলামী মতামতের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।

তিনি আরও বলেন, মানুষের জন্য সহজতা সৃষ্টি, অযথা কঠোরতা পরিহার এবং বাস্তবতার আলোকে শরিয়াহর নির্দেশনা উপস্থাপন করা একজন মুফতির গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব।

আরও পড়ুন
9

ইতালিতে তিন বাংলাদেশি খুন, সন্দেহভাজন খুনি সম্পর্কে যা জানা গেল

বৈঠকে বাংলাদেশি প্রতিনিধি দলের সদস্যরা আল-আজহার শরিফ ও দারুল ইফতা মিসরের জ্ঞানচর্চা, গবেষণা ও প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের প্রশংসা করেন। তারা বাংলাদেশের ইসলামি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে সমকালীন ফতোয়া গবেষণা ও প্রশিক্ষণ কার্যক্রম সম্প্রসারণে মিশরের অভিজ্ঞতা কাজে লাগানোর আগ্রহ প্রকাশ করেন।

সাক্ষাৎ শেষে ঢাকাস্থ দারুল আরকাম আল-ইসলামিয়ার সিনিয়র মুহাদ্দিস মুফতি নুরুল্লাহ বলেন, মিশরের গ্র্যান্ড মুফতি ড. নাজির মুহাম্মদ আইয়াদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত এ বৈঠক অত্যন্ত ফলপ্রসূ হয়েছে। বাংলাদেশ ও মিশরের মধ্যে ধর্মীয় শিক্ষা, দাওয়াহ ও ফতোয়া গবেষণায় সহযোগিতা বৃদ্ধির বিষয়টি আলোচনায় বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে।

তিনি জানান, আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক মুআদালাকৃত দারুল আরকাম আল-ইসলামিয়া মাদ্রাসায় সমসাময়িক ফতোয়া বিভাগ চালুর প্রস্তাব নিয়েও আলোচনা হয়েছে। এ বিষয়ে মিশরের গ্র্যান্ড মুফতি মূল্যবান পরামর্শ ও দিকনির্দেশনা দিয়েছেন।

মুফতি নুরুল্লাহ বলেন, এ সাক্ষাৎ বাংলাদেশ ও মিশরের ধর্মীয় শিক্ষা ও গবেষণার সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করবে এবং ভবিষ্যতে পারস্পরিক সহযোগিতার নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে।

বাংলাদেশি প্রতিনিধি দলের সদস্যদের মধ্যে ছিলেন— ইসলামী আন্তর্জাতিক বিশ্ববিদ্যালয় চট্টগ্রামের প্রভাষক মাওলানা জোহায়ের ফুরকান, দারুল মাআরিফ আল-ইসলামিয়া চট্টগ্রামের সিনিয়র শিক্ষক মোহাম্মদ নুর মাজহার আনোয়ারী, দারুল আরকাম আল-ইসলামিয়া উত্তরা’র শিক্ষক মাওলানা হাফিজ শিব্বির আহমেদ, খিলক্ষেত জামে মসজিদের খতিব মাওলানা হাফিজ সাইফুল্লাহ বিন জাফর এবং বনানী সেন্ট্রাল জামে মসজিদের খতিব মাওলানা দেলোয়ার হোসেন।

আরটিভি/এমএম